প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছে আজারবাইজান। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য 'গভীর উদ্বেগের' বিষয়। একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
রবিবার (২৮ জুন) ইসরায়েল সরকার ঘোষণা দেয়, ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক তুরস্কের প্রতি ইসরায়েলের একটি রাজনৈতিক বার্তা বা জবাব হিসেবে দেখছেন। কারণ, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তুরস্ক নিয়মিত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলছে। যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছে।
আজারবাইজান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। তবে আজারবাইজানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ তুরস্ক। তাই ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজারবাইজানের অস্বস্তি প্রকাশ্যেই সামনে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের মধ্যে পুনর্মিলন বা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করবে না। বরং অতীতের বিভাজন আরো গভীর করে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আজারবাইজান ইসরায়েল সরকারকে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই আর্মেনিয়া আন্তর্জাতিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। দেশটির দাবি, ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনীয় নিহত হন। তাদের মতে, এটি ছিল পরিকল্পিত গণহত্যা। তবে তুরস্ক এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘাত, দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতায় আর্মেনীয় ও তুর্কি- উভয় পক্ষেরই কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। তাই ঘটনাটিকে গণহত্যা বলা সঠিক নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিশ্বের দুই ডজনের বেশি দেশ এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এতদিন ইসরায়েলের সরকারগুলো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল। কারণ, তারা তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছিল। এক সময় তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল।
এদিকে, কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলছে। আজারবাইজানের এই অঞ্চলটি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।





