• ই-পেপার

বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন না মোজতবা খামেনি

বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন হয়রানির উপাদান, মেটাকে তলব ভারত সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন হয়রানির উপাদান, মেটাকে তলব ভারত সরকারের
সংগৃহীত ছবি

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ৩ ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন হয়রানির উপাদান থাকছে, এমন অভিযোগে উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। তারা বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ডেকে পাঠাচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে।

কীভাবে তাদের প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দেওয়া হলো এবং এ ধরনের কনটেন্ট বন্ধ করতে মেটা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা মেটার কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইবে সরকার।

বিবিসি এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, ইনস্টাগ্রাম ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান প্রচারকারী বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। বিবিসি জানায়, তারা সেখানে অত্যন্ত আপত্তিকর শিরোনামের কিছু বিজ্ঞাপন দেখেছে, যেগুলোর মধ্যে ’ধর্ষণ ভিডিও’, ‘শিশু ভিডিও’র মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই বিজ্ঞাপনগুলোর লিংক যুক্ত ছিল বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলের সাথে, যেখানে মাত্র ৯৯ টাকায় এসব কনটেন্ট কেনা যাচ্ছিল।

বিবিসি বিষয়টি জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রাম দাবি করে, এসব পোস্ট তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করেনি। তবে পরে মেটা বিবিসিকে জানায়, তারা এই ধরনের বেশ কিছু বিজ্ঞাপন নিষ্ক্রিয় করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো স্থগিত করেছে। একই সাথে নীতি লঙ্ঘনকারী ইউআরএলগুলোও ব্লক করা হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি মেটা ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপেরও মালিক প্রতিষ্ঠান। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মেটাকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নাম্বারের বদলে ‘ইউজারনেম’ ব্যবহারের ফিচারটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বলেছিল। এই ফিচারের বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল মেটাকে। সরকারের নোটিশে বলা হয়েছিল, ‘ধারণা করা হচ্ছে এই ফিচারের কারণে প্রতারক চক্র সহজেই সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে এবং মেসেজ পাঠাতে পারবে। ফলে অনলাইন জালিয়াতি, ফিশিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট স্ক্যাম এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধ অনেক বেড়ে যেতে পারে।’ 

নোটিশে আরো বলা হয়, ‘তাছাড়া এই ফিচারটি ব্যবহার করে আসল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ইউজারনেম তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্তৃপক্ষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলোর ছদ্মবেশ ধারণ বা পরিচয় জালিয়াতি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।’ মেটার পাশাপাশি টেলিগ্রাম এবং সিগন্যাল অ্যাপকেও একই ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
 

আইআরজিসি কমান্ডার

ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না—শত্রুরা সেই স্বপ্ন কবরে নিয়ে যাবে

অনলাইন ডেস্ক
ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না—শত্রুরা সেই স্বপ্ন কবরে নিয়ে যাবে
সংগৃহীত ছবি

ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণ করতে দেখার যে স্বপ্ন শত্রুরা দেখছে, সেই স্বপ্ন তারা কবর পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইআরজিসির উপ-প্রধান বাহিদি এ মন্তব্য করেন।

খামেনির আদর্শ ও উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো শহীদ বিপ্লবী নেতার থেকে বিচ্ছিন্ন হব না। কারণ তিনি আমাদের হৃদয়, আত্মা ও অস্তিত্বের অংশ হয়ে আছেন।’

ইরানের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে আইআরজিসির এই কমান্ডার বলেন, ‘যারা আমাদের এই ভূখণ্ডকে সহ্য করতে পারে না, তারা জেনে রাখুক—আমাদের শহীদ নেতার পবিত্র রক্ত বিশ্বব্যাপী অবিশ্বাসের ওপর প্রিয় ইসলামের বিজয়ের এক নতুন মোড় তৈরি করবে।’

শেষে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জাতিকে আত্মসমর্পণ করতে দেখার স্বপ্ন আপনারা কবর পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে যাবেন। কারণ এই পবিত্র রক্তের আত্মত্যাগে আমাদের জাতি প্রতিদিন শক্তির আরো উচ্চ শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধের পর তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছানোর মধ্যেই বাহিদির এ বক্তব্য আসে। যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানের পর যুদ্ধবিরতি ও একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেষ হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা
ছবি : রয়টার্স

ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত এক মার্কিন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো এলাকায় অবতরণের পর মার্কিন পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হামলার পর তার বিমানেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র সেবি সামবোম দাবি করেন, বিমানটি নিয়মিত ইন্দোনেশিয়ার সেনাসদস্য পরিবহন করছিল এবং তাদের সতর্কবার্তা অমান্য করেছিল।

তিনি আরো বলেন, পাপুয়ার সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান না হওয়ায় এই হামলা ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি বার্তা।

পাপুয়ার সামরিক মুখপাত্র উইরিয়া আরতাদিগুনা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযান চলছে। বিমানের সাতজন পাপুয়ান যাত্রী নিরাপদে ফিরেছেন বলেও তিনি জানান।

পাপুয়ার পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্রোহীদের হামলা ঘন ঘন ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। নিহত পাইলট যে বিমানে ছিলেন, সেটি পিটি এএমএ নামে একটি বিমান সংস্থার মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটি পাপুয়ার দুর্গম এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও ডাক পরিবহন সেবা দিয়ে থাকে।

পাকিস্তানে মানব ‘প্ল্যাসেন্টা’ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে মানব ‘প্ল্যাসেন্টা’ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
ছবি : রয়টার্স

বার্ধক্য ধীর করার ইনজেকশন তৈরির জন্য মানব প্ল্যাসেন্টা পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) জানিয়েছে, চক্রটি বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কেজি প্ল্যাসেন্টা সংগ্রহ করত। পরে সেগুলো শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠানো হতো।

প্ল্যাসেন্টা হলো গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী অঙ্গ, যা গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রসবের পর এটি শরীর থেকে বের হয়ে আসে এবং এর মূল কাজ শেষ হয়।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে পরিচালিত এক অভিযানে একটি অবৈধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ কেজি মানব প্ল্যাসেন্টা বলে সন্দেহ করা বস্তু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এফআইএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি বাড়ির ভেতরে ট্রলিতে শুকনো প্ল্যাসেন্টার ট্রে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। 

কর্মকর্তাদের মতে, বাড়িটিকে প্ল্যাসেন্টা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল। এ ছাড়া বুধবার ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে ভিয়েতনামগামী ১০০ কেজি মানবদেহের টিস্যুর একটি চালান জব্দ করা হয়েছে। পাকিস্তানের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হিনা কানওয়াল জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতিটি প্ল্যাসেন্টা প্রায় ৮০০ রুপিতে কিনত। 

এফআইএর দাবি, এসব প্ল্যাসেন্টা থেকে বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরি করে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা ছিল। প্রতিটি ইনজেকশনের মূল্য প্রায় ৭ লাখ রুপি হতে পারে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, চক্রটির কার্যক্রম শুধু ইসলামাবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল নেই, লাহোর, পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডিসহ আরো কয়েকটি বড় শহরেও তাদের নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মানব অঙ্গ সংগ্রহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) জানিয়েছে, তারা আগে অবৈধ মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও মানব প্ল্যাসেন্টা পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান এবারই প্রথম পেয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজন প্রথমে দাবি করেছিল, তারা ভেড়ার প্ল্যাসেন্টা নিয়ে কাজ করছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে এগুলো মানুষের প্ল্যাসেন্টা ছিল।

পাকিস্তানের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সাদাফ তারিক বলেন, প্ল্যাসেন্টা অত্যন্ত সংক্রামক চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এর সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত শিশুর জন্মের পর প্ল্যাসেন্টাকে চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়।

কেবল সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোই এ ধরনের বর্জ্য অপসারণ করতে পারে এবং এ বিষয়ে হাসপাতালগুলোকে বিস্তারিত রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হয়।

তবে কিছু মানুষের বিশ্বাস, প্রোটিন, আয়রন ও চর্বি সমৃদ্ধ প্ল্যাসেন্টা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও উপকারী হতে পারে। এ কারণে এটি ব্যবহার করে বড়ি ও ইনজেকশন তৈরি করা হয়, যা টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়ক বলে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত এবং বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে নিয়মকানুনও ভিন্ন।