• ই-পেপার

বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন হয়রানির উপাদান, মেটাকে তলব ভারত সরকারের

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্যর্থ, হরমুজে তাদের হস্তক্ষেপ করতে দেবে না ইরান

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্যর্থ, হরমুজে তাদের হস্তক্ষেপ করতে দেবে না ইরান
সংগৃহীত ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ তাদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, তেহরানে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের ফাঁকে চীন, বেলারুশ ও তুর্কমেনিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েইয়ের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ হতে দেবে না।’

তিনি জানান, ইরান কৌশলগত এই নৌপথ দিয়ে চীনা জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

আঞ্চলিক বিষয়ে ইরান ও চীনের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, আমরা আশা করি, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

গালিবাফ বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইরান-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতির কারণে তেহরান ও বেইজিংয়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয় এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের আঞ্চলিক প্রতিরোধ সক্ষমতা ভবিষ্যতে আরেকটি যুদ্ধ ঠেকাতে সক্ষম হবে, যদিও ইসরায়েল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভণ্ডুলের চেষ্টা করছে।

বৈঠকে হে ওয়েই আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে চীনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চীন ও ইরানের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। দুই দেশের সম্পর্ক আমরা আরও শক্তিশালী করতে চাই।

এদিকে বেলারুশের প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ারম্যান ইগর সেরগেইয়েঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ ইরানের প্রতি মিনস্কের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা রমজান যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। এখন সবাই বুঝতে পেরেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।

গালিবাফ বলেন, ইরান তাদের ‘প্রজ্ঞাবান, সাহসী নেতা এবং ইসলামী বিশ্বের আধ্যাত্মিক পিতাকে’ হারালেও সামরিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই বিজয়ী হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ঐক্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।

এসময় তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতার পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা যদি তাদের অঙ্গীকার রক্ষা না করে, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আবারও সমানুপাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

গালিবাফের দাবি, ওয়াশিংটন এখন বুঝতে পেরেছে যে সামরিকভাবে ইরানের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্রকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা সত্ত্বেও অভিযানে ব্যর্থতা এসেছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন না মোজতবা খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন না মোজতবা খামেনি
সংগৃহীত ছবি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত থাকবেন না তার ছেলে দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি এমন তথ্য দিয়েছেন। খবর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ওই প্রতিনিধি বলেছেন, মোজতবা খামেনিকে হত্যা করা হবে বলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারি) খামেনি নিহত হন। খামেনিকে প্রথমে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সাত দিন ধরে এ আনুষ্ঠানিকতা চলবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।

এদিকে খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে যেকোনো ধরনের মার্কিন-ইসরায়েলি দুরভিসন্ধির বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলী আবদোল্লাহি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আবদোল্লাহি বলেন, ‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী সরকারকে (ইসরায়েল) ভুল হিসাব-নিকাশ না করার জন্য সতর্ক করছি। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের জবাবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কঠোর প্রতিশোধ নেবে, সেটি তাদের মাথায় রাখা উচিত।’

আইআরজিসি কমান্ডার

ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না—শত্রুরা সেই স্বপ্ন কবরে নিয়ে যাবে

অনলাইন ডেস্ক
ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না—শত্রুরা সেই স্বপ্ন কবরে নিয়ে যাবে
সংগৃহীত ছবি

ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণ করতে দেখার যে স্বপ্ন শত্রুরা দেখছে, সেই স্বপ্ন তারা কবর পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইআরজিসির উপ-প্রধান বাহিদি এ মন্তব্য করেন।

খামেনির আদর্শ ও উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো শহীদ বিপ্লবী নেতার থেকে বিচ্ছিন্ন হব না। কারণ তিনি আমাদের হৃদয়, আত্মা ও অস্তিত্বের অংশ হয়ে আছেন।’

ইরানের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে আইআরজিসির এই কমান্ডার বলেন, ‘যারা আমাদের এই ভূখণ্ডকে সহ্য করতে পারে না, তারা জেনে রাখুক—আমাদের শহীদ নেতার পবিত্র রক্ত বিশ্বব্যাপী অবিশ্বাসের ওপর প্রিয় ইসলামের বিজয়ের এক নতুন মোড় তৈরি করবে।’

শেষে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জাতিকে আত্মসমর্পণ করতে দেখার স্বপ্ন আপনারা কবর পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে যাবেন। কারণ এই পবিত্র রক্তের আত্মত্যাগে আমাদের জাতি প্রতিদিন শক্তির আরো উচ্চ শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধের পর তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছানোর মধ্যেই বাহিদির এ বক্তব্য আসে। যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানের পর যুদ্ধবিরতি ও একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেষ হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা
ছবি : রয়টার্স

ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত এক মার্কিন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো এলাকায় অবতরণের পর মার্কিন পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হামলার পর তার বিমানেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র সেবি সামবোম দাবি করেন, বিমানটি নিয়মিত ইন্দোনেশিয়ার সেনাসদস্য পরিবহন করছিল এবং তাদের সতর্কবার্তা অমান্য করেছিল।

তিনি আরো বলেন, পাপুয়ার সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান না হওয়ায় এই হামলা ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি বার্তা।

পাপুয়ার সামরিক মুখপাত্র উইরিয়া আরতাদিগুনা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযান চলছে। বিমানের সাতজন পাপুয়ান যাত্রী নিরাপদে ফিরেছেন বলেও তিনি জানান।

পাপুয়ার পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্রোহীদের হামলা ঘন ঘন ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। নিহত পাইলট যে বিমানে ছিলেন, সেটি পিটি এএমএ নামে একটি বিমান সংস্থার মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটি পাপুয়ার দুর্গম এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও ডাক পরিবহন সেবা দিয়ে থাকে।