বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সৌদি আরবের আবাসন ও সম্পত্তি বাজার আরো উন্মুক্ত করার পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। বিদেশিদের রিয়েল এস্টেট মালিকানাসংক্রান্ত নতুন নির্বাহী বিধিমালা অনুমোদন করেছে সৌদি মন্ত্রিসভা। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির মন্ত্রিসভা ‘অ-সৌদিদের রিয়েল এস্টেট মালিকানা আইন’-এর নির্বাহী বিধিমালা অনুমোদন করে। নতুন এই বিধিমালায় কোন কোন ভৌগোলিক এলাকায় বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পত্তির মালিক হতে পারবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশটির আবাসন খাতকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০-এর অংশ।
গত জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নতুন আইনের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাহী বিধিমালা অনুমোদন করা হলো। ওই আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তির মালিক হতে পারবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিদেশিরা আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি ও শিল্প খাতের সম্পত্তি কিনতে পারবেন।
এ ছাড়া সৌদি আরবে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন পাওয়া বিদেশি কম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী জমি ও ভবনের মালিক হতে পারবে। এর মধ্যে অফিস, কারখানা, গুদামসহ ব্যবসায়িক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সৌদি সরকারের এ সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণ এবং রিয়েল এস্টেট খাতে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।
তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটন, প্রযুক্তি, শিল্প ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানার সুযোগ বৃদ্ধি দেশটির রিয়েল এস্টেট বাজারে নতুন গতি আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানো।
দেশটিতে বর্তমানে বড় ধরনের নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প চলছে। তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রিয়াদ।
নতুন বিধিমালা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ সম্পত্তি বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরো স্পষ্ট নীতিগত কাঠামো তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





