যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অস্থায়ী অভিবাসীদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদায় (টিপিএস) থাকা অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় খুঁজতে হবে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে আগ্রহীদের বিমান ভাড়া ও পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন ওই মন্তব্য করেন। এর আগে গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদায় থাকা অভিবাসীদের বিষয়ে বিভক্ত রায় প্রকাশ করে। ওই রায়ের পর মার্কওয়েন মুলিনের এই মন্তব্য সামনে এলো।
মূলত বিভক্ত ওই রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার হাজার হাজার অভিবাসীর মানবিক সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের অনুমতি দেয়। আর এই মর্যাদাই এতদিন তাদের সংঘাত ও চরম দারিদ্র্যপীড়িত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছিল।
মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘হয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্থায়ী বৈধ মর্যাদার আওতায় থাকার চেষ্টা করুন, নয়তো আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাকে একটি বিমান টিকিট দেব। পাশাপাশি নিজ দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলারও দেয়া হবে। তবে আদালতের রায় এবং এই কর্মসূচির নাম থেকেই স্পষ্ট, অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা কখনোই স্থায়ী মর্যাদা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনও সংকট থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের অস্থায়ীভাবে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি দিতে পারে প্রশাসন।
এর আগে এই সুরক্ষা মর্যাদার মেয়াদ ধারাবাহিকভাবে নবায়ন করা হয়েছিল। যদিও এখন এটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও ব্যাপক সহিংসতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং অপহরণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
২০১০ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রথম হাইতির নাগরিকদের জন্য এবং ২০১২ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির নাগরিকদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) চালু করে যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাভাবে অভিযোগ করেছিলেন, ওহাইওতে বসবাসরত হাইতির অভিবাসীরা অন্যদের পোষা প্রাণী খেয়ে ফেলছে।








