দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে একটি অনিয়ন্ত্রিত দাবানল মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্পেন সীমান্তের কাছাকাছি ছোট শহর ও গ্রামগুলো থেকে প্রায় দশ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবারের (৬ জুলাই) তীব্র বাতাস পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’-এর তৃতীয় পর্বের রুটের কাছাকাছি এই দাবানলটি জ্বলছে। ফলে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো যাতে সহজে যাতায়াত করতে পারে, সেজন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ দর্শকদের জন্য এই পর্বের এলাকাটি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করা হয়নি; এটি চালু থাকলেও রেসের পেছনে থাকা দলগুলোর গাড়ির বহর একদম সীমিত বা ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে লাগা এই আগুনে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসক পিয়ের রেগনো দে লা মোথ। মে ও জুন মাসে ফ্রান্সসহ পশ্চিম ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে যাওয়ায় এ বছর অঞ্চলটি দাবানলের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগুনের কারণে স্পেনের প্রায় ২২০০ হেক্টর এলাকা ধ্বংস হয়েছে, যার ৯৭ শতাংশই ‘লেস গাভারেস’ নামের একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবস্থিত। তবে কাতালান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেনের অংশের আগুন বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং এই সপ্তাহের মধ্যেই তা পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
এই আগুন লাগানোর অভিযোগে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ একটি কম্পানির এক কর্মচারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাস্তার পাশে অসাবধানতাবশত ‘অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার’ (লোহা বা পাথর কাটার যন্ত্র) ব্যবহার করার সময় স্ফুলিঙ্গ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
এ ছাড়া, কাতালোনিয়ার দক্ষিণে কাস্তেলোন প্রদেশে আরেকটি ভিন্ন দাবানল ‘সিয়েরা দে এস্পাদান’ জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করায় সেখান থেকেও প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যানটি কর্ক ওক বনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল।





