বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালুর খবরে মিষ্টি বিতরণ করেছে কলকাতার ব্যবসায়ীরা। শনিবার (২৭ জুন) কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
বিকেলে কলকাতার মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বৈঠকে আলোচনা করে, বাংলাদেশি পর্যটকদের কীভাবে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে জোরদার করা যায় এবং কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে শুরু করে পরিকাঠামোর বিষয়েও পর্যালোচনা করা হয়।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, দুই বছর আগে বাংলাদেশিরা যে কলকাতা দেখে গিয়েছিলেন, এবারও যেন সেই পরিচিত কলকাতার স্বাদ পান তারা। কোনও ভয় বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই যাতে পর্যটকরা কলকাতায় আসতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কলকাতার নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট-সহ পর্যটন নির্ভর এলাকাগুলি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় অনেককে ঋণ নিতে হয়েছে, কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন, আবার অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
ভিসা চালুর খবরে নিউ মার্কেট এলাকাতেও এখন খুশির আবহ। হোটেল ব্যবসায়ী, পোশাক বিক্রেতা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, মোবাইল সিম বিক্রেতা থেকে শুরু করে হাতে টানা রিকশাচালকরাও আশাবাদী—আবার জমজমাট হবে এই এলাকা।
মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ সাহা বলেন, দুই বছর আমরা খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম। এবার সে পরিস্থিতি কাটার আশা করছি। বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক তৈরি করে নিউ মার্কেটকে আবার পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুস্তাজ জানান, বাংলাদেশি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রায় ৩৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে পর্যটকদের কোনও সমস্যা হলে দ্রুত সাহায্য করা যায়। অনেক সময় চলন্ত গাড়িতে ব্যাগ বা পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছেন পর্যটকরা। সিসিটিভির সাহায্যে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পেরেছি। সেসব উদ্ধার করা গিয়েছিল।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ব্যবসা প্রায় থমকে গিয়েছিল। নিউ মার্কেটের ব্যবসা কমেছিল প্রায় ৬০ শতাংশ এবং বড়বাজারেও এর প্রভাব পড়েছিল। ফলে ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে শুধু ব্যবসা নয়, কলকাতার পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন সুদিন ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা।




