• ই-পেপার

সৌদি বিমানবন্দরে আবারও ড্রোন হামলা, বিমান বিধ্বস্ত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যানসহ নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যানসহ নিহত ৬
ছবি : রয়টার্স

চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চলার পরেও গাজা উপত্যকায় থামছে না ইসরায়েলি হামলা। শনিবার (২০ জুন) নতুন করে চালানো বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশু ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক ক্যামেরাম্যানসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার সন্ধ্যায় মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বোমা ফেলে ইসরায়েল। এতে আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহসহ তিনজন নিহত হন। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ উইশাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েলি হামলায় আহমেদ উইশাহর ভাই এবং আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহ নিহত হয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনের গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও ছিটমহলটিতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাত ২টার দিকে গাজা শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে প্রথম হামলাটি চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। এ হামলায় জিনা (৪) ও লানা (১৪) নামে দুই বোন নিহত হয়। নিহতদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বাড়িতে বসে ছিলাম, হঠাৎ রকেট এসে আমাদের ওপর পড়ল। আমরা সাধারণ নাগরিক, জীবনে কখনো অস্ত্র ধরিনি। তবে দখলদার বাহিনী আর আলোচনা দল যে যুদ্ধবিরতির কথা বলছে, তা কি আসলেই যুদ্ধবিরতি?’ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এই হামলার ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা একটি সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় আল জাজিরার ওই ক্যামেরাম্যানকে হত্যা করেছে। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ এই সংঘাত ও চলমান যুদ্ধবিরতির সময়কাল মিলিয়ে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।

তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা গণবিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। শনিবার (২০ জুন) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি পুরো দেশে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে গত মে মাসের শুরুতে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে দেশটির প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ‘বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল’ (সিওবি)।

দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর শুক্রবার (১৯ জুন) সরকার প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন সিওবি-র সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ (ব্যক্তিগত মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া) না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর সিওবি-র পক্ষ থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই চুক্তিতে সব খাতের শ্রমিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাপারে অঞ্চলের শ্রমিক গোষ্ঠী ও কোকা চাষিরা এই চুক্তিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। তারা চুক্তি অমান্য করেই রাস্তা অবরোধ ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখনো দেশের প্রায় ৫০টি জায়গায় অবরোধ বহাল রয়েছে।

টানা দেড় মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের কারণে বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজসহ প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এখন পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এখনো অবরোধ ধরে রেখেছে বা সহিংসতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মধ্য-ডানপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ মাত্র সাত মাস আগে বলিভিয়ার ক্ষমতায় বসেন। তার এই জয়ের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটেছিল। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শ্রমিক, কৃষক, খনি শ্রমিক ও শিক্ষকরা তার অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। প্রেসিডেন্টের দাবি, এই বিক্ষোভের পেছনে মাদক-সন্ত্রাসী ও আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের হাত রয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সংগৃহীত ছবি

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে দুর্নীতির অভিযোগে জুরি বিচারের (আদালতের বিশেষ বিচার প্রক্রিয়া) মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) প্রকাশিত আদালতের এক আদেশে এই তথ্য জানা গেছে।

মামলার বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাডো নির্দেশ দিয়েছেন যে, মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বেগোনা গোমেজকে প্রতি মাসে দুই বার আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তিনি যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারেন, সে জন্য স্পেনের সকল সীমান্ত চৌকি এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দরগুলোতে কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে এই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিচারপ্রক্রিয়াটি ঠিক কবে শুরু হবে, তার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে উগ্র ডানপন্থী ঘরানার একটি দুর্নীতিবিরোধী গোষ্ঠীর অভিযোগের ভিত্তিতে গোমেজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে তহবিল আত্মসাৎ, প্রভাব খাটানো ও ব্যবসায়িক লেনদেনে দুর্নীতির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রিদের কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ পদ সৃষ্টি ও তার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গোমেজ প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে নিজের পদের অপব্যবহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও তার স্ত্রী গোমেজ শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। সমাজতান্ত্রিক দল (সোশ্যালিস্ট পার্টি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) গোমেজকে নির্দোষ দাবি করে একটি প্রচারণাও শুরু করেছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোমেজ গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক ও বিচারিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এই মামলাটিসহ বেশ কয়েকটি দুর্নীতি কেলেঙ্কারি স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পরিবার ও তার সাবেক রাজনৈতিক মিত্রদের জড়িয়ে ফেলেছে। 

অন্যদিকে, এই কেলেঙ্কারির জেরে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবি জানালেও, সানচেজ সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তার দাবি, ডানপন্থীরা তার সরকারকে দুর্বল করার জন্যই এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলছে। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর পাশাপাশি সানচেজের সরকারের আরো কয়েকজন সাবেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির তদন্ত চলছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিজের ভাই ও সুরকার ডেভিড সানচেজের বিরুদ্ধেও অনৈতিকভাবে সরকারি চাকরি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিজেদের স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত দাবি করে একসময়ের রক্ষণশীল সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসা পেদ্রো সানচেজের জন্য নিজের পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ঘিরে তৈরি হওয়া এই একের পর এক দুর্নীতি মামলা এখন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানকে ফের হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজে টোল বসানোর ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক
ইরানকে ফের হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজে টোল বসানোর ইঙ্গিত

যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান ব্যর্থ হলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের এতদিনের খরচের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই টোল আদায় করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে টোল বসানো হবে। টোলের অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে যাবে। 

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ বা অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছে মার্কিন বাহিনী। এই সুরক্ষার পেছনে ওয়াশিংটনের যে বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে, তা উশুল করতেই এই টোল আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের টোল বসানোর এমন হুমকি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।