• ই-পেপার

ফুলগাজীতে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশি মদ-ইয়াবাসহ আটক ১

তিস্তা মহাপরিকল্পনা

তিস্তাপারে আলোর মিছিল, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত

পাঁচ জেলায় পালিত হলো কর্মসূচি  দ্রুত একনেকে অনুমোদন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
তিস্তাপারে আলোর মিছিল, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত
ছবি: কালের কণ্ঠ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকে অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তিস্তা নদীর দুই তীরের পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করা  হয়েছে। 

জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয়ের ঘোষণা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার (১জুলাই) রাতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে-রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ শেষে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজারের আলীবাবা থিম পার্কসংলগ্ন তিস্তাপারে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী। 

তিনি বলেন, ‘চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেই এই সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আমরা এ ঘোষণাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা নতুন আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়।

অধ্যক্ষ নজরুল বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি নদীভাঙন রোধ, তিস্তার দুই তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি উৎপাদন ও সেচ সম্প্রসারণ, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।

পরিষদ সভাপতি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়নই হবে তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।’ তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ আজ আলোর মিছিলে অংশ নিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেকে  অনুমোদন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছে।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী শেখ রেজওয়ান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান,ববিউল ইসলাম,স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন,  আমরা আশা করেছিলাম মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং একনেকে অনুমোদন দেওয়া হবে। যদিও সেটি এখনো হয়নি, তবু চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা তিস্তাপারের মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। এখন তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাই।

পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন-এই স্লোগানকে সামনে রেখে পুরো জুন মাসজুড়ে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ ও মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানান  বক্তারা।

এদিকে, একই দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আউলিয়ার বাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নুর দুলাল ও মাহমুদ আলম এবং কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল ইসলাম, পারভিন আক্তার, ওমর ফারুক ও মোনায়েম সরকার।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ও বানপাড়া তিস্তাপারের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, শৈলমারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান এবং কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পাশা এলিচ ও জাহাঙ্গীর রহমান। 

এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট তিস্তা তীর এবং উলিপুর উপজেলার হোকোডাঙার তিস্তাপারেও পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশা সঞ্চার করেছে। সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত একনেকে অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।’

শফিয়ার রহমান বলেন, আগামী দিনে রংপুর অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেক অনুমোদন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা; অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন এবং দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ।  

এ ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিস্তা বন্ড চালু ও বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্পে বিনিয়োগ; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক সমবায় ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দাবি করা হয় সমাবেশে।

গোপালগঞ্জ বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবক
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় আলাউদ্দিন (২৮)নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মাজড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের ভাট্টাইধোপা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খানের ছেলে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে মাজড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন যুবক আলাউদ্দিন। এসময় দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন। এঘটনায় চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১‌ কো‌টি টাকার ওষুধ কি‌নে কিভাবে ৪‌ কো‌টির বিল করলেন সিভিল সার্জন

অনলাইন ডেস্ক
১‌ কো‌টি টাকার ওষুধ কি‌নে কিভাবে ৪‌ কো‌টির বিল করলেন সিভিল সার্জন
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। জুন ক্লোজিংয়ের আগে তাড়াহুড়ো করে এই বিপুল অঙ্কের বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেছেন। একইসঙ্গে সদর হাসপাতাল প‌রিদর্শন ক‌রেছেন তারা।

তদন্ত টি‌মের সদস্যরা হলেন—পার্বত্য জেলা প‌রিষ‌দের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জেলা প‌রিবার প‌রিকল্পনা বিভা‌গের উপপ‌রিচালক ডা. লেনিন তালুকদার, পার্বত্য জেলা প‌রিষ‌দের পি এস টু চেয়ারম্যান আবুল মনসুর, নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা এবং হিসাব ও নিরীক্ষণ কর্মকর্তা এম মুহিব্বুল হাসান। পরিদর্শনের সময় সি‌ভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী সেখা‌নে উপ‌স্থিত ছি‌লেন না।

পার্বত্য জেলা প‌রিষ‌দের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ব‌লেন, ‘বান্দরবান সদর হাসপাতা‌লের জন্য এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে চার কোটি উত্তোলনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তের জন্য পার্বত্য মন্ত্রণাল‌য়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নি‌র্দেশ দি‌য়ে‌ছেন। এটি তদন্ত ক‌রে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষ‌য়ে পার্বত্য জেলা প‌রিষদের চেয়ারম্যান আমা‌কে দা‌য়িত্ব দি‌য়ে‌ছেন। আমরা সি‌ভিল সার্জন‌কে জানি‌য়ে‌ছি আজ আমরা এখা‌নে এসে‌ছি আমা‌দের‌ সহ‌যো‌গিতা করার জন্য। আমরা তাকে বলেছি, এখা‌নে টেন্ডার পদ্ধ‌তি স‌ঠিক আছে কিনা, তা খ‌তি‌য়ে দেখবো এবং ওষুধসহ যেসব সামগ্রী আছে, তা স‌ঠিকভা‌বে কেনা হ‌য়ে‌ছে কিনা, তাও আমরা খতিয়ে দেখবো। কিন্তু সিভিল সার্জন সহযোগিতা করেননি, এমনকি এখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।’

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে পাঁচ সদ‌স্যের এ তদন্ত টিম গঠনের কথা জানানো হয়। এ সময় তদন্ত কাজে কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য সিভিল সার্জন‌কে অনুরোধ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে চার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

জেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতিসহ সরঞ্জাম সরবরাহের দরপত্রে চার কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির বিরুদ্ধে। হাসপাতালের ওষুধ, অক্সিজেন, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহের ছয়টি ভাগে চার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের গোপন রেট কোড পছন্দের ঠিকাদার‌কে সরবরাহ করে দরপত্রটি পাওয়ার জন্য এবং মালামাল সরবরাহের কাজগুলো বাগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছেন সিভিল সার্জনসহ দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। টেন্ডারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসএম নামে পাঁচটি এবং আলমগীর একটি কাজ বাগিয়ে নেন। প‌রে ১৩ জুন কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ মোতাবেক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা আছে।

ওষুধ সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে এক কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, পার্বত্য পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, বেন্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, লিলেন ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ফার্নিচার ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বিপরীতে মাত্র এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে বাকি তিন কোটি টাকা পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে উত্তোলন ক‌রে নেওয়া হয়। 

টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. সানাই ত্রিপুরা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. দেবরাজ বৈদ্য, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. উথেন ক্য, আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী, হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী। কমিটির সদস্য ও আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী দাবি করেন, ঠিকাদার মালামাল বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং তা রোগীদের দেওয়া হচ্ছে।

নড়াইল

চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার সেই প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

নড়াইল প্রতিনিধি
চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার সেই প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নড়াইলে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নির্যাতনের আট দিন পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া মামলায় বর্তমানে হত্যার ধারা যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

নিহত নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁচগ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন রাতে নড়াইলে মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ারকে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মারপিট করেন স্থানীয়রা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই মো.নবীর হোসেন। পরবর্তীতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালো বাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে নড়াইল জেলা  হাসপাতালে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা  জানতে পারেন, আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে ভর্তি রয়েছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারা রাত মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন তিনি।

এজাহার অনুযায়ী, ২৫ জুন সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক এএসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল  হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

আহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন জানান, তার ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ-এর মা জানান, ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন লোকটি। ছেলেটি চোর বলে ডাক দিলে স্থানীয় অনেক লোক ছুটে আসেন। কে বা কারা মেরেছে সেটি জানি না। সেখানে অনেক লোক ছিল। পরে আমার ছেলে প্রসেনজিৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। 

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় পূর্বেই একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি এখন হত্যার ধারায় যুক্ত হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’