• ই-পেপার

কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকার পর প্রথম ভারত সফরে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী

নেহরুকে ছাড়িয়ে ভারতের দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোদি

অনলাইন ডেস্ক
নেহরুকে ছাড়িয়ে ভারতের দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোদি
ছবি : সংগৃহীত।

নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর রেকর্ড ভেঙে ভারতের ইতিহাসে টানা মেয়াদে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

টানা চার হাজার ৩৯৯ দিন ক্ষমতায় থাকার মাধ্যমে মোদি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ উপলক্ষে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার নেতৃত্ব ও জনসেবার প্রশংসা করেছেন।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন, এই অর্জন দেশের প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘ বছরের সেবা ও অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। তিনি মোদির নেতৃত্ব এবং ভারতের উন্নয়নে তার অবদানেরও প্রশংসা করেন। গোর বলেন, ‘এই অর্জনটি তার কয়েক দশকের নিবেদিত জনসেবা এবং নেতৃত্বের এক শক্তিশালী প্রমাণ।’ 

মার্কিন সিনেটর জন করনিনও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার মেয়াদকে যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন। করনিন লিখেছেন, ‘ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। টানা তিনটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ম্যান্ডেটের মাধ্যমে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করে তিনি চার হাজার ৩৯৯ দিনের এই নেতৃত্বের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা থেকে শুরু করে ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত করা পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামল ছিল সত্যিই রূপান্তরধর্মী। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত অংশীদারিত্বও এর আগে কখনও এত শক্তিশালী ছিল না।’

এদিকে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন।’

আনোয়ার ইব্রাহিম আরো বলেন, ‘এই অর্জন ভারতের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে তার দীর্ঘদিনের নিবেদিত জনসেবা ও নেতৃত্বের প্রমাণ।’

তিনি জানান, মালয়েশিয়া ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রত্যাশা করে। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির অব্যাহত সাফল্য এবং ভারতের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির এই নতুন রেকর্ড উপলক্ষে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা থেকেও শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে। অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এক্সে লিখেছেন, ‘ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। শ্রীলঙ্কা আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বকে মূল্য দেয় এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করে।’

কেনিয়ায় ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গুলিতে নিহত ১

অনলাইন ডেস্ক
কেনিয়ায় ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গুলিতে নিহত ১
ছবি : রয়টার্স

কেনিয়ার নানিয়ুকি শহরে ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে তিনি মারা যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই নিয়ে গত এক সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে মোট ৩ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারালেন।

মঙ্গলবার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে নানিয়ুকি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোঁড়ে। এএফপি-র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে গুলির শব্দ শুনেছেন এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। অন্যদিকে রয়টার্সের সাংবাদিকরা একটি পুলিশের গাড়ির পেছনে ওই ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিক্ষোভকারীরা কেনিয়ার পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ইবোলা লেখা একটি প্রতীকী কফিন নিয়ে নিকটবর্তী একটি সামরিক ঘাঁটির দিকে এগোচ্ছিলেন। সেখানে মার্কিন সহায়তায় চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানাচ্ছিলেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্ষোভকারী প্রিসিলা ইমানি বলেন, লাইকিপিয়া কোনো আবর্জনা ফেলার স্থান নয়। আমাদের কথা সরকারকে শুনতেই হবে। এই কেন্দ্রের কারণে পুরো এলাকার মানুষ আতঙ্কে আছে।

প্রস্তাবিত এই ৫০ শয্যার আইসোলেশন কেন্দ্রটিতে মার্কিন চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত আমেরিকানদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এটি তৈরি করা হচ্ছে। কঙ্গোর বুনিয়া শহর থেকে নানিয়ুকির দূরত্ব প্রায় ৭৮০ কিলোমিটার। কঙ্গোতে ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০০ জন মারা গেছেন। তবে কেনিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কঙ্গোর নিকটবর্তী অবস্থান এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই কেনিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটো এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়া অমানবিক হতো। তিনি বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। একটি মানবাধিকার সংস্থার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে কেনিয়ার হাইকোর্ট জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। তবে আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিমানঘাঁটিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে বিবিসির স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে।

সূত্র : বিবিসি

আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

অনলাইন ডেস্ক
আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ছবি : রয়টার্স।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের তিনটি প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বুধবার এ খবর জানিয়েছেন। এ বছর শত শত প্রাণহানির পর সংঘাতটি এবার নতুন মোড় নিল।

মুজাহিদ আরো জানান, ইসলামাবাদের এই হামলায় আরো অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের সবাই শিশু ও নারী। পাকিস্তান আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত এবং পাক্তিকা প্রদেশে বেসামরিক বাড়ি-ঘরে বোমা হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ এমন সব জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যেগুলোকে তারা ‘সশস্ত্র যোদ্ধাদের আস্তানা ও অন্যান্য স্থাপনা’ বলে অভিহিত করেছেন। এগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, কাবুল এমন যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলার ষড়যন্ত্র করছে। তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, পাকিস্তানে এসব ঘটনা একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। একসময়ের মিত্র এই দুই দেশ বর্তমানে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্চ মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এ সময় চীন দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করে সংঘাতের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল।

নিরাপদ থাকতে চাইলে অঞ্চল ছাড়ুন—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
নিরাপদ থাকতে চাইলে অঞ্চল ছাড়ুন—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন হামলার জবাব দেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ‘আমাদের পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে’।

এক্সে একটি পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় সত্ত্বেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান। পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগতদের ভয়াবহ পরিণতির অনেক অধ্যায় রয়েছে।’

২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই আরাগচির এই বিবৃতিটি এসেছে। যুদ্ধটি চলতি বছরের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। 

পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর কথিত হুমকির জবাবে ইরানের স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং অন্যান্য ঘটনা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল (১০ জুন) পর্যন্ত, সর্বশেষ মার্কিন পদক্ষেপের পর ইরানের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যায়নি। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা নানা বাধার মুখে পড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের পদক্ষেপকে আত্মরক্ষা ও সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশসহ অন্যান্য পক্ষ জড়িয়ে পড়লে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ইরানের সমর্থকেরা এই পদক্ষেপকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকরা ক্ষয়ক্ষতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের খবর উল্লেখ করে সরকারের দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।


 

কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকার পর প্রথম ভারত সফরে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী | কালের কণ্ঠ