• ই-পেপার

ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ শেষ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গোপন সূত্র প্রকাশে অস্বীকৃতি, মার্কিন সাংবাদিককে দৈনিক ৮০০ ডলার জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
গোপন সূত্র প্রকাশে অস্বীকৃতি, মার্কিন সাংবাদিককে দৈনিক ৮০০ ডলার জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক ফক্স নিউজ সাংবাদিক ক্যাথরিন হেরিজের জরুরি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে তিনি যদি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার গোপন তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ না করেন, তাহলে তাকে প্রতিদিন ৮০০ ডলার করে জরিমানা দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত দেয়। এর ফলে হেরিজের বিরুদ্ধে আগে দেওয়া জরিমানার আদেশ কার্যকর হওয়ার পথ খুলে গেল। ক্যাথরিন হেরিজ দীর্ঘদিন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত। ২০১৭ সালে তিনি ফক্স নিউজে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এসব প্রতিবেদনে চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী ইয়ানপিং চেনের সঙ্গে চীনের সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিবেদনগুলোতে আরো বলা হয়, ভার্জিনিয়ায় চেন প্রতিষ্ঠিত একটি পেশাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে তিনি চীনা সরকারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করছিলেন কি না, তা তদন্ত করছে এফবিআই। তবে দীর্ঘ তদন্তের পরও ইয়ানপিং চেনের বিরুদ্ধে কখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। পরে চেন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ, তদন্ত-সংক্রান্ত গোপন নথি ফাঁস হওয়ার কারণে সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচার শুরু হয়। এতে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি ঘৃণামূলক চিঠি এবং প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন বলে দাবি করেন। চেনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেসি আইন লঙ্ঘন করে তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যায় না।

মামলার শুনানিতে চেনের আইনজীবীরা দাবি করেন, হেরিজের প্রতিবেদনে এমন কিছু তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা তদন্ত-সংক্রান্ত গোপন নথি থেকে ফাঁস হয়েছিল। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল এফবিআইয়ের একটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ, চেনের ব্যক্তিগত ছবি, অভিবাসন ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথির তথ্য এবং এফবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ একটি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার তথ্য। এই তথ্য কে ফাঁস করেছিলেন, তা জানতেই আদালত হেরিজকে তার তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশের নির্দেশ দেয়। ওয়াশিংটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দেন, নিজের মামলা পরিচালনার জন্য তথ্য ফাঁসকারীর পরিচয় জানা চেনের অধিকার, সাংবাদিকের তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার অধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হেরিজ শপথ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেন। তবে তিনি তার কোনো গোপন তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর আদালত তাকে দেওয়ানি আদালত অবমাননার দায়ে দোষী ঘোষণা করে। পাশাপাশি নির্দেশ দেয়, তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ না করা পর্যন্ত তাকে প্রতিদিন ৮০০ ডলার করে জরিমানা দিতে হবে। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন হেরিজ। আপিল আদালতও আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করেন। এর আগে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সাময়িকভাবে জরিমানার আদেশ স্থগিত করেছিলেন, যাতে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, সেই স্থগিতাদেশ আর বহাল রাখা হবে না। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ জরিমানা স্থগিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতি সেই মত সমর্থন করেননি। 

আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ মিডিয়া। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সাংবাদিকদের গোপন তথ্যদাতার পরিচয় রক্ষা করা এবং সংবাদ সংগ্রহের প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা একটি স্বাধীন ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের এই সিদ্ধান্তে তারা গভীরভাবে হতাশ। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হেরিজের আইনজীবীরা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের আশঙ্কা, সাংবাদিকদের যদি গোপন তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশে বাধ্য করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য প্রকাশে আগ্রহী অনেক মানুষ সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিতে ভয় পাবেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেসের সভাপতি ব্রুস ব্রাউন বলেন, সংবিধানে দেওয়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আদালতে লড়াই করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়। তিনি আরো বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশে বাধ্য করা হলে জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে চেনের আইনজীবীদের দাবি, তথ্য ফাঁসকারীর পরিচয় জানার জন্য তারা অন্য সব সম্ভাব্য উপায় ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সফল হননি। তাদের মতে, প্রাইভেসি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণ করতে তথ্য ফাঁসকারীর পরিচয় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেনের আইনজীবী অ্যান্ড্রু ফিলিপস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে মামলার নিষ্পত্তির পথ আরো সহজ হবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি বলেন, ড. ইয়ানপিং চেনও অন্য সব মার্কিন নাগরিকের মতো সেই সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় জানার অধিকার রাখেন, যিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করেছেন। এমন বেআইনি ও অনৈতিক কাজ ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রাইভেসি আইন করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, ক্যাথরিন হেরিজ আগে ফক্স নিউজ ও সিবিএস নিউজে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন।
 

খামেনির জানাজায় ২ কোটির অধিক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় ২ কোটির অধিক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ২ কোটিরও বেশি মানুষ তেহরানে আসতে পারেন বলে গেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজধানী তেহরানের প্রায় এক কোটি বাসিন্দার পাশাপাশি আরও ১ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে।

এদিকে সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। তাদের তথ্যমতে, রাজধানী তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বহু-দিনব্যাপী এই গণ বিদায় অনুষ্ঠানে রেকর্ড সংখ্যক—প্রায় ২ কোটি পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন নিহত হন। ওই হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

৪ জুলাই তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজার কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ৭ জুলাই কুমে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র নগরী ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহে ইরানের বিভিন্ন শহরে তার ছবি সংবলিত পোস্টার ও বিশাল বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে
ছবি : রয়টার্স

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিনটি কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া ঠিক সেই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’ (আইআরআইবি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, একটি অঘোষিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ নেতা খামেনির মরদেহটি ঠিক সেই স্থানেই আনা হয়েছে, যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

এদিকে সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। তাদের তথ্য মতে, রাজধানী তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বহু-দিনব্যাপী এই গণবিদায় অনুষ্ঠানে রেকর্ডসংখ্যক—প্রায় ২ কোটি পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে জানানো হয়, জাতিসংঘের মহাসচিব ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির শাহাদাতবরণে শোক প্রকাশের পাশাপাশি তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, লেবাননের যুদ্ধবিরতি এবং চলমান নানান আলোচনা নিয়ে কথা বলেন।

খামেনির স্মরণে ঘানায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকেও বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে তেহরানে তৎকালীন ঘানার রাষ্ট্রপতি জন ড্রামানি মাহামা ও আয়াতুল্লাহ খামেনির মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের কথা স্মরণ করে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এক্সের একটি পোস্টে দূতাবাস উল্লেখ করেছে, তৎকালীন বৈঠকে খামেনি কোনো তেল চুক্তি বা বাণিজ্য স্মারককিপি নিয়ে কথা বলেননি; বরং আফ্রিকায় কী ঘটছে—তা নিয়েই তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন, জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন, জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আট দিন পর এক নিরাপত্তারক্ষীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দিনের এই কঠিন উদ্ধার অভিযানকে অনেকেই আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। তার বয়স ৪৩ বছর। গত ২৪ জুন উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিং সেন্টার ধসে পড়ার পর থেকেই তিনি ভবনের বেইসমেন্টে আটকা ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ধুলাবালিতে ঢাকা অবস্থায় তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। উদ্ধারকর্মীরা তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অক্সিজেন মাস্ক পরা ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা হাততালি দিয়ে এবং উল্লাস করে এই সফল উদ্ধার অভিযান উদ্‌যাপন করেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, গত সপ্তাহান্তে প্রথমবারের মতো তারা গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এরপর তাকে নিরাপদে বের করে আনতে টানা ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করেন তারা। উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়া ভবনের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে আটকে পড়া ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে হয়েছে। এ সময় অত্যন্ত অস্থিতিশীল কাঠামো, মুষলধারে বৃষ্টি এবং একটানা আফটারশক উদ্ধারকাজকে আরো কঠিন করে তোলে।

গিল ফ্লোরেসকে উদ্ধার করার পর বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল আনন্দ প্রকাশ করে। স্ট্রেচার বহন করা চিলির এক উদ্ধারকর্মী মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কোস্টারিকার রেড ক্রসের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। অনেকেই হাততালি দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের অভিনন্দন জানান। কোস্টারিকার রেড ক্রসের উদ্ধারকর্মী মিনিয়ার কোলিয়াদো বলেন, প্রথমবার গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তিনি জীবিত আছেন—এ কথা যেন তার স্ত্রীকে না জানানো হয়। কারণ, শেষ পর্যন্ত যদি তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরিবার আরো বেশি কষ্ট পাবে। তবে কোলিয়াদো বলেন, উদ্ধারকারী দল শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কোনো অবস্থাতেই তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচে ফেলে রাখা হবে না। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় নিয়মিত গিল ফ্লোরেসের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে পেরেছেন। সাধারণভাবে কোনো দুর্যোগে আটকে পড়া ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে আট দিন পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা বিরল ঘটনা।

গিল ফ্লোরেস ওই শপিং সেন্টারে রাতের শিফটের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। প্রথম ভূমিকম্পের সময় তিনি নিজের ছোট নিরাপত্তাকক্ষে ছিলেন। ভবনের বড় অংশ ধসে পড়লেও তার কক্ষটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি। এতে তিনি ধ্বংসস্তূপের চাপ থেকে রক্ষা পান এবং সেখানে পর্যাপ্ত বাতাসও ছিল। কোস্টারিকার রেড ক্রসের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল প্রথম তার জীবিত থাকার লক্ষণ শনাক্ত করে। পরে রবিবার তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। গিল ফ্লোরেসের স্ত্রী গুসবিমার গনসালেস বলেন, কয়েক দিন ধরে তিনি স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা জানালেন যে তিনি জীবিত আছেন, তখন নতুন করে আশা ফিরে পান। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের বয়স আট ও দশ বছর।

চিলির দমকল বাহিনীর নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীদল পুরো অভিযান পরিচালনা করে। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারীদল দিন-রাত কাজ করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস এই সফল উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, একটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানবতার সবচেয়ে সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। তিনি দেশি-বিদেশি সব উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানান। উদ্ধারকাজে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা একটি দূরনিয়ন্ত্রিত লম্বা ক্যামেরার মাধ্যমে সারাক্ষণ গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। অভিযানের শেষ তিন দিনে একটি সরু ছিদ্র দিয়ে তাকে পানি ও তরল পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এতে তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়নি। চিলির অভিজ্ঞ দমকলকর্মী মারিয়া পাস কাম্পোস পুরো সময় গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে কথা বলে তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন। বিশেষ করে উদ্ধারের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তিনি তাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করেন। উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সময় কাটানোর জন্য গিল ফ্লোরেস ছবি আঁকছেন। পরে মারিয়া পাস কাম্পোস তাকে সুরক্ষার চশমা পরে থাকতে বলেন, যাতে ওপর থেকে পড়া ধুলাবালি বা কংক্রিটের ছোট টুকরো তার চোখে না লাগে।

উল্লেখ্য যে, ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া (ডাবলেট) ভূমিকম্পে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত, ১১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি আহত এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গেছে। এতে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি (৭ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কয়েক হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অগভীর কেন্দ্রে হওয়া এই ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী কম্পনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণে দেশটিতে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য, যেখানে আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস।