• ই-পেপার

ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, মার্কিন নথি ফাঁস

ব্রাজিলে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে গায়ক অলিভার ট্রিসহ ৬ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ব্রাজিলে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে গায়ক অলিভার ট্রিসহ ৬ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর পশ্চিমাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৪ জুন) সকালে মাঝ-আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষের পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীদের তালিকায় জনপ্রিয় মার্কিন গায়ক ও কৌতুক অভিনেতা অলিভার ট্রির নাম রয়েছে। গত ৪ জুন আর্জেন্টিনায় পারফর্ম করার পর শনিবার (১৩ জুন) তাকে ব্রাজিলের একটি স্থানীয় এলাকায় ফুটবল খেলতে দেখা গিয়েছিল। তবে লাশগুলো এখনো পুরোপুরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই দুর্ঘটনায় আরো প্রাণ হারিয়েছেন আর্জেন্টিনার ২৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্যাসপার প্রিম দিয়াজ, যিনি 'গ্যাসপি' নামে পরিচিত। ইউটিউবে ২৮ লক্ষাধিক ফলোয়ার থাকা এই তারকার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘ব্লেন্ডার’। 

স্থানীয় সামরিক দমকল বিভাগ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর একটি হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়ি বিক্রয় কেন্দ্রের পার্কিং লটে আছড়ে পড়ে। সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে দ্রুত আগুন ধরে গেলে দমকলকর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। প্রত্যক্ষদর্শী ফার্নান্দেস ডি ফ্রেইতাস জানান, আকাশে সংঘর্ষের পরই একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই একজন যাত্রীকে বিমান থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখা যায়। এই সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, সই শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক
শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, সই শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।

ট্রাম্প লিখেছেন, বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু কর। তেলের প্রবাহ চলুক।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় যা থাকতে পারে

অনলাইন ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় যা থাকতে পারে
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। যেমন- হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ছাড় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছেন। 

দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, খসড়া স্মারকে নিচের বিষয়গুলো আছে:

হরমুজ প্রণালি :

ইরান তাৎক্ষণিকভাবে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে।

স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই অবরোধ প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা শেষ করা হবে।

তেল ও আর্থিক বিষয় :

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। চূড়ান্ত চুক্তি হলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের ওপর আরোপিত জাতিসংঘ ও সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে তেহরান তেল বিক্রি করে আয় করতে পারবে। এছাড়া ইরানের জব্দকৃত ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়েও সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা এবং আর্থিক ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা।

পারমাণবিক কর্মসূচি : 

সমঝোতার আওতায় তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটি অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং নতুন স্থাপনাও সম্প্রসারণ করবে না।

ভবিষ্যতের একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় ইরানকে নিজ ভূখণ্ডে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হালকা করার অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এসব বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ও নিষ্পত্তি করা হবে।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী রবিবারই সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার কথা। তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

কৌন বনেগা ক্রোড়পতি?

অনলাইন ডেস্ক
কৌন বনেগা ক্রোড়পতি?
সংগৃহীত ছবি

হুয়ান হার্নান্দেজ একজন ওয়েল্ডিং শ্রমিক। ২০১৫ সালে এক বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে স্পেসএক্স-এ যোগ দিয়েছিলেন। তখনও তিনি স্পেসএক্স সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। আর দশটা চুক্তিভিত্তিক কাজের মতোই তিনি স্পেসএক্স-এও কাজ শুরু করেন। সেখানে হার্নান্দেজের দায়িত্ব ছিল রকেট উৎক্ষেপণের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করা। পরে প্রমোশন পেয়ে সুপারভাইজার বনেছিলেন। বছর দশেক স্পেসএক্স-এ কাজ করার পর হুয়ান যোগ দেন ব্লু অরিজিনে। সাবেক কর্মস্থলের কথা হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্পেসএক্স তাকে ভোলেনি। আসলে ভুলতে দেয়নি। স্পেসএক্স-এর রেকর্ড ভাঙা আইপিও সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কভিত্তিক নাসডাক-এ ৭৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়ে তালিকাভুক্ত হয় ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স। শুক্রবার লেনদেনের প্রথম দিনেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্পেসএক্স-এর শেয়ার কিনতে। তাতেই হু হু করে বাড়ে শেয়ারের দাম। তাতে ইলন মাস্ক বনে যান বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার। কিন্তু স্পেসএক্স শুধু ইলন মাস্ককেই ট্রিলিয়নেয়ার বানায়নি। কম্পানির আরো অনেককেই মিলিয়নেয়ারও বানিয়েছে। হুয়ান হার্নান্দেজ তেমনই একজন। স্পেসএক্স শুরু থেকেই কর্মীদের শেয়ার দিয়ে থাকে। যেমন হুয়ান হার্নান্দেজ যখন চাকরি শুরু করেন, তখন তাকেও ১০ হাজার ডলার সমমূল্যের শেয়ার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হুয়ান কখনোই বিষয়টিকে গুরুত্বে‌র সাথে নেননি। কারণ স্পেসএক্স-এর আগে বা পরে কোনো কম্পানিই কখনো এ ধরনের অফার দেয়নি।

শুক্রবার স্পেসএক্স-এর লেনদেন শুরুর পর হুয়ান জানলেন তিনি মিলিওনিয়ার বনে গেছেন। স্পেসএক্স ছেড়ে গেলেও ভাগ্য তাকে ছাড়েনি। স্পেসএক্স-এর ৬ হাজার ৫০০ শেয়ার ছিল তার কাছে। এত দিন যার তেমন মূল্যই ছিল না। কিন্তু লেনদেনের প্রথম দিনেই প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে ওঠে। তাতেই খুলে যায় হুয়ানের কপাল। তার শেয়ারের মোট মূল্য এক মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, বাংলাদেশি মূদ্রায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। একেই বলে, কপালে থাকলে ঠেকায় কে।

স্পেসএক্স-এ যোগ দেওয়ার সময় শেয়ার দেওয়ার বিষয়টিকে একদম গুরুত্ব না দিলেও হুয়ান এখন বুঝছেন, ‘প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় কর্মীদের অংশীদারি থাকলে কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অনেক বেড়ে যায়, কারণ কর্মীরা তখন কম্পানির সাফল্যের সাথে নিজেদের সরাসরি যুক্ত মনে করেন।’

হুট করে কপাল খুলে গেলেও হার্নান্দেজ কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন না। সন্তানদের পড়াশোনার পেছনে এ অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। হুয়ান তার সন্তানদের বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে শেখাতে চান। এরই মধ্যে হুয়ান তার কিশোরী মেয়েকে শেয়ার বাজার সম্পর্কে আরো বেশি জানার জন্য উৎসাহিত করেছেন। যে শেয়ার বাজার তার ভাগ্য বদলে দিল, তার সম্পর্কে একটু জানা থাকলে ভালো।

হার্নান্দেজ বলেছেন, তিনি এই সুযোগের জন্য চিরকৃতজ্ঞ এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে কম্পানির এই সাফল্য সাধারণ কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য জীবন বদলে দেওয়ার মতো আর্থিক সুযোগ তৈরি করেছে।

ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, মার্কিন নথি ফাঁস | কালের কণ্ঠ