• ই-পেপার

গাজাবাসী টিকে আছে টিনজাত খাবার খেয়ে, সীমান্তে পচছে তাজা খাদ্য

গরমেও ইউরোপে এসির ব্যবহার কম কেন?

অনলাইন ডেস্ক
গরমেও ইউরোপে এসির ব্যবহার কম কেন?

ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। রেকর্ড ভাঙা উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কোটি কোটি মানুষ চরম গরমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগও খুব কম। 

ইউরোপের বেশিরভাগ বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনার) নেই বললেই চলে। ফলে অনেক মানুষ বৈদ্যুতিক পাখা, বরফের প্যাকেট এবং ঠান্ডা পানিতে গোসলের মাধ্যমে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় ইউরোপের পদ্ধতি ঐতিহ্যগতভাবে বেশি গরম আবহাওয়ার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে, কিন্তু ইউরোপে এই হার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র গরমের সময় ইউরোপের মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরো তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে এবং প্রতি বছরই তা আগেভাগে শুরু হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ধনী ইউরোপীয় দেশগুলো কেন এখনো ব্যাপকভাবে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে অনীহা দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং প্রতি বছর গরমজনিত কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবুও ইউরোপের অনেক দেশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে প্রাণঘাতী তাপদাহের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তেমন প্রয়োজন ছিল না। অতীতেও তাপপ্রবাহ দেখা দিত, তবে তা খুব কমই।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার জ্বালানি দক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তর বিভাগের প্রধান ব্রায়ান মাদারওয়ে বলেন, ‘ইউরোপে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের কোনো শক্তিশালী ঐতিহ্য নেই, কারণ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, তখন পর্যন্ত এটি মানুষের জন্য বড় কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেলেও ইউরোপের অবকাঠামো, আবাসন ব্যবস্থা এবং মানুষের অভ্যাস এখনো পুরোপুরি সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি।

ফলে ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে এয়ার কন্ডিশনারকে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবেই দেখা হয়েছে। বিশেষ করে এটি স্থাপন ও চালানোর খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অনেকেই তা ব্যবহার করতে আগ্রহী হননি। এ ছাড়া ইউরোপের অনেক দেশে বিদ্যুতের দাম যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি, অথচ গড় আয় তুলনামূলকভাবে কম। তাই অনেক ইউরোপীয় পরিবারের জন্য এয়ার কন্ডিশনার চালানোর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বহন করা এখনো কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ বাড়লেও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রধান বাধাগুলোর একটি হলো এর উচ্চ ব্যয়, যা বহু মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এয়ার কন্ডিশনারের কম ব্যবহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইউরোপের স্থাপত্যশৈলী।

দক্ষিণ ইউরোপের তুলনামূলক উষ্ণ দেশগুলোর অনেক ভবনই গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বাড়িতে সাধারণত মোটা দেয়াল, ছোট জানালা এবং এমন নকশা থাকে যা ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচল বাড়ায় ও সূর্যের তাপ প্রবেশ কমায়। ফলে ঘর তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে এবং কৃত্রিম শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন কম অনুভূত হয়।

তবে ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের অনেক বাড়িঘর গরমের কথা বিবেচনা করে নির্মিত হয়নি। বরং সেগুলো মূলত ঠান্ডা আবহাওয়া মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার কর্মকর্তা ব্রায়ান মাদারওয়ে বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে কীভাবে ঠান্ডা থাকা যায়, সে বিষয়ে ভাবার অভ্যাস আমাদের ছিল না। এটি আসলে তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক একটি বিষয়।’ তার মতে, ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে শীত মোকাবিলাই ছিল প্রধান অগ্রাধিকার। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এখন অনেক দেশকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

কখনও কখনও এয়ার কন্ডিশনার স্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রশাসনিক জটিলতা ও কঠোর নিয়মকানুন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এয়ার কন্ডিশনার কম্পানির রিচার্ড সালমন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এয়ার কন্ডিশনার বসাতে চায় না। তার মতে, বিশেষ করে ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকা বা সংরক্ষিত ভবনের ক্ষেত্রে বাইরের কনডেনসার ইউনিট ভবনের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী চেহারা নষ্ট করতে পারে, এই যুক্তিতে অনুমতি দেওয়া হয় না।

ফলে তাপপ্রবাহ বাড়লেও অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার লাগাতে পারেন না। কারণ পরিকল্পনা অনুমোদন ও সংরক্ষণবিষয়ক নিয়মকানুন প্রায়ই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এয়ার কন্ডিশনারের কম ব্যবহারের পেছনে নীতিগত কারণও রয়েছে। ইউরোপ ২০৫০ সালের মধ্যে ‘জলবায়ু-নিরপেক্ষ’ (ক্লাইমেট নিউট্রাল) হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ব্যাপক হারে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার বাড়লে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কারণ এয়ার কন্ডিশনার শুধু প্রচুর বিদ্যুৎ খরচই করে না, এটি ঘরের ভেতরের তাপ বাইরে ছেড়ে দেয়। প্যারিসে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। ইউরোপের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এর প্রভাব আরো বেশি অনুভূত হয়।

এ কারণে কিছু দেশ এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ২০২২ সালে স্পেন একটি নিয়ম চালু করে, যেখানে সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানগুলোতে এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না। এর উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি সাশ্রয় করা।

তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপ এখন বিশ্বের অন্যতম দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাদেশটি বিশ্বের গড় উষ্ণায়নের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে গরম হচ্ছে। ফলে এয়ার কন্ডিশনার নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতিনির্ধারকদের অবস্থানেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

একসময় যাকে বিলাসিতা হিসেবে দেখা হতো, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের কারণে অনেক ইউরোপীয় এখন সেটিকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছেন।

ইউরোপ এখন একটি কঠিন দ্বিধার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে রয়েছে ব্যাপক হারে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার, যা মানুষকে তীব্র গরম থেকে রক্ষা করতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ ও জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ায়। অন্যদিকে রয়েছে ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠা ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খাওয়ার জন্য বিকল্প ও টেকসই সমাধান খোঁজার চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাজ্যের ইউকে গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের পরিচালক ইয়েটুন্ডে আব্দুল বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর শুধু শীত মোকাবিলার জন্য নয়, ক্রমশ আরো তীব্র হয়ে ওঠা গরমের বিরুদ্ধেও সহনশীল হতে হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ইউরোপে ভবন নির্মাণের নকশা, উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল, ছায়া তৈরির অবকাঠামো, সবুজায়ন এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে, আর সেই বাস্তবতায় শুধু এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নয়।

তবে ইউরোপে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার যে দ্রুত বাড়ছে, তার স্পষ্ট লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ইউরোপেও তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষকে শীতলীকরণ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যবহৃত এয়ার কন্ডিশনারের সংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এয়ার কন্ডিশনিং কম্পানির পরিচালক রিচার্ড স্যামন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তার ভাষায়, ‘গত পাঁচ বছরে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা অনুসন্ধানের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান তাপপ্রবাহে চাহিদা রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। রাত ৩টায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন বা ঘুমানোই কঠিন হয়ে পড়ে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার আরো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
 

অস্ট্রেলিয়া-ভানুয়াতুর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়া-ভানুয়াতুর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া ও ভানুয়াতু উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অন্যান্য দেশের বিনিয়োগে প্রভাব পড়তে পারে, এমন উদ্বেগের কারণে চুক্তিটি কয়েক মাস বিলম্বিত হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, ভানুয়াতুর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে কোনো তৃতীয় পক্ষ বিনিয়োগ করতে চাইলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া দেশটির প্রধান নিরাপত্তা ও পুলিশি সহযোগী হিসেবে থাকবে। এই চুক্তির জন্য আগামী ১০ বছরে ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, ভানুয়াতু তাদের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেবে না এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেবে না। চুক্তিটি গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে তা পিছিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে ভানুয়াতুর সবচেয়ে বড় বিদেশি ঋণদাতা। চীনের অর্থায়নে দেশটিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সংসদ ভবন এবং সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। এদিকে, ভানুয়াতু চীনের সঙ্গে একটি নতুন অর্থনৈতিক চুক্তিরও চেষ্টা করছে। 

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাত জানান, চুক্তিটি বর্তমানে বেইজিংয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে গোপন কিছু থাকবে না এবং প্রয়োজনে তা প্রকাশ করা হবে।

ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০, চলছে শেষ মুহূর্তের উদ্ধার অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০, চলছে শেষ মুহূর্তের উদ্ধার অভিযান
ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধারকারী দল ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২০০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

রবিবার দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের শহর কারাবালেদায় ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা এই উদ্ধার কার্যক্রম চালান। ঘটনাটি উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষ করেন। এই উদ্ধার চলমান বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময় (গোল্ডেন আওয়ার) ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

রবিবার ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে উপকূলীয় শহর লা গুয়ারায় হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা পরিবারের সদস্যদের খুঁজতে অনেকে খালি হাতে মাটি সরাচ্ছেন। এক বাসিন্দা হেক্টর আগুইলেরা বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না এবং তারা একাই চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তারা জানেন তাদের স্বজনরা আর বেঁচে নেই, তবুও শেষবারের মতো খোঁজ চালাচ্ছেন। 

উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর উদ্ধার কাজ সাধারণত মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের দিকে চলে যায়। দেশটির রাজধানী কারাকাসে স্বেচ্ছাসেবকেরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে ড্রিল ও হাত দিয়ে কংক্রিট সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে সান বার্নারদিনো এলাকায় বড় স্ক্রিনে নিখোঁজ মানুষের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাতে স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়। 

সরকার জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ১৫০ জন। তবে উদ্ধারকাজ চললেও বিভিন্ন এলাকায় লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ফার্মেসি ও দোকানে হামলা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী লুট করা হচ্ছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, জীবিত মানুষ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে এবং এটি বন্ধ করা হবে না। এ সময় তিনি সবাইকে আশা ধরে রাখার কথাও বলেন। 

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ পাঠাচ্ছে এবং আরো ২৩০ জন সেনা সদস্য উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে যোগ দিচ্ছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ৮৬টি বিশেষ উদ্ধার ইউনিট এবং ২ হাজার ৭০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এখন অনেক এলাকায় শুধু ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজই বেশি দেখা যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৭০ কোটি ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ছয় শতাংশ। দেশটি আগে থেকেই দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে ছিল। এই দুর্যোগে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ও সরকারি সেবাব্যবস্থা আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষ জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এদিকে নির্বাসনে থাকা দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, এই সংকটের সময় সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে এবং একে অপরকে সহায়তা করতে হবে।

সম্প্রচারজনিত ভুল নিয়ে ক্ষমা চাইল পাকিস্তানের জিও নিউজ

অনলাইন ডেস্ক
সম্প্রচারজনিত ভুল নিয়ে ক্ষমা চাইল পাকিস্তানের জিও নিউজ
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ মহররমের একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচারের জন্য রবিবার প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে। এর এক দিন আগে পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জিও নিউজের সম্প্রচার ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জিও নিউজ জানায়, ইসলামী চান্দ্র বছরের প্রথম মাস মহররম উপলক্ষে প্রচারিত ‘সফর-ই-ইশক’ অনুষ্ঠানের একটি অংশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সে কারণেই তারা ক্ষমা চেয়েছে। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চ্যানেলটি জানায়, মহররমের ১০ তারিখে প্রচারিত অনুষ্ঠানের একটি বিষয় সম্পাদকীয় পর্যায়ের ভুলের কারণে সম্প্রচার হয়েছে। তারা সেই ভুল স্বীকার করছে এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। জিও নিউজ আরো জানায়, ওই অনুষ্ঠানে ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের একটি ছোট অংশের মানুষের পালন করা কিছু ধর্মীয় রীতি তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ঠিক কোন ধর্মীয় রীতি দেখানো হয়েছিল, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এদিকে পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (পেমরা) জানিয়েছে, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয় বিবেচনায় ওই ধরনের দৃশ্য সম্প্রচার করা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সংস্থাটি বলেছে, ওই অনুষ্ঠান দর্শকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। পাশাপাশি এটি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। পবিত্র মহররম মাসে পাকিস্তানে গণমাধ্যমের ওপর নজরদারি আরো কঠোর করা হয়েছে। তবে সম্প্রচার স্থগিতের সিদ্ধান্তে পেমরাও তথ্যচিত্রের বিতর্কিত অংশ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ইরাকের শিয়া মুসলিমদের একটি অংশ ইসলামের প্রাথমিক দিকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো স্মরণ করে নাটক, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন করে। এই প্রথাকে ‘তাজিয়া’ বলা হয়। তবে ইসলামের বৃহত্তম সুন্নি ধারার অনেক আলেম এই প্রথাকে সমর্থন করেন না এবং নিরুৎসাহিত করেন।

পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ সুন্নি মুসলিম। দেশটির প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ শিয়া সম্প্রদায়ের। অতীতে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা নিয়ে কঠোর আইন রয়েছে। এসব আইনকে কেন্দ্র করে অতীতে বহুবার সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
 

গাজাবাসী টিকে আছে টিনজাত খাবার খেয়ে, সীমান্তে পচছে তাজা খাদ্য | কালের কণ্ঠ