• ই-পেপার

ধনখড়ের ইস্তফা, পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত দায়িত্বে মণিপুরের রাজ্যপাল

সুইজারল্যান্ডে বৈঠক

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ
রয়টার্স ছবি

সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে লেবাননের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে মতপার্থক্য এখনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

রবিবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভ্যান্স জানান, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমরা বড় ধরনের অগ্রগতি দেখেছি। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি, যেখানে সবাই একসঙ্গে কাজ করে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে।’

এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং বিস্তৃত নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।

আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিতে জোর

ভ্যান্স বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন পুরো অঞ্চলে একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে লেবাননে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখাও অন্তর্ভুক্ত। সেখানে (লেবানন) যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’

তবে তিনি স্বীকার করেন যে এ ধরনের সমঝোতা বাস্তবায়ন অনেক সময় ‘কিছুটা জটিল ও বিশৃঙ্খল’ হয়ে থাকে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ট্রাম্প মার্কিন আলোচকদের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এর আগে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থততায় এবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

এবারের আলোচনায় যেভাবে ভেস্তে যেতে পারে শান্তিচুক্তি

অনলাইন ডেস্ক
এবারের আলোচনায় যেভাবে ভেস্তে যেতে পারে শান্তিচুক্তি
রয়টার্স ছবি

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থততায় এবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে শান্তিচুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা অতীতের আলোচনাগুলোর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক চুক্তি আলোচনায় অভিজ্ঞ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ ব্রাইজা। 

তিনি বলেন, ‘এই আলোচনাকারী দলটি অতীতে আমি যেসব দলে কাজ করেছি, সেগুলোর মতো নয়। সাধারণত আমরা আগে থেকেই বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলতাম।’

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জটিল একটি বিষয় উল্লেখ করে ব্রাইজা বলেন, ‘মার্কিন দলের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি বিশেষজ্ঞের ঘাটতি রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানি প্রতিনিধিদলের পরিস্থিতি ভিন্ন। আমার মনে হয় না মার্কিন দলে সেই পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। কিন্তু ইরানিদের আছে।’

এ ছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আমরা জানি সেগুলো সম্ভবত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় আসবে বলে জানান তিনি।

ব্রাইজা মার্কিন আলোচক দলকে ‘খুবই ছোট, সীমিত এবং ঘনিষ্ঠ পরিসরের’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের মতো কোনো উচ্চপর্যায়ের নেতা সাধারণত তখনই আলোচনায় যুক্ত হতেন, যখন প্রায় সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে আসত।’

কিন্তু আলোচনা চলমান অবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ খুবই বিরল। তার মতে, এর কারণ হলো কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চাইবেন না যে আলোচনা ব্যর্থ হলে তার ওপর দায় বর্তাক।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ ব্রাইজা বলেন, ‘সাধারণত এমন নেতারা তখনই যুক্ত হন, যখন চুক্তি প্রায় সম্পন্ন। কারণ আলোচনা যদি মাঝপথে ভেস্তে যায়, তাহলে তার দায় তারা নিতে চান না।’

এদিকে সুইজারল্যান্ডের নিডওয়ালডেনে অবস্থিত বিলাসবহুল পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে কাতার ও পাকিস্তান।

ভারতে সি-ফুড কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৭ নারী শ্রমিক

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে সি-ফুড কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৭ নারী শ্রমিক
সংগৃহীত ছবি

ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি বেসরকারি সামুদ্রিক খাদ্য (সি-ফুড) প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই কারখানার অন্তত ৭ নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৬৭ জনের বেশি আহত শ্রমিক বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

রবিবার তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ামের কাছে কন্নিগাইপাইর এলাকায় অবস্থিত ‘সেন্ট পিটার্স পল সি-ফুডস এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় কারখানায় প্রায় ১২০ জন শ্রমিক অবস্থান করছিলেন। যাদের বেশির ভাগই ছিলেন আসাম, ওডিশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা নারী শ্রমিক।

এদিন কারখানাটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শ্রমিক নিজ নিজ আবাসনে ছিলেন। কিন্তু বিস্ফোরণে গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যেও অনেকে আহত হন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে দ্রুত আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক শ্রমিক শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মুখ ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণও হয়। ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিরুভাল্লুর জেলার জেলা প্রশাসক এস. কবিতা জানান, ঘটনার পরপরই আহত ৬৭ জন শ্রমিককে স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৬ জনকে ভেলস হাসপাতালে এবং ২১ জনকে ভেঙ্কটেশ্বরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, গুরুতর অবস্থায় ৯ জনকে চেন্নাইয়ের সরকারি স্ট্যানলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিন সদস্যের কমিটি গঠন 

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। তিনি এই কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন এবং তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্যসচিব এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক।

আর্থিক সহায়তা ঘোষণা

এ ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারের জন্য ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ রাজ্যে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
 

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

অনলাইন ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

সুইজারল্যান্ডের নিডওয়ালডেনে অবস্থিত বিলাসবহুল পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে কাতার ও পাকিস্তান।

কাতারের মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে এই বৈঠকগুলো একটি ‘সমগ্র ও স্থায়ী চুক্তির’ দিকে নিয়ে যাবে। যা যৌথ সমঝোতা স্মারকলিপিতে (এমওইউ) অন্তর্ভুক্ত সব বিষয়কে সমাধান করবে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সব দিক নিয়ে কাজ করবে।

এ ছাড়া বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য ফলোআপ গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যারা অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্নের দিকে কাজ করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি সব পক্ষের ‘সদিচ্ছার ভিত্তিতে’ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে, যার লক্ষ্য একটি সমন্বিত ও টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তারা পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়, যা আলোচনাকে সফল করতে সহায়তা করবে। মন্ত্রণালয়ের মতে, সংঘাত ও বিরোধ সমাধানের সর্বোত্তম পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।

এর আগে বুর্গেনস্টে ইরানের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত আলোচনার আগে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। 

বৈঠকের সময় উভয় পক্ষকে করমর্দন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে দেখা যায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তুতি, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আলোচনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ধনখড়ের ইস্তফা, পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত দায়িত্বে মণিপুরের রাজ্যপাল | কালের কণ্ঠ