• ই-পেপার

বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানে মার্কিন পাল্টা হামলা

পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা

অনলাইন ডেস্ক
পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, ইরান একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা করেছে। সেই হামলার জবাব দিতেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে। নতুন এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সময়ে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বাহিনী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর যে হামলা চালিয়েছে, তার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের ওই হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেন্টকম আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরই তারা পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর শহর সিরিকের তাহেরুইয়েহ জেটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রতিবেদকের বরাত দিয়ে তারা এ তথ্য জানায়। পরে একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে টেলিভিশনটি জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কারণেই ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভাঙার জন্য এটি একটি 'বোকামিপূর্ণ' পদক্ষেপ।

নতুন এই পাল্টাপাল্টি হামলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যুদ্ধবিরতি বজায় রেখেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কীভাবে স্বাভাবিক রাখা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশ বা বের হতে না পারে। তবে এখনো জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর মধ্যে কিছু জাহাজ এমন একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে, যা ইরানের অনুমোদিত নয়। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা ৪২টি জাহাজের প্রায় অর্ধেক ওমান উপকূলের কাছের একটি দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ ব্যবহার করেছে। ইরানের অনুমোদন ছাড়া এই পথ ব্যবহার করা হয়েছে। 

জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার আগে তারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিরোধের কারণে আটকে পড়া ১১৫টি জাহাজ এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল। তবে নতুন হামলার পর সেই উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এত উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রধান এই জলপথে জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হবে।

এদিকে নিজেদের সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নতুন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। দুই দেশই এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এর বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এই চুক্তি বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে। ওয়াশিংটনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা চুক্তিতে সই করেন। রুবিও বলেন, এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি কেবল শুরু। সামনে আরো অনেক কাজ বাকি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু নতুন চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, লেবাননের বিষয়ে ইরানের কোনো ভূমিকা নেই।

নেতানিয়াহু আরো বলেন, এই চুক্তির ফলে লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের দুটি পরীক্ষামূলক এলাকায় আবার মোতায়েন হতে পারবে। তবে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা তাদের নিরাপত্তা এলাকায় অবস্থান করবে। এ কারণে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষকে এখনই সেখানে ফিরতে দেওয়া হবে না। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই চুক্তিকে সাধারণ মানুষের নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার পথে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পুরো এলাকা লেবানন রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সেখানে কোনো দখল, বন্দিত্ব বা বাইরের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা। তার দাবি, লেবাননের সংকট বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সমাধান হওয়া উচিত। তিনি আরো সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে সরকার এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যতে যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে কঠোর পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুই দেশের আলোচনার সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর পরিদর্শকদের আবার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।

রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে শুধু এমন ঘোষণা যথেষ্ট নয়। এটি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত আইএইএ ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা কেবল শুরু করতে পেরেছে।

অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে কম সমৃদ্ধ মাত্রায় নামিয়ে আনতে হবে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল, যার সমৃদ্ধির মাত্রা ছিল ৬০ শতাংশ।
 

‘পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা নাই করে, তবে কিসে করবে?’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা নাই করে, তবে কিসে করবে?’

‘পাসপোর্ট একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট মাত্র, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত আইনী প্রমাণ নয়’ বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন ঘোষণায় রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের রাজনীতিবিদে থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবারই প্রশ্ন, পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা নাই করে, তাহলে কিসে করবে? ভারতের ১৬টি রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই পাসপোর্ট নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে এলো।

শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চেয়েছেন, ‘পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের নথি না-হয়, তবে এটি দেওয়ার আগে পুলিশ আবেদনকারীর ঠিকানা খতিয়ে দেখে কেন?’

তিনি বলেন, ‘এত কিছু যাচাইয়ের পর দেওয়া পাসপোর্টই যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয়দের অবস্থান ও পাসপোর্টের মর্যাদা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবে।’

বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার জাভেদ আখতার ‘এক্স’(সাবেক টুটার)-এ লিখেছেন, ‘তাহলে কি ধরে নিতে হবে, সরকার এমন লোকদেরও পাসপোর্ট দিয়েছে বা দিচ্ছে, যারা নাগরিক নন? কিংবা যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সরকার নিশ্চিত নয়?’

বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তা হলে কোন নথি দেখালে নাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারব? এর পর আমার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আমি ভোটাধিকার হারাতে পারি। এর ফলে বিজেপি নির্বাচনে জিতে যাবে।’ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সমালোচনা আরো তীব্র,‘এটাই মনে হচ্ছে যে, নাগরিকত্ব প্রমাণের উপায় হচ্ছে হিন্দু এবং বিজেপির ভোটার হতে হবে।’

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘পাসপোর্ট নিয়ে সরকারের ঘোষণা জনসাধারণের মধ্যে একটি অনুমানযোগ্য বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ঢেউ তুলেছে।’

বিতর্ক সৃষ্টির পর কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র ভারতের ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘পাসপোর্ট যে নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তা গতকাল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনকি নরেন্দ্র মোদি সরকারের গত ১২ বছরেও এটি ঠিক করা হয়নি। পাসপোর্ট কখনই নাগরিকত্বের প্রমাণ ছিল না।’ পাসপোর্ট আইনের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে ভারতের নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিকেও পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হতে পারে। তবে সরকারের এ ব্যাখ্যায়ও সন্তুষ্ট নন শশী থারুর, ‘এটি একটি অর্থহীন পার্থক্য, যা সাধারণ নাগরিকের কাছে নিরর্থক।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে পাসপোর্টকে পরিচয়ের সেরা প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা একটি পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং নথিপত্র যাচাইকরণের কঠিন আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধা পার করি, ঠিক এই কারণেই যে রাষ্ট্র এটি দেওয়ার আগে নাগরিকত্বের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাবি করে। এখন ঘুরে গিয়ে এটি ঘোষণা করা যে, এই কঠোর যাচাই-বাছাই থেকে তৈরি হওয়া নথিটি আসলে নাগরিকত্ব প্রমাণ করে না—একটি অদ্ভুত আইনি অমিল তৈরি করে।’

‘পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা নাই করে, তবে কিসে করবে’ প্রশ্ন রাখেন থারুর। তিনি আইনি কাঠামো সংশোধন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন পাসপোর্ট এবং আধার কার্ড উভয়কেই ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ ও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যতক্ষণ না সেগুলো রাষ্ট্র দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল বা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০
সংগৃহীত ছবি

ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে এক শতকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে বহু ভবন ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। 

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে ধীরগতির উদ্ধারকাজের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই ও দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ শুক্রবার (২৬ জুন) জানান, সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জন হয়েছে।

এর আগে ডেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আহত হওয়ার তথ্য দেন। শুক্রবার ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা স্টেট পরিদর্শনকালে তিনি জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছালেও মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

রদ্রিগেজ আরো বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ধারকারী দল জীবিতদের সন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও পানিও বিতরণ করছে ক্ষতিগ্রস্তদের।
হাজারো মানুষ নিখোঁজ হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করে তাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করে উদ্ধার কর্মীরা প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, এটা আমাদের আনন্দ দেয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যাদের মধ্যে শুধু কারাকাসেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ রয়েছে। 

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস বলেছেন, মানুষ এখনো তাদের বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।

এদিকে বুধবারের এ ভয়াবহ ভূমিকম্প নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে ধাক্কা, বিধ্বস্ত ছোট উড়োজাহাজ

অনলাইন ডেস্ক
বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে ধাক্কা, বিধ্বস্ত ছোট উড়োজাহাজ
সংগৃহীত ছবি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন সিআইটিআইসি টাওয়ারে ধাক্কা খেয়ে একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ৫২৮ মিটার উঁচু এ ভবনটিতে আঘাত হানে উড়োজাহাজটি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়তে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। মাটিতে উড়োজাহাজের পেছনের অংশ এবং একটি ট্যাক্সিক্যাবের ভাঙা জানালাও দেখা গেছে।

ঘটনার পর ভবনের ভেতরে থাকা লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানান, বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে জরুরিভাবে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, পরিচয়পত্র বা ব্যাগ নেওয়ারও সুযোগ পাননি, দ্রুত দৌড়ে বের হয়ে আসতে হয়েছে।

পাশের একটি ভবনের আরেক কর্মী জানান, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান।

দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে কতজন আরোহী ছিলেন, কোথা থেকে এটি উড্ডয়ন করেছিল এবং কীভাবে ভবনে আঘাত হানল, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

সিএনএন জানায়, অনলাইনে পাওয়া উড়োজাহাজটির নিবন্ধনসংক্রান্ত ছবিতে দেখা গেছে, এটি চীনে তৈরি একটি হালকা উড়োজাহাজ, যা একটি স্থানীয় সাধারণ বিমান চলাচল প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন।

এদিকে অনলাইনে প্রকাশিত ফ্লাইটরাডার২৪ এর যাচাই না করা তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন পথ অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি দুই আসনের একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট হালকা উড়োজাহাজ।

২০১৮ সালের শেষ দিকে নির্মিত সিআইটিআইসি টাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সদর দপ্তর। ৫২৮ মিটার উচ্চতার এই ভবনটি বর্তমানে বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা।