• ই-পেপার

দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন আজ

সাঁতারুদের সুরক্ষায় সৈকতে ড্রোন ব্যবহারের নিয়ম পাল্টাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
সাঁতারুদের সুরক্ষায় সৈকতে ড্রোন ব্যবহারের নিয়ম পাল্টাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি সৈকতে হাঙরের হামলায় একজন নারী গুরুতর আহত হওয়ার পর, সেখানকার ড্রোন ওড়ানোর নিয়ম পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কুগি নামের ওই সৈকতটিতে হাঙরের ওপর নজরদারি বাড়াতে যেন উদ্ধারকারীরা সহজে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে পূর্ব সিডনির কুগি সৈকতে তীর থেকে মাত্র ১০০ ফুট দূরে এক ৩৫ বছর বয়সী নারীকে একটি হাঙর কামড় দেয়। এতে তার বাম পায়ের নিচের অংশ এবং হাত গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনার পর কুগি বিচসহ আশেপাশের কয়েকটি সৈকত ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে ড্রোনের সাহায্যে হাঙরটির সন্ধান করা হয়। ঘটনার সময় প্যাডেলবোর্ড চ্যাম্পিয়ন চার্লি ভার্কো (২৫) ওই নারীকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, সাঁতারুদের কাছাকাছি প্রায় তিন থেকে চার মিটার লম্বা একটি হাঙর দেখে তিনি অত্যন্ত ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইশারার মাধ্যমে সৈকতে থাকা অন্য লাইফগার্ডদের সতর্ক করেন এবং পানি থেকে সবাইকে দ্রুত উঠে আসার ব্যবস্থা করেন।

সিডনির কুগি সৈকতটি মূলত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান চলাচলের পথের নিচে অবস্থিত। বিমান সুরক্ষার কারণে এই এলাকায় সাধারণ বা বাণিজ্যিক ড্রোন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সাঁতারুদের নিরাপত্তার জন্য ড্রোন দিয়ে হাঙরের ওপর নজর রাখা জরুরি হওয়ায়, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এখন এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী টারা মোরিয়ার্টি জানিয়েছেন, সিডনিতে হাঙরের উপদ্রব ও আক্রমণের কারণে এই গ্রীষ্মকালটা বেশ কঠিন যাচ্ছে। সাঁতারুদের নিরাপদ রাখতে সরকার ড্রোন ও অন্যান্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

সূত্র : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাহাড়ে দাবানল

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাহাড়ে দাবানল
ছবি : নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পাহাড়ে দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রিমরক লেকের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইয়াকিমা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, বিমান বিধ্বস্তের পর পাইলট নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। পরে আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা আরো জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন মেরিন কোরের এক বিবৃতির বরাতে কিরো টিভি জানায়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ/এ-১৮ হরনেট মডেলের। এটি ‘মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১, তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইং’-এর অধীনে নিয়োজিত ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরের প্রায় ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ও ওকানোগান-ওয়েনাচি ন্যাশনাল ফরেস্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটুকু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বিমান বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানান তারা।

কোচিং সেন্টার দ্বন্দ্ব

রওশন স্যার কারাবন্দী, ভাইয়ের রহস্যজনক ‘মৃত্যু’

অনলাইন ডেস্ক
রওশন স্যার কারাবন্দী, ভাইয়ের রহস্যজনক ‘মৃত্যু’
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বিহারের জনপ্রিয় শিক্ষক রওশন আনন্দ ওরপে ‘রওশন স্যার’ এবং ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’। তাদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এক সঙ্গে পরিচালনা হতো জ্ঞান বিন্দু জিএস একাডেমি এবং খান গ্লোবাল স্টাডিজ নামের দুই কোচিং সেন্টার। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে এই দুই প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল।

চলতি মাসের শুরুতে এই বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এক পর্যায়ে খান স্যারের একাডেমিতে ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এর পরপরই রওশন স্যারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে নেপালে তার ভাই প্রিন্সের মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে খান স্যার আদালতের কাছ থেকে সাময়িক সুরক্ষা পান, ফলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আর এই ঘটনার দায়ে করা মামলায় একজন অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্স। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি অন্তত ছয় বন্ধুর সঙ্গে নেপালে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার একটি মামলাতেও অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্স। অভিযোগ ছিল, তিনি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

গত কয়েক বছরে খান স্যার একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে রওশন স্যার তার প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা এবং কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা সংগঠিত করেছেন। অন্যদিকে রওশন স্যারও খান স্যারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। ২০২৩ সালে তার কোচিং সেন্টারে সংঘটিত ভাঙচুরের পেছনে খান স্যারের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন।

এনডিটিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভাঙচুরের ঘটনাটি বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়। দুই কোচিং প্রতিষ্ঠানই বিপুলসংখ্যক সফল প্রার্থীর কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে পোস্টার ছেঁড়া, সমর্থকদের মধ্যে মারামারি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

তবে এই দ্বন্দ্বের শিকড় আরও গভীরে। পাটনার মুসাল্লাহপুর এলাকার কিষাণ কোল্ড স্টোরেজ ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বর্তমানে খান স্যার ও রওশন স্যার—উভয়ের কোচিং সেন্টারই ওই ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিন্সের মৃত্যুর কারণ জানতে নেপাল ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ইসলামিক রিপাবলিক ৩.০

যুদ্ধ ইরানকে যেভাবে আরো শক্তিশালী করছে

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধ ইরানকে যেভাবে আরো শক্তিশালী করছে
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সংঘাত শুরুর প্রায় চার মাস পর যেন উল্টে গেল এই সমীকরণ। সরকার পরিবর্তন বা পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে ইরান এখন আগের চেয়ে আরো সামরিককেন্দ্রিক, ঝুঁকি নিতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রভাব নিজেদের কবজায় রাখতে কৌশলগত কর্মসূচির ওপরও দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান।

তবে এখন প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি তাদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে? এর আগে তারা বলেছিল, ইরানে সরকার পরিবর্তন, পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে আনাই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য।

এ প্রশ্নের জবাব বা চলমান এই যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে এখন বিতর্ক বাড়ছে। কারণ, বড় ধরনের কৌশলগত ছাড় না দিয়েই ইরান সংঘাত টিকে গেছে এবং ক্রমাগত চাপের মধ্যেও নিজেকে নতুনভাবে মানিয়ে নিয়েছে। এমন তথ্য তুলে ধরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

‘ইসলামিক রিপাবলিক ৩.০’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানে তুলনামূলক তরুণ, আরো কঠোর অবস্থানসম্পন্ন এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নেতৃত্ব ক্ষমতায় এসেছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রাষ্ট্র পরিচালনায় আরো শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘ইরান এখন আরো তরুণ এবং সাহসী একটি প্রজন্মের হাতে পরিচালিত হচ্ছে।’

ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থার বিষয়ে কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, এটি ‘ঐশ্বরিক ক্ষমতা’ থেকে ‘কঠোর ক্ষমতার’ দিকে রূপান্তর।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বর্তমান ব্যবস্থাকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক ৩.০’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, এটি আগের তুলনায় কম ধর্মতান্ত্রিক এবং অনেক বেশি আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত সামরিক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।

সামরিক ও কৌশলগত ইরান

ইরান দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলা করলেও তার পারমাণবিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনো ‘নিউক্লিয়ার থ্রেশহোল্ড’ বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে তারা অস্ত্র তৈরির পথে দ্রুত এগোতে পারে।

আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইরান তার প্রভাব বজায় রেখেছে।

যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন

বর্তমানে নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইআরজিসি প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

একই সঙ্গে ইরানের পরিবর্তন এসেছে বৈদেশিক আচরণেও। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, সংঘাতের এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো ইরান সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে, যেখানে আগে তারা মূলত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ওপর নির্ভর করত।

এটি আগের সতর্কনীতির পরিবর্তে আরো আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রতিফলন বলে মনে করছেন 
বিশ্লেষকরা।

আঞ্চলিক স্থায়িত্ব

ইরান এখন লেবানন ও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইরান বিশেষজ্ঞ এবং অবসরপ্রাপ্ত ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এখনো তাদের প্রতিরোধ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

তার মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এমন একটি তাস দিয়েছে। যা ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। কিন্তু সেটিই হয়তো দেশটিকে এমন এক পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন।

আলোচনায় ইরান কী চাইছে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে রাজি নয়। বরং তারা সীমিত আকারের একটি সমঝোতা চায়।

তেহরানের দেওয়া সম্ভাব্য ওই কাঠামোর মধ্যে রয়েছে—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িক স্থগিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ বিদেশে পাঠানো বা পাতলা করা। তবে পারমাণবিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা।

এর পাশাপাশি তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরত চাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে, যার পরবর্তী অংশ চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

ইরানের প্রধান হাতিয়ার

ইরানের প্রধান দুটি হাতিয়ার হলো—তাদের পারমাণবিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা।

যদিও ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপে রয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ হলে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়তে পারে। তবু তেহরানের ধারণা, একটি চুক্তি করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রয়োজন আরো বেশি। ফলে তারা বড় ধরনের ছাড় দিতে অনাগ্রহী।

সানাম ভাকিলের মতে, ইরানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, আরব-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতা দুর্বল করা এবং অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো।

এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী?

প্রাথমিক কোনো সমঝোতা হলেও গভীর মতপার্থক্যগুলো দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে পারমাণবিক আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় চলতে পারে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ইরান বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি বলেন, আমরা সম্ভবত দীর্ঘ সময়ের জন্য ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ ধরনের একটি পরিস্থিতিতে থাকব। যা ইরানের জন্য সুবিধাজনক।

তার মতে, এই অবস্থা একদিকে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বজায় রাখবে, অন্যদিকে জ্বালানি বাজার ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের কৌশলগত প্রভাবও অক্ষুণ্ণ রাখবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—ইরান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিতে পারে, যেমনটি অতীতেও করেছে।
 

দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন আজ | কালের কণ্ঠ