দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থাইল্যান্ড ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) আকাশে একটি গোপন গোয়েন্দা অভিযানে নিখোঁজ হওয়া ২১ বছর বয়সী এক মার্কিন বিমানসেনার পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবন্দি ও নিখোঁজ সদস্যদের হিসাব সংরক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ওই বিমানসেনার নাম ফ্র্যাঙ্কলিন এইচ. ম্যাককিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমান বাহিনীর ১৪তম এয়ার ফোর্সের ৩৫তম ফটো রিকনেসান্স স্কোয়াড্রনের পাইলট ছিলেন। এই স্কোয়াড্রনের ডাকনাম ছিল ‘রেডহকস’। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৪ সালের ৫ নভেম্বর ম্যাককিনি চীনের ইউনান প্রদেশের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেন। তার কাজ ছিল বার্মা ও থাইল্যান্ডের আকাশে নজরদারি চালানো এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। তবে ওই মিশনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন বিমান বাহিনীর ইতিহাস অনুযায়ী, এই স্কোয়াড্রন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপন গোয়েন্দা অভিযানের জন্য পরিচিত ছিল, যা চীনে যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর থেকেই ম্যাককিনির উড়োজাহাজের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি আর কখনও ফিরে আসেননি। বিমান দুর্ঘটনার কোনো চিহ্নও তখন পাওয়া যায়নি। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তার মরদেহও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত আমেরিকান সামরিক সমাধিক্ষেত্রে নিখোঁজদের স্মৃতিফলকে তার নাম খোদাই করা হয়।
বহু বছর পর ম্যাককিনির খোঁজে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তে থাইল্যান্ডের রয়্যাল থাই এয়ার ফোর্স জাদুঘরের একটি যুদ্ধকালীন প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ ছিল, ম্যাককিনি নিখোঁজ হওয়ার দিন একটি বিমান বজ্রপাতের শিকার হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিমানটি বিস্ফোরণের পর থাইল্যান্ডের লামপাং প্রদেশের একটি বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। এর ভিত্তিতে ২০১৮ সালে গবেষকদের একটি দল এলাকাটিতে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি ধানক্ষেতের পাশে বিমান বিধ্বস্তের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে। পরে সেটিকে ম্যাককিনির উড়োজাহাজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২১ সালে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে আবারও তদন্ত চালায়। এরপর ২০২২ সালে একটি উদ্ধারকারী দল খনন অভিযান চালায় এবং সেখানে মানুষের মরদেহের কিছু অংশের সম্ভাব্য চিহ্ন পাওয়া যায়। পরীক্ষার জন্য এসব নমুনা ল্যাবে পাঠানো হলে আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, এগুলো ফ্র্যাঙ্কলিন এইচ. ম্যাককিনির মরদেহেরই অংশ।
ম্যাককিনির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নিখোঁজদের স্মৃতিফলকে তার নামের পাশে একটি গোলাপ চিহ্ন যুক্ত করা হবে এবং তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।






