জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুক ভারতবাসীদের দিল্লির যন্তর মন্তরে তার সঙ্গে অনশনে অংশ নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। শিক্ষা সংস্কার, পরিবেশ রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভিডিও বার্তাটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেন, যারা সরাসরি দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দিতে পারবেন না, তারা নিজের শহর, জেলা বা গ্রামে একই দাবিতে এক দিনের অনশন করতে পারেন। তিনি বলেন, 'নমস্কার। শিক্ষা ও পরিবেশের সমর্থনে, সিজেপি এবং লাদাখের দাবির পক্ষে আজ আমি লবণ ও পানি খেয়ে অনশনের দ্বিতীয় দিনে আছি। এখানে অনেক মানুষ যোগ দিচ্ছেন। চাইলে আপনারাও এক দিনের জন্য এসে আমাদের সঙ্গে অনশন করতে পারেন।'
ওয়াংচুক আরো বলেন, কেউ কেউ তিন থেকে পাঁচ দিনের জন্যও অনশন করছেন। তার মতে, এটি একটি ইতিবাচক সমর্থন। যারা যন্তর মন্তরে আসতে পারবেন না, তারা নিজের এলাকায় বসেও একই দাবিতে এক দিনের অনশন করতে পারেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরকারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরিবেশ রক্ষা এবং বিশুদ্ধ বাতাস ও পানির দাবিতে এই আন্দোলন করা যেতে পারে। এর আগে রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। একই স্থানে আগে থেকেই সিজেপির নেতৃত্বে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
অনশন শুরুর আগে ওয়াংচুক ও অভিজিৎ দিপকে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রবিবার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে ওয়াংচুক বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তিনি বলেন, 'ভালো শিক্ষা ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। ভারতও উন্নত দেশ হতে চাইলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখায়, শিক্ষা খাতের স্বার্থ রক্ষায় ঘাটতি রয়েছে। আমাদের আন্দোলন সেই ব্যবস্থাকে ঠিক পথে ফেরানোর জন্য।'
এর আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি দুটি প্রধান দাবির অন্তত একটিতেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করবেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং লাদাখের পরিবেশ, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। এদিকে অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, অনশন শুরুর কিছুক্ষণ পরই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, সেখানে এখন পানির সংযোগ নেই এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও নেই।
তিনি আরো দাবি করেন, কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে আরো মৌলিক সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।





