• ই-পেপার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

কলম্বিয়ার নির্বাচনে জয়ের পথে ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থী

অনলাইন ডেস্ক
কলম্বিয়ার নির্বাচনে জয়ের পথে ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থী
ছবি : সংগৃহীত।

কলম্বিয়ার নির্বাচনে জয়ের পথে ট্রাম্প-সমর্থিত আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা গেছে, ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্ডো দে লা এস্পিয়েলা অল্প ব্যবধানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে আছেন। তার জয় হলে দেশের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতা মোকাবেলার নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত দে লা এসপ্রিয়েল্লা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদক পাচার ও অপরাধ দমনে সামরিক অভিযান জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বামপন্থী প্রার্থী ইভান স্যাপেদাকে পরাজিত করার পথে রয়েছেন। দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটি এমন একটি অধ্যায়, যা নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সুযোগে ভরপুর একটি কলম্বিয়া গড়ার স্বপ্নে বিশ্বাসী লাখো মানুষের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্মিত।’

রানঅফ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দে লা এসপ্রিয়েলা পেয়েছেন প্রায় ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট আর সেপেদা পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে সেপেদা এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক ফলাফল ‘এখনও আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত নয়’। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে, আমরা সেটিকেই স্বীকৃতি দেব।’ 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সাধারণত প্রাথমিক ফলাফলের তুলনায় খুব সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়।

ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা দে লা এসপ্রিয়েলা ওই এলাকায় ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনার ফল প্রকাশের পর তিনি উপকূলীয় শহর বারানকিলায় হাজারো সমর্থকের সমাবেশে ভাষণ দেন। নিজেকে ‘এল তিগ্রে’ (বাঘ) নামে পরিচয় দেওয়া দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আজ রাতটি জাতির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আজ একটি নতুন যুগের শুরু, একটি নতুন ব্যবস্থার সূচনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি সবার প্রেসিডেন্ট হব, যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা অন্য প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। সবার জন্যই আমি কাজ করব।’ দে লা এসপ্রিয়েলা দেশের ১৯৯১ সালের সংবিধান রক্ষা ও তা মেনে চলার অঙ্গীকারও করেন।

দে লা এসপ্রিয়েলার জয়ের খবর আসার পর তার সমর্থকেরা হলুদ রঙের কলম্বিয়া ফুটবল দলের জার্সি পরে এবং জাতীয় পতাকা হাতে উৎসব করেন। তারা গান গেয়েছেন, নেচেছেন এবং আতশবাজি ফুটিয়েছেন। এ সময় তারা ‘স্বদেশের জন্য দৃঢ় থাকো’ ও ‘পেত্রো, বিদায়!’ স্লোগান দেন। অনেক সমর্থক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মতো টুপি পরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল, ‘কলম্বিয়াকে আবার মহান করে তোলো!’ ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তিনি বিশাল ব্যবধানে জিতেছেন।’

দে লা এসপ্রিয়েলার জয়ের খবরে তার সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।  অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইভানের  সমর্থকেরাও বারানকুইলার রাস্তায় জড়ো হন। তারা অল্প ব্যবধানের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে, যদি কোনো পক্ষ ফলাফল মেনে না নেয়, তাহলে দেশে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

রবিবার গভীর রাতে কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দে লা এসপ্রিয়েলার জয়ে ক্ষুব্ধ বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পোড়ায় এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা কে?

আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে আসার আগে তার কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না। আইনজীবী হিসেবে তিনি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব এবং কলম্বিয়ার আলোচিত প্রতারক ডেভিড মুরসিয়া গুজমানের পক্ষে কাজ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এটি তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ ছিল। নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে তার সঙ্গে নায়িব বুকেলের তুলনা করা হয়।

নির্বাচনী সমাবেশ ও সামাজিক মাধ্যমে তিনি এবং তার সমর্থকেরা প্রায়ই কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরেন। সমাবেশে তারা সামরিক কায়দায় সালামও দেন। নিরাপত্তার কারণে দে লা এসপ্রিয়েলা প্রায়ই বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে বক্তব্য দেন।

কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত কয়েক দশক ধরে চললেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিদ্রোহী ও অপরাধী গোষ্ঠী, যেমন ফার্কের ভিন্নমতাবলম্বী সদস্যরা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) এবং ক্ল্যান ডেল গলফোর সদস্যসংখ্যা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

কোকেন পাচারের লাভজনক রুট ও অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সহিংসতা বেড়েছে। গত বছর কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদনও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সমালোচকদের মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ‘টোটাল পিস’ বা শান্তি আলোচনা-কেন্দ্রিক নীতি সফল হয়নি। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির সুযোগে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হয়েছে এবং নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।

এ অবস্থায় আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনার বদলে কঠোর সামরিক অভিযান চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে। এ ছাড়া তিনি কলম্বিয়ার জঙ্গলে বড় আকারের কারাগার নির্মাণ, সরকারি ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার আনারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছিলেন দে লা এসপ্রিয়েলা

আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বসবাস ও কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। নির্বাচনে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্য সমর্থন পান। ট্রাম্প বলেছিলেন, দে লা এসপ্রিয়েলা অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করবেন, অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন এবং দেশে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প আরো বলেন, দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন পাবেন। ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর একটি বড় কারণ ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এবং ট্রাম্পের মধ্যে অভিবাসন নীতি, শুল্ক এবং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধ।

বিশ্লেষকদের মতে, দে লা এসপ্রিয়েলার উত্থান লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের অংশ। নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের ইস্যুতে ভোটারদের উদ্বেগ অনেক দেশে ডানপন্থী নেতাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তার জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন অঞ্চলের আরও কয়েকজন ডানপন্থী নেতা। 

জাভিয়ের মিলেই বলেন, কলম্বিয়ার জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি এবং কঠোর নিরাপত্তার পথ বেছে নিয়েছে এবং সংগঠিত অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এ ছাড়া হোসে আন্তোনিও কাস্ট বলেন, ‘কলম্বিয়ার জন্য স্বাধীনতার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যা দেশটিকে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’
 

গতি ঘণ্টায় ২৫১ কিলোমিটার, উড়ে গেল বিএমডব্লিউ, ঝরে গেল দুটি প্রাণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
গতি ঘণ্টায় ২৫১ কিলোমিটার, উড়ে গেল বিএমডব্লিউ, ঝরে গেল দুটি প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

যোগেশ নেগির ২৪তম জন্মদিন ছিল রবিবার। তার আরো দুই বন্ধু রেবেকা জ্যাকব আর আঙ্গাদ গিল মিলে জন্মদিনের পার্টি করতে গিয়েছিলেন মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে তিতওয়ালায়। মুম্বাইয়ের তরুণদের কাছে কালু নদীর তীরবর্তী তিতওয়ালা ছুটি কাটানোর জন্য পছন্দের জায়গা। মুম্বাই থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের এই পর্যটন গন্তব্যে প্রচুর বিলাসবহুল ফার্মহাউস, পুল ভিলা এবং রিসোর্ট রয়েছে। তিন বন্ধুও তেমনি কোনো একটি রিসোর্টে গভীর রাত পর্ন্ত জন্মদিনের পার্টি করেছেন। তারপর ফিরছিলেন মুম্বাইয়ের বাসায়। যোগেশ আর আঙ্গাদের বাসা বদলাপুরে। আর রেবেকা থাকতেন বান্দ্রায়।

আঙ্গাদের বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ জেড৪ নিয়ে তারা পার্টি করতে গিয়েছিলেন। নির্মাণাধীণ দিল্লী-মুম্বাই হাইওয়ে ধরে মুম্বাই ফিরছিলেন তারা। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আঙ্গাদ নিজেই। রাত তখন ৩টা। ফাঁকা মহাসড়কে হঠাৎ গতির নেশায় পেয়ে বসে তাদের। জন্মদিনের আনন্দে কখন যে মৃত্যু ওত পেতে ছিল, তারা হয়তো টেরই পাননি।

কোনো এক বন্ধুর করা ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে গাড়ির গতি ওঠে ২৫১ কিলোমিটারে। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারান আঙ্গাদ। নির্মাণাধীন হাইওয়ের স্টিলের ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে রীতিমত উড়ে যায় বিএমডব্লিউ জেড৪। বেশ কয়েকবার উল্টেপাল্টে ২০০ মিটার দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে গাড়িটি। দৃশ্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে বিলাসবহুল জেড৪। ঘটনাস্থলেই মারা যান যোগেশ ও রেবেকা। মহাসড়কের ৫০০ মিটার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তাদের দেহের নানা অংশ। গুরুতর আহত আঙ্গাদকে মুম্বাইয়ের ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, তিতওয়ালার কোনো একটি রিসোর্ট বা ফার্মহাউসে গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপান ও পার্টি করার পর, তারা ফাঁকা ও নির্মাণাধীন মুম্বাই-দিল্লি হাইওয়েতে গাড়িটির গতি পরীক্ষা করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

মর্মান্তিক এ দুঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বদলাপুর এলাকায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে তরুণ-তরুণীদের বেপরোয়া পার্টি সংস্কৃতি নিয়েও।

ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ২

ক্যারিবিয়ান সাগরে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার তারা এ খবর জানায়। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা দুইজন নিহত হয়েছেন।

তাদের দাবি, জাহাজটি কিছু নির্দিষ্ট ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ পরিচালনা করছিল। তবে ওই গোষ্ঠীগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেনি। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে কোনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য আহত হননি। তারা নিহতদের ‘পুরুষ মাদক-সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এ হামলাগুলোকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ বলে নিন্দা করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব অভিযান ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ (নার্কো-টেররিস্টদের) লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে।

মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানিয়েছে, অভিযানের পর ছয়জন পুরুষ জীবিত উদ্ধার হন। তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

সামরিক বাহিনী এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে পরিচিত মাদক পাচার রুট ব্যবহার করে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল।

সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে সরাসরি হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতির তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন। অতীতে এ ধরনের নৌযান সাধারণত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অভিযান ও আটক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হতো।

সিন্ধু চুক্তি ঘিরে ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

অনলাইন ডেস্ক
সিন্ধু চুক্তি ঘিরে ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
ছবি: রয়টার্স

সিন্ধু নদী ব্যবস্থাকে ঘিরে ভারতের পদক্ষেপ যদি পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে হয়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। স্থগিত হয়ে থাকা সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান তিক্ত বিরোধের মধ্যেই রবিবার এমন কড়া বক্তব্য দিলেন তিনি। পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। 

দীর্ঘদিনের সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খাজা আসিফ বলেন, পানি শুধুই একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাকিস্তান যদি মনে করে যে সিন্ধু নদী অববাহিকার পানিতে তাদের ন্যায্য প্রবেশাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে, তাহলে তারা চুপ করে থাকবে না। তিনি বলেন, যেই মুহূর্তে তারা বুঝতে পারবে যে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে দ্বিধা করবে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে কঠোর পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সম্প্রতি ভারতের জল শক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। ভারতের সিন্ধু নদীর পানির প্রবাহ কমানোর বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার এমন সম্ভাব্য পরিকল্পনার ইঙ্গিত সামনে আসার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এরপর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারত জানায়, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর করা হবে না।

সিন্ধু পানি চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তিগুলোর একটি। এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানি কীভাবে দুই দেশের মধ্যে ভাগ হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। ফলে দেশটির কৃষি, সেচব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতির বড় অংশ এই পানির ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান বারবার বলেছে, পানি প্রবাহে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে তা কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সিন্ধু পানি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত চেনাব নদীর পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নদী সংযোগ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। পাকিস্তানের দাবি, এমন পদক্ষেপে সিন্ধু পানি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খরা এবং ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের কারণে পাকিস্তান আগে থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। 

একই সঙ্গে এই ইস্যু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধারী হওয়ায় পানি নিয়ে এই বিরোধ এখন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ | কালের কণ্ঠ