• ই-পেপার

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০

হরমুজে জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানে মার্কিন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানে মার্কিন হামলা
সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ‘বোকামিপূর্ণভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলার পর শুক্রবার এই হামলা চালানো হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, পাশাপাশি উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, এটি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো ড্রোন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব’।

এই ঘটনার কারণে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) হামলাকারী ড্রোন একটি কার্গো জাহাজে আঘাত হানে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

হামলার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে কি না, তা দেখতেই পাবেন।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর আগ্রাসন যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ইরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলেও দাবি করে তারা।

মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা সমন্বয় ও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে। পরে ১৭ জুন উভয় দেশ ১৪ দফা সমঝোতায় সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এখন আবার শঙ্কায় এ পথ।

বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে ধাক্কা, বিধ্বস্ত ছোট উড়োজাহাজ

অনলাইন ডেস্ক
বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে ধাক্কা, বিধ্বস্ত ছোট উড়োজাহাজ
সংগৃহীত ছবি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন সিআইটিআইসি টাওয়ারে ধাক্কা খেয়ে একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ৫২৮ মিটার উঁচু এ ভবনটিতে আঘাত হানে উড়োজাহাজটি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়তে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। মাটিতে উড়োজাহাজের পেছনের অংশ এবং একটি ট্যাক্সিক্যাবের ভাঙা জানালাও দেখা গেছে।

ঘটনার পর ভবনের ভেতরে থাকা লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানান, বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে জরুরিভাবে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, পরিচয়পত্র বা ব্যাগ নেওয়ারও সুযোগ পাননি, দ্রুত দৌড়ে বের হয়ে আসতে হয়েছে।

পাশের একটি ভবনের আরেক কর্মী জানান, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান।

দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে কতজন আরোহী ছিলেন, কোথা থেকে এটি উড্ডয়ন করেছিল এবং কীভাবে ভবনে আঘাত হানল, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

সিএনএন জানায়, অনলাইনে পাওয়া উড়োজাহাজটির নিবন্ধনসংক্রান্ত ছবিতে দেখা গেছে, এটি চীনে তৈরি একটি হালকা উড়োজাহাজ, যা একটি স্থানীয় সাধারণ বিমান চলাচল প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন।

এদিকে অনলাইনে প্রকাশিত ফ্লাইটরাডার২৪ এর যাচাই না করা তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন পথ অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি দুই আসনের একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট হালকা উড়োজাহাজ।

২০১৮ সালের শেষ দিকে নির্মিত সিআইটিআইসি টাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সদর দপ্তর। ৫২৮ মিটার উচ্চতার এই ভবনটি বর্তমানে বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা।

ইবোলা প্রাদুর্ভাব : ৩ দেশের নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণ নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
ইবোলা প্রাদুর্ভাব : ৩ দেশের নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণ নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিন দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ভিসা প্রদান এবং সৌদিতে প্রবেশও স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান থেকে অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে (ভায়া) আসা ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগে ২১ দিনের মধ্যে ওই তিনটি দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

সৌদি আরবের পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দেশটির স্বাস্থ্য নজরদারি ও মহামারি মোকাবিলা ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়া দেশগুলোর প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্যও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান-প্রক্রিয়া আরো উন্নত করা হয়েছে।

ওয়াকায়া জানিয়েছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইবোলা-সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা রোগী শনাক্ত হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

ভেনিজুয়েলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৯, প্রিয়জনদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ছে স্থানীয়রা

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৯, প্রিয়জনদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ছে স্থানীয়রা
ছবি : এপি

ভেনিজুয়েলার শহরগুলোতে পরপর দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ জন এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছে। এরই মাঝে প্রতিবেশীরা প্রিয়জনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়তে একে অপরকে সাহায্য করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। খবর এপি

উদ্ধারকারী দলগুলোকে স্বাগত জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছালেও মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

রদ্রিগেজ আরো বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জীবিতদের সন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও পানিও বিতরণ করছে ক্ষতিগ্রস্তদের।

হাজারো মানুষ নিখোঁজ হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করে তাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করে উদ্ধার কর্মীরা প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, এটা আমাদের আনন্দ দেয়। 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যাদের মধ্যে শুধু কারাকাসেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ রয়েছে। 

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস বলেছেন, মানুষ এখনো তাদের বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।

এদিকে বুধবারের এ ভয়াবহ ভূমিকম্প নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।