গোপনীয় ও স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। আদালতের কাছে তিনি অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের কাছে রাখার দায় মেনে নেন। এই অপরাধের কারণে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া জরিমানা হিসেবে তিনি ২২.৫ লক্ষ মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত জন বোল্টন গোপন তথ্য ফাঁসের ১৮টি অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও শুক্রবার (২৬ জুন) আদালতে তিনি একটি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তার ডায়েরিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বেশ কিছু সর্বোচ্চ গোপনীয় স্তরের নথি পাওয়া যায়। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ের কিছু সংবেদনশীল তথ্য তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন বলেও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে বিচারকের সামনে বোল্টন বলেন, ‘আমি ভুল করেছি, মাননীয়। আমি এর জন্য দুঃখিত।’
শুনানি শেষে মার্কিন অ্যাটর্নি কেলি হেইস সাংবাদিকদের বলেন, ‘বোল্টন জানতেন কিভাবে গোপনীয় তথ্য সামলাতে হয় এবং এর অপব্যবহারের ফলে জাতীয় নিরাপত্তার কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আইন লঙ্ঘন করে তিনি দেশের নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন।’ অন্যদিকে, বোল্টনের আইনজীবী অ্যাবে লোয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, তার মক্কেল নিজের ভুলের দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত নেতার মতো কাজ করেছেন। এর ফলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় সরকারের অনেক সম্পদ বেঁচে গেছে। তবে এই প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ট্রাম্প নিজেও ফ্লোরিডার ম্যানশনে গোপন নথি নিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছিলেন, কিন্তু নিজের আচরণের জন্য কখনো জবাবদিহি করেননি। সাবেক উপদেষ্টার এই দোষ স্বীকারের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আশা করি, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন থেকে বরখাস্ত হন জন বোল্টন। ২০২০ সালে তার প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেন্ড’-এ তিনি ট্রাম্পের ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত অজ্ঞতার তীব্র সমালোচনা করেন। তৎকালীন হোয়াইট হাউস বইটির প্রকাশনা বন্ধ করতে মামলা করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। এর পরপরই মার্কিন বিচার বিভাগ বোল্টনের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য অপব্যবহারের তদন্ত শুরু করে।
আইনি চুক্তি অনুযায়ী, কারাদণ্ড ও জরিমানার পাশাপাশি বোল্টনকে ১০০ ঘণ্টা সমাজসেবামূলক কাজ করতে হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ২৮ অক্টোবর আদালত এই মামলায় বোল্টনের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবে।




