‘জন্মের পর থেকে কখনো অভাব জিনিসটা বুঝিনি। যে জমিদার বাড়িতে শতাধিক কর্মচারী নিয়োজিত থাকত, সেই বাড়িতে এখন শুধুই অভাব-অনটন।’ কথাগুলো রাউজানের ডাবুয়া এলাকার এক সময়ের বিখ্যাত রামধন জমিদারের নাতনি ছবি ধরের। তিনি বলেন, ‘আমার ঠাকুরদা রামধন ছিলেন জমিদার। তিনি মারা যাওয়ার পর জমিদারির হাল ধরেন বাবা কেশব চন্দ্র ধর। বাবা ১৯৫৫ সালের ৬ জুন মারা যান। বাবা যতদিন ছিলেন ততদিন জমিদারি ছিল। ধীরে ধীরে সব হারিয়ে গেছে।’ ‘কষ্টের এদিন দেখতে হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। কীভাবে যে কী হয়ে গেল!’ যোগ করেন বৃদ্ধা ছবি ধর। সমপ্রতি রামগতি রামধন জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, অপূর্ব কারুকাজের বিশাল ভবনটি এখন জীর্ণশীর্ণ। গেট থেকে শুরু করে ভবনের দেয়ালগুলোর পরতে পরতে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। ইতিহাস ও ঐতিহের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবন এলাকাবাসীর কাছে ‘ধরের বাড়ি’ নামে পরিচিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাউজানের বিভিন্ন স্থানে বৃটিশ আমলে জমিদারদের বিচরণ ছিল। তাঁদের মধ্যে একজন রামধন জমিদার। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে তাঁর ছিল বিপুল পরিমাণ জায়গা-জমি। প্রচার আছে, তাঁদের ছিল রুপার থালা, বালতি, চায়ের কেটিলসহ বিপুল স্বর্ণালংকার। প্রজাদের কাছ থেকে আদায় করা খাজনার একটি বড় অংশ জমিদার ব্যয় করতেন নিজেদের বিলাসিতায়। রাউজান উপজেলার ডাবুয়া এলাকার শাসনভার ছিল রামধন জমিদারের কাছে। এলাকার লোকজন জমির খাজনা দিতে ব্যর্থ হলে ওই জমির মালিক হতেন জমিদার। আর সেই সুযোগ কাজে লগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত রামধন ভবন। ভবনের আশপাশে খনন করা হয় পুকুর ও দিঘি। বাড়ির সামনে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন তোরণ, কাছারি ঘর, জমিদারের আনন্দমহল, নাচখানা ও শিব মন্দির। নানা সমস্যার মাঝে আজও টিকে আছে ডাবুয়ার জমিদার বাড়ি। প্রতিষ্ঠিত মন্দির, দিঘি এখনো জমিদারের স্মৃতি বহন করে চলেছে। সরেজমিন দেখা যায়, ভবনের কিছু অংশ সংস্কার করে রামধরের নাতি-নাতনিসহ কয়েকজন বংশধর বসবাস করছেন। তাঁদের আর্থিক অবস্থা তেমন একটা ভালো না। লেগেই আছে অভাব-অনটন। তবে জমিদার রামধন ও রামগতি ধরের বংশধরের মধ্যে অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ভারতে, চট্টগ্রাম নগর ও রাজধানীতে বসবাস করেন বলে জানা গেছে। তাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো। তাঁরা দুর্গাপূজা কিংবা পরিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এখানে আসেন। ডাবুয়া জগন্নাথ হাট, ডাবুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, চিকদাইর পুলিশ ফাঁড়িসহ রাউজান আর আর এসি মডেল হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রয়েছে ওই জমিদার বংশের। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন ‘জমিরদার বাড়িটি এলাকার ইতিহাসের সাক্ষী।’