kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

আফগানিস্তানের ৭৫ শতাংশ খনিই তালেবান ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে

অনলাইন ডেস্ক   

১২ মে, ২০২১ ১২:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানিস্তানের ৭৫ শতাংশ খনিই তালেবান ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে

আফগানিস্তানের খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণায়য়ের (এমওএমপি) একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ৭৪৮টি খনির ভেতরে প্রায় ২৮৩টি তালেবানরা নিয়ন্ত্রণ করে। ২৮১টির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সরকারের হাতে। আর বাকিগুলো প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করছে।

মন্ত্রণালয়টি দেশব্যাপী খনির সাইটগুলোর তথ্য সংগ্রহ করেছে। এমওএমপির একটি সূত্র ফাহাজক আফগান নিউজকে সেই তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য সরবরাহ করেছে। তিনি বলেন, ২০১৮ এবং ২০২০ সালের মধ্যে এতথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্যের মধ্যে খনিজ ক্ষেত্রগুলোর সংখ্যা, খনিগুলোর অবস্থান, যারা সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে এবং খনিজগুলোর ধরন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন খনির অঞ্চলগুলো হচ্ছে কাবুলে ১৩৯, বাদাখশানে ৩, ফারাহে ২৪, লোগরে ১৯, খোঁজে ১৩ এবং অন্য ১১টি প্রদেশে ৪৯টি।

তালেবানদের নিয়ন্ত্রণাধীন খনির সাইটগুলো হচ্ছে বাদাখশানে ১৬৫, হেলমান্দে ১, নূরস্তানে ১১, কুনজিতে ও উরুজগানে আটটি করে এবং বাকি ২১টি প্রদেশ মিলিয়ে ৭২টি।

একইভাবে, শক্তিশালীদের নিয়ন্ত্রণাধীন খনির সাইটগুলোর মধ্যে কনৌড়ের ১২৭, সমানগাঁয় ১০, বাগদানে ১০, ময়দানের ওয়ার্ডে নয়টি, কুন্দুতে ছয় এবং অন্য সাতটি প্রদেশের ২৭টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সরবরাহকৃত তথ্য অনুসারে, ১৪টি এলাকায় খনির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে, একটি সাইটে ৪০ বছর ধরে, ৩০ বছর ধরে তিনটি সাইটে, ২০ বছর ধরে ছয়টি সাইটে, দুটি সাইটে ১৮ বছর ধরে এবং অন্য তিনটি সাইটে ১৫ বছর ধরে খনন চলছে।

তবে, ১৪টি এলাকায় খনির কোনো কাজ করা হয়নি, এখানে উত্তোলন একটি স্থানে স্থগিত করা হয়েছে এবং অন্যটি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, ১৪টি এলাকাতেই উত্তোলন হচ্ছে।

১১২টি অঞ্চলের কাজ সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের সারণীতে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। বিগত বছরগুলোতে ১৩টি অঞ্চলে, ১২৭টি অঞ্চলে বহু বছর ধরে এবং চারটি অঞ্চলে মাঝে মাঝে উত্তোলন অব্যাহত ছিল। বাঘলান প্রদেশের নাহরাইন জেলার কয়লা খনিটির একটি চুক্তি হাশমি গ্রুপ অব কম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল। তবে সাইটে বর্তমানে কাজ স্থগিত করা হয়েছে। ঠিকাদারকে পাওনা পরিশোধ না করা এবং মন্ত্রণালয়ের দ্বারা কম্পানির কাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করতে পারায় এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। তবুও, ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা অবৈধভাবে সাইটটি খনন করে চলেছেন।

উল্লেখ্য, দেশটির খনিজ সম্পদের মধ্যে নির্মাণ সামগ্রী (খনিজ ও জিপসাম), কয়লা, ক্রোমাইট, সোনা, ফ্লোরাইট, লবণ, ট্যালক, নেফ্রাইট, রুবি, বিরুজ, পান্না এবং অন্যান্য মূল্যবান পাথরের খনিতে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এই সাইটগুলোতে স্থানীয় প্রভাবশালী এবং জঙ্গিরা অবৈধভাবে খনন করেছে।
সূত্র : ফাহাজক আফগান নিউজ



সাতদিনের সেরা