• ই-পেপার

দেড় মাসের প্রধানমন্ত্রী, আজীবন ভাতা পাবেন লিজ ট্রাস

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

অনলাইন ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

সুইজারল্যান্ডের নিডওয়ালডেনে অবস্থিত বিলাসবহুল পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বলছে, এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে কাতার ও পাকিস্তান।

কাতারের মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে এই বৈঠকগুলো একটি ‘সমগ্র ও স্থায়ী চুক্তির’ দিকে নিয়ে যাবে। যা যৌথ সমঝোতা স্মারকলিপিতে (এমওইউ) অন্তর্ভুক্ত সব বিষয়কে সমাধান করবে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সব দিক নিয়ে কাজ করবে।

এছাড়া, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য ফলো-আপ গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যারা অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্নের দিকে কাজ করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি সব পক্ষের ‘সদিচ্ছার ভিত্তিতে’ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে, যার লক্ষ্য একটি সমন্বিত ও টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তারা পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়, যা আলোচনাকে সফল করতে সহায়তা করবে। মন্ত্রণালয়ের মতে, সংঘাত ও বিরোধ সমাধানের সর্বোত্তম পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।

এর আগে বুর্গেনস্টে ইরানের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত আলোচনার আগে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। 

বৈঠকের সময় উভয় পক্ষকে করমর্দন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে দেখা যায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তুতি, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আলোচনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ড

মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক
সংগৃহীত ছবি

সুইজারল্যান্ডের নিডওয়ালডেনে অবস্থিত বিলাসবহুল পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টে ইরানের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত আলোচনার আগে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী  শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।

বৈঠকের সময় উভয় পক্ষকে করমর্দন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে দেখা যায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তুতি, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আলোচনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুদ্ধে ইরানকে জয়ী মনে করে ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধে ইরানকে জয়ী মনে করে ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি
ফাইল ছবি

সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর ইরানই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে এসেছে। ইসরায়েলের একটি নতুন জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। 

জরিপে ইসরায়েলের বিপুলসংখ্যক নাগরিক বিশ্বাস করে যে যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ইরান। 

হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম এবং আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথভাবে পরিচালিত এই জরিপটি ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে তিন হাজার ৬৪৪ জন উত্তরদাতার ওপর চালানো হয়।

জরিপের ফলাফল দেশটির জনমনে বিরাজমান উদ্বেগের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯২ দশমিক ১ শতাংশ বলেছে, ইরান এই সংঘাত থেকে বিজয়ী হয়েছে বা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করে, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এ ঘটনায় দুর্বল হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের সমর্থকদের মধ্যেও একই ধরনের ধারণা প্রবল। ওই শিবিরের ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ইরানই এই সংঘাতে বিজয়ী হয়েছে।

জরিপে আরো দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তির বিরোধিতা ব্যাপক। ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন, যেখানে মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ এটিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন—ট্রাম্পকে মেলোনির পরামর্শ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন—ট্রাম্পকে মেলোনির পরামর্শ
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহজাত মিত্র। কিন্তু বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপ ও ন্যাটোর কাছে সাহায্য চেয়েও না পেয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর থেকেই ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আগের সেই হৃদ্যতা আর নেই।

যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর গত সপ্তাহে ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যে একসময়ের সবচেয়ে কাছের মিত্র ইতালির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন তলানিতে। দুই নেতার সাম্প্রতিক কথার লড়াই সে সম্পর্ককে আরো তিক্ত করেছে।

শুরুটা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পই। ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠক চলাকালে ইতালির লা সেভেন টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘তিনি (ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি) আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি খুব বেশি করে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। আমি ছবিটা তুলতামই না, কিন্তু তার জন্য আমার খারাপ লেগেছিল।’

মেলোনিও কড়া ভাষায় এর প্রতিক্রিয়া জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া। সত্যি বলতে আমি হতবাক।’ মেলোনি ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আপনাকে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, ইতালি এবং আমি কখনো মিনতি করি না।’ ট্রাম্পের মন্তব্য ইতালিকে এতটা ক্ষুব্ধ করেছে যে এর প্রতিক্রিয়ায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও তাজানি তার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে শান্ত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে উল্টো আগুনে ঘি ঢেলেছেন। শনিবার নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে এক স্ট্যাটাসে ট্রাম্প তার পুরনো দাবিই পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠক চলাকালে আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।’

ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনির জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তার ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে মেলোনির অস্বীকৃতির কারণেই তার জনপ্রিয়তা কমছে। ট্রাম্পের ইঙ্গিত ছিল, জনপ্রিয়তা ফিরে পেতেই মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যাকুল ছিলেন।

তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী আবারও কড়া ভাষায় ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবারই ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মেলোনী ট্রাম্পের দাবিকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। ফেসবুকে মেলোনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এই ক্রমাগত ও অহেতুক আক্রমণগুলো একেবারেই অর্থহীন।’ মেলোনি দাবি করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই তার জনপ্রিয়তায় কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন ভূমিকাই তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ। আর ইতালির স্বার্থ রক্ষা করতেই তিনি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দেননি।

মেলোনি ফেসবুকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে  লিখেছেন, ‘যাই হোক না কেন, আমার জনপ্রিয়তা আপনার চিন্তার বিষয় নয়। আমি পরামর্শ দেবো, আপনি আপনার নিজের জনপ্রিয়তার দিকেই মনোযোগ দিন।’

ছবি তোলা বিতর্কে মেলোনি অবশ্য তার দেশের সমর্থন পেয়েছেন। শনিবার ইতালির একটি কট্টর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম তাদের প্রথম পাতার শিরোনাম করেছে, ‘ট্রাম্প একজন আস্ত গাধা।’

মেলোনিকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের উপর্যুপরি আক্রমণ, ইতালির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যাবে। অথচ ইতালি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ইউরোপিয় মিত্র। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের অভিষেকের সময় ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে একমাত্র মেলোনিই উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে নানা ইস্যুতে একজন আরেকজনের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। কিন্তু এখন তাদের মধ্যে প্রকাশ্য বৈরিতা বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

দেড় মাসের প্রধানমন্ত্রী, আজীবন ভাতা পাবেন লিজ ট্রাস | কালের কণ্ঠ