পৃথিবী থেকে অনেক ওপরে মহাকাশে অবস্থানরত একটি মহাকাশযান থেকে দক্ষিণ মেরুর আলো বা ‘সাউদার্ন লাইটস’-এর দৃষ্টিনন্দন একটি টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন নাসার নভোচারী জেসিকা মেইর। পরে তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বর্তমানে জেসিকা মেইর স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি মহাকাশ মিশনে কাজ করছেন। সপ্তাহান্তে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা অবস্থায় তিনি এই বিরল ও অসাধারণ আলোর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন।
ভিডিও প্রকাশের পর জেসিকা মেইর জানান, প্রকৃতির এই অসাধারণ আলোর খেলা তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, এর আগে তিনি অনেকবার 'অরোরা' বা মেরু অঞ্চলের আলো দেখেছেন, কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন।
তিনি বলেন, সবুজ রঙের উজ্জ্বল আলোর রেখাগুলো যেন আকাশজুড়ে নাচছিল। সেগুলো বাঁক নিতে নিতে মহাকাশযানের ঠিক নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছিল। এমন দৃশ্য দেখে তিনি বিস্মিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
দক্ষিণ মেরুর এই আলোকচ্ছটাকে ‘অরোরা অস্ট্রালিস’ নামেও পরিচিত। সম্প্রতি সূর্য থেকে ছুটে আসা শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাবে পৃথিবীর আকাশে এই আলোর সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্য নিয়মিতভাবে মহাকাশে বিপুল পরিমাণ চার্জযুক্ত কণা ছুড়ে দেয়। এসব কণা পৃথিবীর দিকে এলে গ্রহটির চৌম্বক ক্ষেত্র সেগুলোকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে পরিচালিত করে।
পরে কণাগুলো পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এর ফলে গ্যাসগুলো জ্বলে ওঠে এবং আকাশজুড়ে সবুজ, লাল বা বেগুনি রঙের চলমান আলোর পর্দার মতো এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি হয়।
উত্তর ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অনেক অঞ্চলে নর্দার্ন লাইটস বা উত্তর মেরুর আলো প্রায়ই দেখা যায়। তবে দক্ষিণ মেরুর আলো দেখা তুলনামূলকভাবে অনেক কঠিন।
কারণ, অরোরা অস্ট্রালিস সাধারণত অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বিশাল সমুদ্র অঞ্চলের আকাশে দেখা যায়। এসব এলাকায় মানুষের বসবাস খুবই সীমিত। ফলে পৃথিবীর মাটি থেকে এই দৃশ্য দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়।
অন্যদিকে মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে এ ধরনের বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা অনায়াসেই দেখতে পারেন। ভিডিও ধারণের সময় স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলটি প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার মাইল বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছিল।
জেসিকা মেইরের প্রকাশিত ভিডিওটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের এক অনন্য সৌন্দর্য নতুনভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।




