• ই-পেপার

পাকিস্তানে এক হিন্দু পরিবারের পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

ইরানে দীর্ঘ অভিযানের প্রস্তুতিতে ইসরায়েল, ডাকা হচ্ছে রিজার্ভ সেনা

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে দীর্ঘ অভিযানের প্রস্তুতিতে ইসরায়েল, ডাকা হচ্ছে রিজার্ভ সেনা
ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান আরো কয়েক দিন ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। এমন তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি আর্মি রেডিও।

আর্মি রেডিওর সামরিক প্রতিবেদক ডোরন কাদোশ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বড় পরিসরে রিজার্ভ সদস্যদের ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকটি রিজার্ভ ব্যাটালিয়নও সক্রিয় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে কাদোশ বলেন, সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং জর্ডান সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডও পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। সংস্থাটি আজ সকাল থেকেই বড় পরিসরে রিজার্ভ সদস্যদের ডাকা শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বাহিনী সক্রিয় করা এবং সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে এমন একটি সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
 

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে হুতি গোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে হুতি গোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞা
ছবি : রয়টার্স

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। যেকোনো গতিবিধি দেখা গেলেই হামলা চালানো হবে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে। 

এ ঘটনায় এই গুরুত্বপূর্ণ পথে পুনরায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতিদের সশস্ত্রবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচলের ওপর সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি।’ এই বিবৃতিতে এপ্রিলের শুরুর পর ইসরায়েলের ওপর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংঘাত চলাকালীন হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ইসরায়েলি জাহাজগুলোর ওপর ক্রমাগত হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ার দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে।

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, আহত শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, আহত শতাধিক
ছবি : রয়টার্স

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ভবন ধসে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল সমুদ্রের নিচে, যার ফলে আশপাশের উপকূলে প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ দেখা যায়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনামির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছে প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির পরিচালক টেরেসিটো বাকোলকল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পাওয়া ভিডিওগুলোতে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনামির কারণে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির ভূমিকম্প সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৮ এবং এটি সমুদ্রের নিচে ৩৩ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের মায়াসিম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

ক্ষয়ক্ষতি 

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী জেনারেল সান্তোস, যেখানে ৭ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে এবং যা টুনা রপ্তানি ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয় এবং এটি মালয়েশিয়াতেও অনুভূত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলে ছোট আকারের সুনামি ঢেউও রেকর্ড করা হয়েছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রড সস্মেনা এপিকে জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের জেনারেল সান্তোসে ভূমিকম্পে অন্তত ৭ জন নিহত এবং প্রায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে কয়েকটি ছোট ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি এবং আরেক কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং জানান, দক্ষিণাঞ্চলের দক্ষিণ কোটাবাটো ও দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশ এবং বালুত দ্বীপে আরো ৫ জন নিহত হয়েছেন।

সস্মেনা বলেন, জেনারেল সান্তোসে ধসে পড়া একটি দোতলা স্কুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি। তবে জাতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে ফিলিপাইনের সব সরকারি স্কুল খুলে দেওয়া হয়। কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং জানান, সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত এবং কিছু শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জেনারেল সান্তোসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

আঞ্চলিক পরিচালক রড সস্মেনা বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন। তিনি জানান, ‘আমার পিকআপ হঠাৎ কেঁপে ওঠে, আমি ভেবেছিলাম টায়ার পাংচার হয়েছে। মানুষ ঘর থেকে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।’

দাভাও শহরে অবস্থানরত আরেক কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। তিনি জানান, ‘মাটি কাঁপতে থাকায় আমি ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারছিলাম না।’ এদিকে ম্যানিলার একটি রেডিও জানিয়েছে, তাদের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় থাকা চারতলা বাণিজ্যিক ভবনের আংশিক অংশ ধসে পড়েছে। তবে কর্মীরা দ্রুত নিচে নেমে আসায় কেউ আহত হননি। এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে আছেন কি না। ভূমিকম্পের কারণে ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে পার্ক করা ট্রাইসাইকেল ট্যাক্সিগুলোর ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রায় ৩ ফুট উচ্চতার সুনামি ঢেউ

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানি প্রদেশে এই ঢেউ পর্যবেক্ষণ করা হয়। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর বর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। সাবাহ দক্ষিণ ফিলিপাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের কাছে ৮৩ সেন্টিমিটার (২.৭ ফুট) উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৫৫ কিলোমিটার। বিভিন্ন সংস্থার প্রাথমিক পর্যায়ের পরিমাপে এমন পার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের `রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মুখোমুখি হয়। এছাড়া দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০টি টাইফুন ও ঝড় আঘাত হানে।

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়ার’ হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়ার’ হুঁশিয়ারি
ছবি: রয়টার্স

ইরানের মাহশাহর শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে হামলার ঘটনায় এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল মাহশাহরের ওই পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। নিরাপত্তার কারণে সেখানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মাহশাহরের পাশাপাশি ইরানের আরো অন্তত চারটি শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। শহরগুলো হলো তাবরিজ, কারাজ, ইসফাহান এবং রাজধানী তেহরান। তবে এসব স্থানে হামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বারবার পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছে। ইরানের মতে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ইরান আরো বলেছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, বিশেষ করে বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হামলা চালাতে থাকে, তাহলে তারা এর কঠোর জবাব দেবে।

এ ছাড়া ইসরায়েলকে নতুন করে কোনো হামলা না চালানোরও সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, ভবিষ্যতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশটি কঠোর এবং ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি স্বল্প সময়ের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অঞ্চলটি নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাত বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে।
 

পাকিস্তানে এক হিন্দু পরিবারের পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার | কালের কণ্ঠ