• ই-পেপার

চুমুকাণ্ডে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী!

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ গরমের কারণ কী

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ গরমের কারণ কী
সংগৃহীত ছবি

প্রতিবছরের মতো এবারও তীব্র গরম দেখা দিয়েছে ইউরোপের দেশগুলোতে। সাধারণত বছরের মে-জুন মাসে প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে তাপমাত্রা। তবে এবার ফ্রান্স ও স্পেনের তাপমাত্রার এ সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে এ পর্যন্ত ফ্রান্সে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে।

এদিকে ইউরোপের বিশাল অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ‘হিট ডোম বা তাপ বলয়’ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক গরমের পেছনে কাজ করছে ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ সপ্তাহেও ইউরোপের বেশিরভাগ অংশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গরমে পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটনার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ওমেগা ব্লক

‘ওমেগা ব্লক’ নামটি এসেছে গ্রিক বর্ণমালার ‘ওমেগা’ (Ω) অক্ষরের আকৃতি থেকে। এ অবস্থায় উষ্ণ ও স্থিতিশীল উচ্চচাপ বলয় দুটি শীতল নিম্নচাপ বলয়ের মাঝখানে আটকে পড়ে, যা দেখতে ওমেগা চিহ্নের মতো লাগে।

সাধারণত জেট স্ট্রিম বা বায়ুমণ্ডলের শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবহাওয়া ব্যবস্থা সরিয়ে নেয়। কিন্তু ওমেগা ব্লকের সময় এই প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকে থাকে। ফলে কোনো এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। আকাশে মেঘ কম থাকে এবং সূর্যের তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়। এতে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে উচ্চচাপ বলয়ের দুই পাশে থাকা নিম্নচাপ অঞ্চলে তুলনামূলক শীতল ও বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়া দেখা যায়। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরম অনুভূত হলেও উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক ঠাণ্ডা ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর কারণ দেশটি উষ্ণ উচ্চচাপ ও শীতল নিম্নচাপ বলয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ওমেগা ব্লক সাধারণত তিন থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। তবে কখনও কখনো এটি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্তও থাকতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ওমেগা ব্লকের সংখ্যা বাড়ছে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য নেই। তবে তারা একমত যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপপ্রবাহের ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাস পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

২১ জুন সাধারণত উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন আয়ন বা সবচেয়ে বেশি তাপের দিন হয়। এদিন সূর্যালোকের সময় সবচেয়ে বেশি থাকে এবং সূর্য আকাশে সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে থাকে। ফলে পৃথিবী ওই সময়ে সর্বাধিক সৌরশক্তি পায়, তাই গরম বাড়ার ভিত্তি তৈরি হয়। এতে ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। 

বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, এ বছর একই সময়ে সাহারা থেকে আসা উষ্ণ বায়ু একটি ‘হিট ডোম বা তাপ বলয়’ সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ তাপ বলয় পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের ওপর উষ্ণ বাতাস আটকে রাখছে এবং দিনের পর দিন তাপমাত্রা বাড়তে সাহায্য করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড তাদের নিজস্ব আবহাওয়া কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে গত মে মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করে। অন্যদিকে ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে রেকর্ডকৃত উষ্ণতম মাস হিসেবে মে মাস চিহ্নিত হয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বারা পরিচালিত জলবায়ু সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট ডেটাসেট (সিডিএস) তথ্য অনুসারে, পশ্চিম ইউরোপের বিশাল অংশে অনুভূত তাপমাত্রা এখন ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে। যা অত্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি নির্দেশ করে।

ওই সূত্রটি জানায়, স্পেনে মে মাসে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১০১ জনের মৃত্যু হয়, যা ২০১৫ সালে পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এছাড়া ফ্রান্সে সাত জন ও যুক্তরাজ্যে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। 

দেশে দেশে সতর্কতা জারি

রার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটি বেশ কয়েকটি অঞ্চলে লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে। কিছু অংশে ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

ফ্রান্সের রেল নেটওয়ার্ক প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা ওভারহেড পাওয়ার লাইন এবং ট্রাক প্রসারিত হয়ে ঝুঁকি তৈরি করছে। নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণের জন্য ৩৫০০ কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ৭১টি আন্তঃনগর ট্রেন বাতিল করা হয়। প্যারিসের লুভোর জাদুঘরও কনসার্ট বাতিল করেছে।

জার্মানির বার্লিন ওপেন টেনিস ফাইনাল স্থগিত করা হয়। বার্লিনসহ পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলিতে তীব্র বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি হয়। বেলজিয়ামের নামুর শহরের কাছে পাখিসহ ১৫০টি প্রাণি তাপদাহে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ইতালির বোলোনিয়া, ফ্লোরেন্স, মিলান এবং তুরিনসহ আটটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা   বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি জলবায়ুর একটি বৃহত্তর পরিবর্তনগত প্রবণতার প্রতিফলন।

হিট ডোম বা তাপ বলয়

আবহাওয়াবিদদের মতে, যে ঘটনা আগে জুলাই মাসে ঘটত। তা এখন মে-জুনে ঘটছে। সিভিয়ার ওয়েদার ইউরোপের পূর্বাভাসকারীরা সতর্ক করেছেন,  গ্রিনহাউস গ্যাস ক্রমাগত পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে তোলায় তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ুগত স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১২-১৬° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে।

পর্তুগাল, স্পেন এবং ফ্রান্সসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলগুলোতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রান্সের বিশাল অংশে মাঝারি উচ্চ তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো উত্তরের দেশগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা  ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স এই অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার জন্য একটি হিট ডোম বা তাপ বলয়কে দায়ী করেছে। সিভিয়ার ওয়েদার ইউরোপও একমত, পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের ওপর একটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও শক্তিশালী হিট ডোম অবস্থান করছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী দিনগুলিতে অনেক দেশের জন্য বায়ুপ্রবাহ আরও উষ্ণ হবে, কারণ উপরের স্তরের হিট ডোম আরও তীব্র হবে।

স্বাভাবিক হয়ে উঠছে তাপপ্রবাহ?

এপি বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মতে, বিশ্বব্যাপী ও ইউরোপে ২০২৫ সাল ছিল এযাবৎকালের তৃতীয় উষ্ণতম বছর। বিগত তিন বছর যথাক্রমে ২০২৪, ২০২৩ এবং ২০২৫—বিশ্বব্যাপী এযাবৎকালের উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

গত বছর কয়েক ডজন দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা দেশগুলোকে খরার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দাবানলের সৃষ্টি করেছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। 

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকরা ৮৫৪টি ইউরোপীয় শহর পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, গত গ্রীষ্মে আনুমানিক ২৪ হাজার ৪০০ তাপজনিত মৃত্যুর ৬৮ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ছিল। 

একক তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হলো রুমানিয়া, বুলগেরিয়া, গ্রিস এবং সাইপ্রাস। যেখানে গত বছর ২১ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা ছিল। ফলে আনুমানিক ৯৫০ জনের তাপজনিত মৃত্যু ঘটে। এর অর্থ হলো, প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে দৈনিক প্রায় ১১ জনের মৃত্যু।

পরিচয় লুকাতে পরা হুডিই ধরিয়ে দিল কেতনের খুনিকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পরিচয় লুকাতে পরা হুডিই ধরিয়ে দিল কেতনের খুনিকে
বাঁ থেকে কেতন আগরওয়াল, সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী।

ভারতের পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু সিনেমা না বাস্তব, দ্বন্দ্বে পড়ে যাবেন যে কেউ। বাগদত্তা সিয়া গোয়াল আর তার প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরীর নিখুঁত পরিকল্পনায় কেতনের মৃত্যুর ঘটনা যেন থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন আগরওয়াল আর সিয়া গোয়ালের বাগদান হয়েছিল। প্রস্তুতি চলছিল জমকালো বিয়ে আয়োজনের। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য জয়পুরে ১৭ কোটি টাকায় একটি রাজপ্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল, অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি বিমানও ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু সিয়া গোয়ালের এ বিয়েতে মন ছিল না। তিনি মন দিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী চেতন চৌধুরীকে।

বিয়ের পরিকল্পনা এগিয়ে যেতেই সিয়া আর চেতন মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে সিয়া ভেবেছিলেন দেশের বাইরে কোনো নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে কেতনকে হত্যা করবেন। কিন্তু সিয়া একা এটা করতে সাহস পাননি। ট্র্যাকিং কেতনের খুব পছন্দ ছিল। সেই পছন্দকে কাজে লাগিয়েই সিয়া পাল্টে নেন হত্যা পরিকল্পনা। গত ৩১ মে কেতন আর সিয়া পুনের লোহাগড় দূর্গে ট্র্যাকিং করতে যান। কিন্তু সেবার লোকজনের ভিড়ে সিয়া হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি।

গত ৬ জুন তাদের প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বালি যাওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে আরো দুই বন্ধু ছিল বলে সিয়া বালি যেতে চাননি। তবে প্রকাশ্যে সেটা বলেনওনি। বালি যেতে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মুম্বাইয়ের একটি রেস্টুরেন্টে নাশতা খেতে থামেন তারা। এক ফাঁকে সিয়া কেতনের ব্যাগ থেকে তার পাসপোর্টটি চুরি করে ছিঁড়ে টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে দেন। মুম্বাই এয়ারপোর্টে পৌঁছে কেতন দেখেন তার পাসপোর্ট নেই। ফলে তাদের বালি ট্রিপ বাতিল করতে হয়। বালি যেতে না পারার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ১৪ জুন তারা আবারও লোহাগড় দুর্গে যান। সেদিনও সিয়া কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ট্র্যাকার কেতন ঝোপঝাড় ধরে পতন ঠেকান। সন্দেহ থেকে নিজেকে বাঁচাতে সিয়া ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করে কেতনকে জড়িয়ে ধরেন। সিয়া বলেন, সাপের হাত থেকে বাঁচাতেই তিনি কেতনকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেতনেরও সন্দেহ হয়নি।

১৯ জুন ছিল সিয়ার ২০তম জন্মদিন। জন্মদিনকে সামনে রেখে ১৮ জুন আবার তারা লোহাগড় দুর্গে যান। একা একা খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়ে সিয়া এবার আর কোনো ঝুঁকি নেননি। ডেকে নেন তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকেও। তারা দুজন মিলে প্রথমে কেতনকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন। তারপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ৪০০ ফুট গভীর খাদে।

ভেততে ভেতরে খুনের পরিকল্পনা করলেও ওপরে ওপরে সিয়া দারুণ প্রেমের অভিনয় চালিয়ে যান। তার ইনস্টাগ্রামজুড়ে ছিল হবু বরের প্রতি ভালোবাসার গদগদ প্রকাশ। বিয়ের প্রস্তাব, ফুল উপহার, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে নাচ, ‘অফিশিয়ালি টেকেন’ লেখা ট্যাগ- সিয়ার ইনস্ট্রাগ্রাম অনুসরণ করলে কেউ বুঝতেই পারবেন না, তার মনে কী আছে।

ফেব্রুয়ারিতে বাগদানের ঠিক এক মাস পর, সিয়া ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে মোমবাতি জ্বালানো কেকের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, ‘আমার মন তার ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার এক মাস পূর্তি উদযাপন’, সেই পোস্টে তিনি কেতনকে ট্যাগও করেছিলেন। মে মাসের আরেকটি পোস্টে দেখা যায় কেতন সিয়াকে ফুল দিচ্ছেন, যার ক্যাপশনে সিয়া লিখেছিলেন, ‘পছন্দ হ্যায় তুমহে' (তোমাকে পছন্দ করি)’। এরপর তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার প্রকাশ দেখান। সিয়া কেতনের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি রিপোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাকে (সিয়াকে) দেখানো হয়েছিল, যার ক্যাপশন ছিল ‘দ্যাট স্মাইল’ এবং সঙ্গে ছিল একটি হার্টের ইমোজি।

১৯ মে সিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জন্মদিনের ক্ষণগণনার পোস্ট দেন, যেখানে সিয়া ও কেতনকে একটি রোমান্টিক গানের তালে নাচতে ও ঘুরতে দেখা যায়।

লোহাগড় দুর্গে কেতনের পরে যাওয়াকে প্রথমে দুর্ঘটনা হিসেবে ভাবা হয়েছিল। সিয়া পুলিশ ও কেতনের পরিবারের সবাইকে বলেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে কেতন পরে গেছেন। কিন্তু পুলিশ ও পরিবার দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পারছিলেন না কিছুতেই। অনেকগুলো প্রশ্ন দুর্ঘটনাকে আড়াল করে সন্দেহকে সামনে আনে। বালিতে যাওয়ার পথে মূল্যবান সব কিছু রেখে শুধু কেতনের পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া, বারবার তাদের লোহাগড় দুর্গে যাওয়া, কেতনের মতো অভিজ্ঞ ট্র্যাকারের ৪ দিনের মধ্যে দুইবার পরে যাওয়া—এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছিল পুলিশ। চার দিনের মধে দ্বিতীয়বার লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার কারণ হিসেবে সিয়া কেতনের পরিবারকে বুঝিয়েছিলেন, আগামী দিনগুলোতে বিয়ে ও ব্যবসার কাজে তাদের ব্যস্ততা বাড়বে তাই ১৯ জুন তার জন্মদিন উদযাপনের অংশ হিসেবে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতেই তারা ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে যান। এই যুক্তি অবশ্য সন্তানহারা পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পাারেনি। তারা আরো গভীরভাবে সন্দেহ করতে থাকেন।

সন্দেহ হলেও প্রমাণ ছাড়া কাউকে ধরতে পারছিল না পুলিশ, কোনো সিদ্ধান্তেও আসতে পারছিল না। একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের সন্দেহকে নিশ্চিত করে। লোহাগড় দুর্গে সিয়া আর কেতন যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন ২০-৩০ ফুট পেছন থেকে শর্টস পরা এক যুবক তাদের অনুসরণ করছিলেন। সিয়া একবার পেছন ফিরে সে যুবককে দেখেনও। তখন সে যুবক চট করে বসে পড়েন, যাতে কেতন তাকে দেখতে না পান। সেই যুবক একটি হুডি পরেছিলেন, যাতে তার চেহারা দেখা না যায়। কিন্তু চেহারা আড়াল করতে পরা সে হুডিই খুনির চেহারা সামনে নিয়ে আসে।

৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমে ট্র্যাকিং ট্রেইলে কেউ হুডি পরে থাকবে কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুলিশ পৌঁছে যায় খুনির কাছে।

সন্দেহকে নিশ্চিত করতে পুলিশ সিয়া ও চেতনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল কল রেকর্ড অনুসন্ধান করে। তখনই পুলিশ বুঝতে পারে, ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়।’ গত নভেম্বরে এক ব্যাবসায়িক বৈঠকে পরিচয়ের পর থেকে সিয়া আর চেতন সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। তারপর থেকে গত সাত মাসে তারা ২ হাজার ৪টি টেলিফোন কলে ২৩৮ ঘণ্টা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন। ২২ বছর বয়সী চেতন শুকনো ফলের ব্যবসা করতেন। পুনের একটি সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান সিয়াও একটি বেকারি চালাতেন। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনার ৫ দিন পর ২৩ জুন সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনই পুলিশেরে কাছে তাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

২৪ জুন পুনের একাট আদালত তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। 

কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল পুনের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী। পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাকসেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। পড়াশোনা শেষে বিদেশ থেকে ফিরে কেতনও পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন। কেতন ছিলেন সাকসেস গ্রুপের পরিচালক ও চিফ মার্কেটিং অফিসার। ২৬ বছর বয়সী ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বিশাল আগরওয়াল এ ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। তার একটাই আফসোস, বিয়ে করতে না চাইলে বললেই হতো। এভাবে কেতনকে মেরে ফেললো কেন?

শুধু কেতনের বাবা নয়, এ প্রশ্ন এখন ভারতের মানুষের মুখে মুখে। বাগদত্তা ও তার প্রেমিকের পরিকল্পনায় কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে মানুষের বিশ্বাসের ভিত।

বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ পারমাণবিক অস্ত্র : রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ পারমাণবিক অস্ত্র : রাশিয়া
ছবি : রয়টার্স

নতুন করে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কার মধ্যে ক্রেমলিন বলেছে, বিশ্বকে বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করার একমাত্র রক্ষাকবচ হলো পারমাণবিক অস্ত্র।

বুধবার ক্রেমলিন জানায়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট-এর মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অস্ত্র মোতায়েনের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাগুলোও কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ পর্যায়ের সামরিক আলোচনা আবার শুরু করতে সম্মত হলেও, এখন পর্যন্ত নিউ স্টার্ট চুক্তি নবায়ন বা এর বিকল্প কোনো নতুন চুক্তির উদ্যোগ দেখা যায়নি। মস্কোতে এক পররাষ্ট্রনীতি ফোরামে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানোর মতো আর কিছু নেই। এটিই বিশ্বকে বড় ধরনের যুদ্ধ থেকে রক্ষা করছে।’ পেসকভ আরো বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে এমন অস্ত্র তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলেছেন। এ কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে চীন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাশিয়ার দাবি, নতুন কোনো চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও এতে যুক্ত করতে হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিগুলোর অস্ত্র মোতায়েন সীমিত করার কোনো কার্যকর চুক্তি আর নেই।

২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির অধীনে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৫০টি মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি পেত। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।

হামাস নেতার সঙ্গে কথা বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
হামাস নেতার সঙ্গে কথা বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ কথা জানিয়েছে।

ইরানের টেলিভিশন জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।

স্মারকে গাজার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, গাজা ও লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। হামাস এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছে, এটি গাজায় চলমান সহিংসতা কমাতে সহায়তা করবে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের সমর্থক। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে ফিলিস্তিন ইস্যু দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফোনালাপে আরাগচি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বৈধ জাতীয় অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

এদিকে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে যান আরাগচি। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।


 

চুমুকাণ্ডে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী! | কালের কণ্ঠ