• ই-পেপার

একটানা বৃষ্টিতে নেপালের বিভিন্ন জায়গা ধসে যাচ্ছে, তিনদিনেই ৫৪ মৃত্যু

চীনের গ্লোবাল টাইমসে কলাম

তারেক রহমানের সফরে নতুন উচ্চতায় যেতে পারে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক

অনলাইন ডেস্ক
তারেক রহমানের সফরে নতুন উচ্চতায় যেতে পারে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে তিন দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে চীনে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর, যার দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে বেইজিংকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দেশের কূটনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্য মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরে দুই দেশের মধ্যে শিল্পখাত ও মেগা অবকাঠামোসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চীন সফর করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর এবং দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে চীনে এসেছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো এ সফর নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী। তাদের ধারণা, এ সফরে ১৫টির বেশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা সই হতে পারে, যার মধ্যে বড় অবকাঠামো ও শিল্প খাতের প্রকল্পও থাকবে।

চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একে-অপরের বন্ধু, প্রতিবেশী এবং কৌশলগত সহযোগী। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার সম্পর্ক বজায় রেখেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তারা একটি উদাহরণ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বে’ উন্নীত করা হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে টানা ১৫ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি হওয়া শতভাগ শুল্কযোগ্য পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিয়েছে বেইজিং।

অবকাঠামো উন্নয়নেও দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আঞ্চলিক পর্যায়ে চীন ও বাংলাদেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করছে এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায়ও সহযোগিতা করছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় তাদের সহযোগিতা আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন ও আঞ্চলিক সুশাসন নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মও গড়ে তুলেছে উভয় দেশ।

তবে এসব সাফল্যের পরও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রভাব। কিছু পরাশক্তি বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে টানার চেষ্টা করছে। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও হস্তক্ষেপ, অসম চুক্তির চাপ এবং ‘ঋণের ফাঁদ’ তত্ত্বের মতো বর্ণনা ব্যবহার করে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা। তৃতীয় চ্যালেঞ্জ দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও অনেকের মধ্যে চীন সম্পর্কে ধারণা সীমিত। বাংলাদেশের কিছু প্রভাবশালী মহল পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের প্রতি বেশি আস্থাশীল এবং চীনের উন্নয়নপথ ও শিল্প সহযোগিতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়।

আবার অন্যদিকে, কিছু অভিজাত মহল চীনের উন্নয়ন মডেল ও সহযোগিতার সুবিধা স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে দেশের কিছু আলোচনায় বাণিজ্য ঘাটতির জন্য শুধু চীনা পণ্যের প্রবেশকে দায়ী করা হয়, অথচ রপ্তানি পণ্যের সীমিত বৈচিত্র্য ও সক্ষমতার মতো কাঠামোগত বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। এজন্য উভয় পক্ষের আরও দূরদর্শিতা ও ধৈর্যের প্রয়োজন। বিশেষ করে পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য কমাতে খোলামেলা আলোচনা ও যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের প্রকৃত অর্থে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের রাজনৈতিক সাহস দেখাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে কতটা গভীর সহযোগিতা চায়, তা দুই দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরবে।

বাংলাদেশি গণমাধ্যমে সফরটির যেসব গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। প্রথমত, শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও বাড়বে। চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করছে। তুলনামূলক কম শ্রমব্যয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, গ্লোবাল সাউথ এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার শিল্প শৃঙ্খল ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারবে। চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা ব্যবস্থার মতো প্ল্যাটফর্ম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।

সবশেষে, সুশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো হবে, যাতে বাংলাদেশ নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নপথ খুঁজে নিতে পারে। রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা যেতে পারে।

উন্নয়নের কোনও একক মডেল নেই। পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নিজস্ব আধুনিকায়নের পথ অনুসরণ করার মতো সক্ষমতা ও সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে এই মতামত নিবন্ধটি লিখেছেন লিউ জোংই। তিনি সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া স্টাডিজ-এর পরিচালক।

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ৬৮০০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ৬৮০০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপজুড়ে চলা রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণে বুধবার উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। দেশটিতে চলমান তীব্র গরমের মধ্যে এটিই প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের একটি ট্রান্সফর্মারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই বিভ্রাট ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কুইম্পার শহরের কাছে এরগ-গ্যাবেরিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফিনিস্টের প্রিফেকচার।

ফরাসি গ্রিড অপারেটর আরটিই এবং এনেডিসের দলগুলো সমস্যাটি সমাধানের জন্য সারারাত কাজ করলেও দিনের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার দিনের শেষে ফ্রান্সে এক লাখ ছয় হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। ইউরোপজুড়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশটি ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়েছে।

ফরাসি বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা আরটিই জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যার কারণে মঙ্গলবার দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বুধবারের মধ্যে সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বুধবার ফ্রান্সের ৫৮টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিনিস্তেরও রয়েছে। ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ ধরনের বায়ুপ্রবাহ ও আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে এক এলাকায় আটকে থাকছে। আর জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই তাপপ্রবাহ আরো তীব্র হয়ে উঠছে।

ওপেন এআইয়ের সাবেক গবেষকের ভারত প্রত্যাবর্তন, এআই খাতে দেখছেন বৈশ্বিক সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক
ওপেন এআইয়ের সাবেক গবেষকের ভারত প্রত্যাবর্তন, এআই খাতে দেখছেন বৈশ্বিক সম্ভাবনা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেন এআইয়ের একজন সাবেক গবেষক শ্যামল আনন্দকাট জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকা ছেড়ে ভারতে ফিরেছেন। তার মতে, ভারতের দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের জন্য ‘এক প্রজন্মে একবারই ঘটে’ এমন একটি বিরল ও যুগান্তকারী সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রায় চার বছর তিনি ওপেনএআইতে কাজ করেন। সেখানে তিনি অ্যাপ্লাইড ইভ্যালস দলের নেতৃত্ব দেন, যেখানে উন্নত এআই মডেলের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং উন্নত করার কাজ করা হতো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেখানে তিনি বলেন, প্রচলিত সিলিকন ভ্যালির বাইরে থেকেও বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ওপেন এআইতে কাজ করার সময় ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক জেনারেটিভ এআই বিকাশের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি কাজ করেছেন। তবে তিনি জানান, ভারতের প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে তিনি সব সময়ই নিজের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অনুভব করেছেন, কারণ তার বেড়ে ওঠা সেখানেই।

আনন্দকাট স্বীকার করেন, বিশ্বের প্রযুক্তি কেন্দ্র থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত শুরুতে তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি মত বদলান। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভারত ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তি চিন্তাবিদদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় তিনি দেখেছেন, এই অঞ্চল থেকে বিশ্বমানের প্রযুক্তি তৈরি করার শক্তিশালী আকাঙ্ক্ষা অনেকের মধ্যে রয়েছে।

তার মতে, এই অঞ্চলের প্রধান ঘাটতি দক্ষতা বা প্রতিভার নয়, বরং বড় ও ঝুঁকিপূর্ণ ধারণার ওপর কাজ করার আত্মবিশ্বাসের অভাব। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুধু নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকেই গড়ে উঠতে পারে।

যদিও তিনি তার পরবর্তী পেশাগত পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের এআই বা সুপারইন্টেলিজেন্সকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে তা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে এবং একই সঙ্গে সবার জন্য উপকারী ও সহজলভ্য হয়।

পোস্টের শেষে তিনি তার এই ভাবনার সঙ্গে একমত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, তার নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরো তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
 

‘বাবা, আমাকে বাঁচাও’ আকুতি শুনলেও মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি বাবা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘বাবা, আমাকে বাঁচাও’ আকুতি শুনলেও মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি বাবা
প্রতীকী ছবি

সামর্থ্য যেমনই হোক, সব বাবার কাছেই তার কন্যা রাজকন্যা। বাবা হলো কন্যার আশ্রয়, ভরসা আর সাহস। কিন্তু সেই বাবাও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারলেন না নিজের সন্তানকে।

দিল্লির ফুটপাতে ঘুমন্ত ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে তুলে নিয়ে গেছে এক অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিচালক। বিপদ বুঝে মেয়েটি চিৎকার করে বলেছিল, ‘পাপা, মুঝে বাচালো’ (বাবা, আমাকে বাঁচাও)। মেয়ের আর্তনাদে বাবার ঘুম ভাঙলেও ট্যাক্সির গতির সঙ্গে দৌড়ে পেরে ওঠেননি তিনি। পরে পুলিশ ৪ ঘণ্টার এক চিরুনি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করলেও, ততক্ষণে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে শিশুটিকে।

সোমবার (২২ জুন) ভোররাতে দিল্লির সিডিআর চক এলাকায় এই নির্মম ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক বাবলুকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার মূলত বিহারের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে সপরিবারে দিল্লিতে এসে প্রথমে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। তবে দিনমজুর বাবার আয়ে সামর্থ্য না কুলালে একপর্যায়ে পুরো পরিবার দিল্লির ফুটপাতে থাকা শুরু করে। বাবাকে সাহায্য করতে ১০ বছরের ওই শিশুটি রাস্তায় বেলুন বিক্রি করত।

অন্য সব দিনের মতো রোববার (২১ জুন) রাতেও শিশুটি বাবা-মা, দুই বোন ও এক ভাইয়ের সঙ্গে ফুটপাতে ঘুমিয়ে ছিল। সোমবার ভোর ৪টার দিকে একটি ট্রিপে যাওয়ার পথে চালক বাবলুর নজর পড়ে ঘুমন্ত মেয়েটির ওপর। পুলিশ জানায়, চালক বাবলু সে সময় মাতাল অবস্থায় ছিল এবং ভোর ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফুটপাতের পাশে গাড়ি থামিয়ে ওঁত পেতে বসে ছিল। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে সে শিশুটিকে গাড়িতে তুলে নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।

গাড়িতে তোলার সময় মেয়েটির আর্তচিৎকারে বাবার ঘুম ভেঙে যায়। চোখের সামনে মেয়েকে নিয়ে গাড়িটি চলে যেতে দেখে তিনি পেছনে দৌড়াতে থাকেন। কিন্তু গাড়ির গতির সঙ্গে পেরে না উঠে অসহায় বাবা দ্রুত একটি পিসিও (পাবলিক কল অফিস) থেকে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান।

খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে। গাড়িটির খোঁজে এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। একটি ফুটেজে গাড়িটি দেখা গেলেও তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্ট ছিল না। তবে পুলিশ রাইড-শেয়ারিং অ্যাপগুলোর কাছ থেকে ওই এলাকার ট্রিপ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে অনুরোধ পাঠায়। একই সঙ্গে জিপিএস ট্র্যাকিং ও মোবাইল লোকেশন ব্যবহার করে পুলিশ পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরী এলাকায় গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং সেখান থেকেই বাবলুকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বাবলু নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। সে পুলিশকে জানায়, অপহরণের পর সে শিশুটিকে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে আসে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, এমন ভয়ংকর অপরাধ করার পরও বাবলু ছিল সম্পূর্ণ নির্বিকার। শিশুটির মরদেহ ফেলে রেখে সে ওই গাড়ি দিয়েই আরেকটি ট্রিপ নেয় এবং বিকাশপুরী এলাকায় যাত্রী নামানোর পরপরই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। বাবলুর পরিবারও বিহারে থাকে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুলিশ অভিযুক্ত বাবলুকে নিয়ে ঘটনার তদন্ত ও আলামত সংগ্রহে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশের হেফাজত থেকে বাবলু পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তার পায়ে গুলি চালায়। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া বাবলুর বিরুদ্ধে এর আগেও বিহারে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই (ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন) ছাড়া একজন চিহ্নিত অপরাধীকে চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট অ্যাপভিত্তিক ক্যাব সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

অপরাধী ধরা পড়েছে এবং আদালতে তার বিচার হবে। কিন্তু ফুটপাতে বেলুন বিক্রি করা সেই ছোট্ট শিশুটি আর কোনো দিন বাবার কোলে ফিরবে না। আর যতদিন বেঁচে থাকবেন, এই দিনমজুর বাবার কানে হয়তো প্রতিনিয়ত বাজবে মেয়ের সেই শেষ আকুতি—‘বাবা, আমাকে বাঁচাও।’