হুয়ান হার্নান্দেজ একজন ওয়েল্ডিং শ্রমিক। ২০১৫ সালে এক বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে স্পেসএক্স-এ যোগ দিয়েছিলেন। তখনও তিনি স্পেসএক্স সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। আর দশটা চুক্তিভিত্তিক কাজের মতই তিনি স্পেসএক্স-এও কাজ শুরু করেন। সেখানে হার্নান্দেজের দায়িত্ব ছিল রকেট উৎক্ষেপণের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করা। পরে প্রমোশন পেয়ে সুপারভাইজার বনেছিলেন। বছর দশেক স্পেসএক্স-এ কাজ করার পর হুয়ান যোগ দেন ব্লু অরিজিনে। সাবেক কর্মস্থলের কথা হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্পেসএক্স তাকে ভোলেনি। আসলে ভুলতে দেয়নি। স্পেসএক্স-এর রেকর্ড ভাঙ্গা আইপিও সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কভিত্তিক নাসডাক-এ ৭৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়ে তালিকাভূক্ত হয় ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স। শুক্রবার লেনদেনের প্রথম দিনেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্পেসএক্স-এর শেয়ার কিনতে। তাতেই হু হু করে বাড়ে শেয়ারের দাম। তাতে ইলন মাস্ক বনে যান বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনিয়ার। কিন্তু স্পেসএক্স শুধু ইলন মাস্ককেই ট্রিলিওনিয়ার বানায়নি। কম্পানির আরো অনেককেই মিলিওনিয়ারও বানিয়েছে। হুয়ান হার্নান্দেজ তেমনই একজন। স্পেসএক্স শুরু থেকেই কর্মীদের শেয়ার দিয়ে থাকে। যেমন হুয়ান হার্নান্দেজ যখন চাকরি শুরু করেন, তখন তাকেও ১০ হাজার ডলার সমমূল্যের শেয়ার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হুয়ান কখনোই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেননি। কারণ স্পেসএক্স-এর আগে বা পরে কোনো কোম্পানিই কখনো এ ধরনের অফার দেয়নি।
শুক্রবার স্পেসএক্স-এর লেনদেন শুরুর পর হুয়ান জানলেন তিনি মিলিওনিয়ার বনে গেছেন। স্পেসএক্স ছেড়ে গেলেও ভাগ্য তাকে ছাড়েনি। স্পেসএক্স-এর ৬ হাজার ৫০০ শেয়ার ছিল তার কাছে। এতদিন যার তেমন মূল্যই ছিল না। কিন্তু লেনদেনের প্রথমদিনেই প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে ওঠে। তাতেই খুলে যায় হুয়ানের কপাল। তার শেয়ারের মোট মূল্য এক মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, বাংলাদেশী মূদ্রায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। একেই বলে- কপালে থাকলে ঠেকায় কে।
স্পেসএক্স-এ যোগ দেয়ার সময় শেয়ার দেয়ার বিষয়টিকে একদম গুরুত্ব না দিলেও হুয়ান এখন বুঝছেন, ’প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় কর্মীদের অংশীদারিত্ব থাকলে কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অনেক বেড়ে যায়, কারণ কর্মীরা তখন কোম্পানির সাফল্যের সাথে নিজেদের সরাসরি যুক্ত মনে করেন।’
হুট করে কপাল খুলে গেলেও হার্নান্দেজ কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন না। সন্তানদের পড়াশোনার পেছনে এ অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। হুয়ান তার সন্তানদের বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে শেখাতে চান। এরই মধ্যে হুয়ান তার কিশোরী মেয়েকে শেয়ার বাজার সম্পর্কে আরো বেশি জানার জন্য উৎসাহিত করেছেন। যে শেয়ার বাজার তার ভাগ্য বদলে দিল, তার সম্পর্কে একটু জানা থাকলে ভালো।
হার্নান্দেজ বলেছেন, তিনি এই সুযোগের জন্য চিরকৃতজ্ঞ এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে কম্পানির এই সাফল্য সাধারণ কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য জীবন বদলে দেওয়ার মতো আর্থিক সুযোগ তৈরি করেছে।






