বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে ধীরগতি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি চাকরি পাওয়া অনেকের কাছেই বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সম্প্রতি এক চাকরিপ্রার্থীর হাস্যকর অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে, যেখানে তিনি চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ই-মেইলের মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব বাতিলের খবর পান।
এই ঘটনার কথা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। পোস্টের শিরোনামে তিনি লেখেন, 'চাকরির প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু আমি তো ইতিমধ্যেই কাজ করছি।' সেখানে তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রেডিটে করা পোস্টে ওই ব্যক্তি জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে শুক্রবার তিনি একটি চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দেন। তার মতে, সাক্ষাৎকারটি ভালো হয়েছিল। এরপর সোমবার তাকে একটি দক্ষতা পরীক্ষা দিতে ডাকা হয়। সেই সময়েই তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকেই কাজ শুরু করতে পারবেন।
তিনি কোনো দ্বিধা না করে রাজি হয়ে যান। কারণ চাকরিটি তার কাছে ভালো লেগেছিল। এরপর তিনি মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার- এই তিন দিন অফিসে কাজ করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি একটি ই-মেইল পান। ই-মেইলের বিষয় ছিল- 'চাকরির প্রস্তাব বাতিল।'
ই-মেইলে লেখা ছিল, আরো বিবেচনার পর সোমবার দেওয়া চাকরির প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে। তবে সেখানে এটাও বলা হয়, এটি চাকরি থেকে বরখাস্ত নয়, বরং শুধু চাকরির প্রস্তাব বাতিল। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তিনি নাকি ওই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি। ই-মেইলে তার প্রাপ্য বেতন পাঠানোর জন্য তার ঠিকানাও চাওয়া হয়। এই বার্তা পেয়ে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, তিনি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন এবং ইতিমধ্যেই অফিসে কাজও শুরু করেছিলেন। তার দাবি, তিনি কোম্পানির বেতন তালিকাতেও ছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন পাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তার ভাষায়, প্রতিষ্ঠানটি খুবই ছোট, যেখানে মালিকসহ মাত্র একজন বা দুইজন কর্মী আছেন। তাই এটি কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা ভুল হওয়ার সুযোগ কম বলেই তিনি মনে করেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বিভিন্ন মতামত দেন। একজন মন্তব্য করেন, এটি সম্ভবত কোনো ভুল হতে পারে, অথবা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন ই-মেইল চলে গেছে। আরেকজন পরামর্শ দেন, তার উচিত ছিল পরের দিন অফিসে গিয়ে বিষয়টি সরাসরি জিজ্ঞেস করা। তৃতীয় একজন বলেন, বিষয়টি আগে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে নিশ্চিত করা দরকার ছিল, বিশেষ করে যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি ছোট এবং সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব। চতুর্থ একজন মন্তব্য করেন, এমনও হতে পারে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাগজপত্র বন্ধ করার সময় ভুলভাবে এই বাতিলের বার্তা চলে গেছে। তবে ই-মেইলে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি আরো জটিল মনে হচ্ছে।





