• ই-পেপার

বিবিসির প্রতিবেদন

ইসরায়েলে ইরানের পাল্টাহামলার সম্ভাবনা কতটা?

ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপিআই ঝড়!

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপিআই ঝড়!

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্ররা ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নামে একটি দল গঠন করে, সাধারণে যা জাতীয় নাগরিক পার্টি হিসেবে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেঁধে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসন লাভ করে এনসিপি। আসন সংখ্যা যাই হোক, এনসিপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। কিন্তু ভারতেও যে এনসিপি নামে একটি দল আছে, রবিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষই সেটা জানতেন না। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সদস্যের এক যোগে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণায় ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন ঝড় উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তছনছ হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতর-বাহির। এক যোগে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সংসদ সদস্যের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা সেই টালমাটাল পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করলো।

এমপিদের কেনাবেচা বন্ধে জাতীয় সংসদে দলবদল বা ফ্লোর ক্রসিং ঠেকাতে বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া আছে। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। সরকার স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে ভারতের সংবিধানের দশম তফশিলেও বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মতো দলত্যাগ বিরোধী আইন রয়েছে। বাংলাদেশের মতো ভারতেও কেউ দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়।

তবে এই আইনেরও একটি ফাঁক আছে, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যৌথ সিদ্ধান্তে চাইলে অন্য কোনো দলের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। ছোট্ট ফাঁক গলে লখিন্দরের বাসর ঘরে যেমন সাপ ঢুকেছিল। আইনের এই ফাঁক গলে কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আর পার্থ ভৌমিকরা এখন তৃণমূলের মূল ধরেই টান দিয়েছেন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ২৮। দুই-তৃতীয়াংশ মানে ১৯ জন হলেই তারা অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে পারতেন। সেখানে তাদের দলে একজন বেশিই আছে।

কাগজে-কলমে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া-এনসিপিআই’তে যোগ দিলেও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মূল লক্ষ্য ক্ষমতা। কেন্দ্রে না হলেও এতদিন তবু রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। গত নির্বাচনে ভরাডুবির পর কাকলী ঘোষদের মনে হলো, ‘ক্ষমতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়’। কিছুটা আইনি ঝুঁকি থাকলেও তারা সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিতে পারতেন। বিজেপিতে না গিয়ে এনসিপিআইতে কেন, এটা নিয়েই সবার কৌতুহল। এখানেই লুকিয়ে আছে রাজনীতির কূটচাল আর কূটকৌশলের খেলা। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ আর বিজেপি মিলেই যে এনসিপিআই আবিষ্কার করেছে, তা এখন একেবারে সংবিধান না বোঝা ভারতের শিশুটিও বোঝে।

সরাসরি বিজেপিতে না গেলেও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই নিয়ে বিজেপির পাশেই মানে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটেই থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সরাসরি যোগ দিলে তারা আসলে বিজেপির সর্বভারতীয় বিশাল সমূদ্রে বিলীন হয়ে যেতো। আলাদা কোনো অস্তিত্বই থাকতো না। তাই তারা এনসিপিআইয়ের সাথে তৃণমূলকে একীভূত করেছে। দুই-তৃতীয়াংশের যৌথ সিদ্ধান্তে অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সুযোগ আছে। তবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে মূল রাজনৈতিক দল ও সংসদীয় দলকে আলাদা সত্ত্বা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে হলে মূল দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত লাগবে। মমতা-অভিষেক নিশ্চয়ই দল ভাঙ্গার অনুমতি দেবেন না। তাই বিজেপিতে যোগ দিলে সেটা নিছক দলবদল হিসেবেই চিহ্নিত হতো, একীভুত হওয়া নয়। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এরই মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে এ কথা বলেছেন। তবে এনসিপিআইতে যাওয়ার একটা বড় সুবিধাও আছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হলেও এনসিপিআইতে কোনো মাতব্বর নেই। এনসিপি মূলত ত্রিপুরাভিত্তিক একটি পারিবারিক দল। একসময় শিউলি কুন্ডু দলটির প্রধান ছিলেন, এখন তার স্বামী উত্তীয় কুন্ডু দল চালান। দল ভাড়া দিতে পেরেই নিশ্চয়ই তারা খুশি থাকবেন। তাই কাকলী ঘোষরা এখানে নিজেদের মতো ছড়ি ঘোড়াতে পারবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, এমনকি নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করতে পারবেন। গত নির্বাচনে ত্রিপুরার দুটি আসনে নির্বাচন করে যে দল সাকুল্যে ভোট পেয়েছে ৮৮২, তারাই এখন এনডিএ জোটে বিজেপির পর সবচেয়ে বড় দল। ৮৭০ জন অনুসারীর ফেসবুক পেজ আর হাওড়ায় জনমানবহীন ভুতুড়ে অফিস ছাড়া যাদের কিছু ছিল না, তারা এখন লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় দল। আসলেই রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই!

এনসিপিআই কাকলী ঘোষদের ডেসটিনেশন নয়, ট্রানজিট মাত্র। তাদের আসল লক্ষ্য তৃণমূল দখল নেওয়া। সরাসরি বিজেপিতে গেলে সে সুযোগ আর থাকতো না। একীভূত হওয়ার পর তারা এখন নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করবে এবং তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ’জোড়া ফুল’ কেড়ে নিতে চাইবে, দখল নিতে চাইবে তৃণমূলের অফিসের। মাথার ওপর বিজেপির হাত থাকলে আসলে কিছুই অসম্ভব নয়।

সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তারা চিহ্নিত হতো ক্ষমতালোভী, বিশ্বাসঘাতক হিসেবে। যাতে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে পারতো। আর এত বড় ডিগবাজি দেওয়ার মতো সক্ষমতাও প্রবীণ নেতাদের অনেকের নেই। তারচেয়ে বড় কথা, তাদের লক্ষ্য তো অনেক দূরে। তাই লম্বা ডিগবাজি দিয়ে হাত পা ভেঙ্গে এখনই রাজনীতিতে ইতি ঘটানোর ঝুঁকি তারা নিতে চাননি। তাছাড়া এতদিন অসাম্প্রদায়িকতা আর বাঙালিয়ানার গল্প বলে এখন সরাসরি বিজেপির কোলে চড়ে বসলে তাদের নৈতিকতা প্রশ্নের মুখে পড়তো। তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও উঠছে। তবে চক্ষুলজ্জাটা অন্তত আছে। আর এই চক্ষুলজ্জার খাতিরেই তারা ত্রিপুরাভিত্তিক বাঙালিদের দল এনসিপিআইকে আবিষ্কার করেছে। এখন তারা বলতে পারবেন, আমরা মমতাকে ছেড়েছি, কিন্তু বিজেপিতে তো যাইনি।

তাছাড়া তৃণমূলের ঘর ভাঙ্গার পাশাপাশি বিজেপিকে নিজেদের ঘরের দিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। একসঙ্গে তৃণমূলের ২০ জন হেভিওয়েট নেতার যোগ দেওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি শিবিরের ভেতরেই তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ ছিল। নতুন নেতারা এলে পুরোনো ও ত্যাগী নেতাদের পদপদবী, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে ভাগ বসতো। তারচেয়ে দূরে থেকে কাছে থাকাই ভালো। সাপ মরে ভুত, কিন্তু লাঠির কিচ্ছু হয়নি। 

এনসিপিআইয়ের আবিষ্কার করে কাকলী ঘোষরা এক ঢিলে অনেক পাখি মারলেন। নিজেদের সদস্যপদের আইনি সুরক্ষা পেলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে তছনছ করার সুযোগ নিলেন, ভবিষ্যতের রাজনীতির পথ সুগম রাখলেন আর এনডিএ জোটের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ক্ষমতার কাছাকাছিই রইলেন। 

এনসিপিআই এতদিন নিজেদের ‘সমাজসেবামূলক দল’ হিসেবে দাবি করতো। সংগঠনের পুরোনো এক বিবৃতিতে লেখা, ‘দল বদলানো রাজনৈতিক মুখ নয়; আপনি এগিয়ে আসুন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে’। এখন কোথায় মুখ লুকাবে এনসিপিআই। বিজেপির প্রযোজনায় কাকলী ঘোষ আর সুদীপ বন্দোপাধ্যায়রা সংবিধানকে যেভাবে পাশার বোর্ড বানালেন, রাজনীতিকে বানালেন ছেলেখেলায়; তার শেষ কোথায়? পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগেও অনেক চালাকি করেছে বিজেপি। এবার চালাকিটা একটু বেশিই হয়ে গেছে মনে হয়। এখন অতি চালাকের গলায় দড়ি পড়বে না মমতা-অভিষেককে একেবারে হটিয়ে শুভেন্দু-সুদীপরাই পশ্চিমবঙ্গে রাজ করবেন; তা দেখতে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

প্রত্যাশার চেয়ে ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি সংগ্রহ করল স্পেসএক্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রত্যাশার চেয়ে ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি সংগ্রহ করল স্পেসএক্স
ছবি : রয়টার্স

প্রাথমিক ধারণার চেয়েও আরো অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার (৭.৫ বিলিয়ন পাউন্ড) সংগ্রহ করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) সম্পন্ন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কম্পানি স্পেসএক্স। নিউইয়র্কের নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রি করে কম্পানির মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলার। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ বা লক্ষ কোটিপতির মর্যাদা লাভ করেছেন।

স্পেসএক্স-এর শেয়ারের জন্য বাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। এই বিপুল চাহিদা সামাল দিতে আইপিও-র দায়িত্বে থাকা গোল্ডম্যান স্যাক্স, ব্যাংক অব আমেরিকা ও জেপি মরগ্যানের মতো বড় ব্যাংকগুলো ‘গ্রিনশু’ নামক একটি বিশেষ আর্থিক ধারা প্রয়োগ করে। এই নিয়মের অধীনে ব্যাংকগুলো সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩৩ লাখ শেয়ার কিনে নেয়, যার ফলে মূল পরিকল্পনার চেয়েও এই ১০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। 

আইপিও চালুর পর সোমবার (১৫ জুন) শেয়ার বাজারে স্পেসএক্স-এর জয়জয়কার বজায় ছিল। প্রথম দিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা কোম্পানির বাজার মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় সোমবার কম্পানির শেয়ারের দাম ১৯ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতিটির মূল্য ১৯২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়।

যেহেতু ইলন মাস্কের সম্পদের বেশিরভাগ অংশই সরাসরি স্পেসএক্স-এর শেয়ারে বিনিয়োগ করা, তাই তার এই নতুন ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা পুরোপুরি শেয়ার বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল। শেয়ারের দাম কমলে তিনি দ্রুত এই খেতাব হারাতেও পারেন। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে দিন দিন প্রতিযোগিতা এবং সরকারি নজরদারি বাড়ছে। এই অবস্থায় কম্পানিটি তাদের এই আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি কতদিন ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়ে গেছে : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়ে গেছে : ট্রাম্প
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত’ হয়ে যাবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন।

আরজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্স ও এএফপিকে জানিয়েছেন, চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, এই চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট নিজে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন। কারণ তিনি দেখাতে চেয়েছেন, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও সফল সমাধানে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

চুক্তির নথি কবে প্রকাশ করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি সম্ভবত খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই সবাই চুক্তির বিস্তারিত জানতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গালিবফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের দীর্ঘ প্রতিরোধের পর দেশটি চূড়ান্ত বিজয়ের পথে বড় একটি অগ্রগতি অর্জন করেছে। এদিকে ট্রাম্প ফ্রান্সে সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে জি৭ সম্মেলনে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পাশাপাশি চুক্তির খসড়াও শিগগির প্রকাশ করা হবে।

মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত বিবরণ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা এতে কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে সে সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।

উভয় পক্ষই জানিয়েছে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মেয়াদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি নিয়ে আলোচনা হবে।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘শুক্রবার হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’ অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেছেন, ‘এই ৬০ দিনের মেয়াদে জলপথে যান চলাচলের ওপর কোনো টোল আরোপ করা হবে না।’

এদিকে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে।’

কিন্তু ভ্যান্স তা অস্বীকার করে মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন বা তার মিত্রদের পক্ষ থেকে এক ডলারও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়নি বা জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ানো হয়নি।’ ভ্যান্স আরো বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি একটি সাধারণ নথি। প্রায় দেড় পৃষ্ঠার। এর বিস্তারিত বিবরণ শীঘ্রই প্রকাশ করা হতে পারে।’

পাকিস্তানে গুলিতে কিশোরীর মৃত্যু, স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে গুলিতে কিশোরীর মৃত্যু, স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

পাকিস্তানে গুলিতে নিহত ৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশু হানিয়া আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।

গত ১০ জুন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল শহরে হানিয়া ও তার পরিবারকে বহনকারী একটি ভাড়া করা গাড়ি সশস্ত্র ডাকাতদের কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

পাঞ্জাব পুলিশের দাবি, সন্দেহভাজনরা প্রথমে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুলবশত গুলি ছোড়েন, যা হানিয়ার গায়ে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ও বড় ভাইও আহত হন।

তবে হানিয়ার বাবা এসবিএস উর্দুকে জানিয়েছেন, পুলিশই প্রথম গুলি চালিয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, ‘ঘটনাটি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সবাই প্রকৃত ঘটনা জানতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আশা করে, এ বিষয়ে যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।’

পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল অনুসরণ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করছে।

হানিয়ার মৃত্যু অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান, উভয় দেশেই শোকের সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে তার স্কুলের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ খান বলেন, ‘হানিয়া ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও মিশুক। তার অনেক বন্ধু ছিল এবং সবাই তাকে ভালোবাসত।’

তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। বিশেষ করে হানিয়ার সহপাঠীরা তার মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত। এদিকে অস্ট্রেলীয় সরকার পরিবারটিকে কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে।
 

ইসরায়েলে ইরানের পাল্টাহামলার সম্ভাবনা কতটা? | কালের কণ্ঠ