• ই-পেপার

মার্কিন বিমান ধ্বংস করল ভেনিজুয়েলার বিমানবাহিনী

নিজের করের হিসাব প্রকাশ্যে আনছেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস

অনলাইন ডেস্ক
নিজের করের হিসাব প্রকাশ্যে আনছেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস
ছবি : রয়টার্স

ব্রিটেনের রাজা চার্লস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণকে জানাতে যাচ্ছেন যে রাজা হিসেবে তিনি কত টাকা কর বা ট্যাক্স দেন। রবিবার (২১ জুন) বাকিংহাম প্যালেসের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাজপরিবারের আয়-ব্যয় আরো বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, রাজা চার্লস তার মা রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে যা কিছু পেয়েছেন, তার ওপর কোনো আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স), মূলধন লাভ কর বা উত্তরাধিকার কর দিতে বাধ্য নন। কিন্তু রাজা চার্লস স্বেচ্ছায় তার ব্যক্তিগত আয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রির ওপর আয়কর দিতে রাজি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজপরিবারের বার্ষিক হিসাব প্রকাশের সময় এই করের বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে আনা হবে।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজকীয় দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারের কাছ থেকে ১৩২ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার) পেয়েছেন রাজা চার্লস। এর বাইরেও বিভিন্ন জমি, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে তার মোটা অঙ্কের ব্যক্তিগত আয় রয়েছে। বাকিংহাম প্যালেসের মুখপাত্র জানান, রাজা চার্লস যখন ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ ছিলেন, তখনও তিনি নিয়মিত করের তথ্য জানাতেন এবং রাজা হওয়ার পরও সেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চান।

রাজার এই করের তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো, যখন রাজপরিবারের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত বছর ব্রিটিশ সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রাজপরিবারের সদস্যদের থাকার জন্য দেওয়া সরকারি বাড়ি ও আবাসিক সম্পত্তির ব্যবস্থা নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজা চার্লসের এই পদক্ষেপ রাজপরিবারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কাতারে গ্যাস কারখানায় বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

অনলাইন ডেস্ক
কাতারে গ্যাস কারখানায় বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
সংগৃহীত ছবি

কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৮ জন। সোমবার (২২ জুন) কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ জানিয়েছে, রবিবার (২১ জুন) রাতে রাস লাফান শিল্প শহরের বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে কাজ শুরু হওয়ার সময় এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে একটি ‘অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে যে একটি ‘কারিগরি বা যান্ত্রিক ত্রুটির’ কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে থাকা এএফপি-র একজন সাংবাদিকও রাতের আকাশে আগুনের বড় শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন। বিস্ফোরণের পর কারখানার ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রটি সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে আগেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ইরানি হামলায় কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাতার গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। ইরানের ড্রোন হামলার পর গত ২ মার্চ থেকেই এটি এলএনজি উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাআবি জানিয়েছিলেন, গত ১৮ মার্চের হামলার কারণে দেশের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে এবং তা ঠিক করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

কাতার বিশ্ব বাজারে অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী দেশ। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে কাতার দীর্ঘদিন গ্রাহকদের কাছে পণ্য পাঠাতে পারছিল না। সম্প্রতি যুদ্ধ থামানোর আলোচনা শুরু হওয়ায় এবং ইরান নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করায় কাতার তাদের এই রপ্তানি টার্মিনালটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছিল। ঠিক এই সময়ে নতুন করে ঘটা এই বিস্ফোরণ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিউবান বিপ্লবের মহানায়ক রামিরো ভালদেস আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
কিউবান বিপ্লবের মহানায়ক রামিরো ভালদেস আর নেই
ছবি : রয়টার্স

কিউবান বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নেতা ও ফিদেল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রামিরো ভালদেস মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। রবিবার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগেল দিয়াজ-কানেল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাননি।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কিউবা সরকারের শীর্ষ পদে থাকা ভালদেসকে দেশটির ‘প্রজাতন্ত্রের বীর’ এবং ‘বিপ্লবের সেনাপতি’ হিসেবে গণ্য করা হতো। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি দিয়াজ-কানেল বলেন, ‘এই ক্ষতি বাবার মৃত্যুর মতোই গভীরভাবে আঘাত করেছে। বিজয় না আসা পর্যন্ত, সর্বদা, কমান্ডার!’

১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণকারী রামিরো ভালদেস মাত্র ২১ বছর বয়সেই কিউবার স্বৈরশাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন। ১৯৫৩ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক মনকাডা ব্যারাক আক্রমণে তিনি সরাসরি অংশ নেন।পরবর্তীতে মেক্সিকোতে নির্বাসন শেষে ১৯৫৬ সালে বিপ্লব পুনরায় শুরু করতে যে ৮২ জন যোদ্ধা ‘গ্রানমা’ নামক ইয়টে চড়ে কিউবায় ফিরেছিলেন, ভালদেস ছিলেন তাদের একজন। পথিমধ্যে তীব্র সংঘাতের পর যে মাত্র ১২ জন জীবিত বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন—ফিদেল কাস্ত্রো, রাউল কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার পাশাপাশি ভালদেসও ছিলেন সেই সৌভাগ্যবানদের দলে। তিনি সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে চে গুয়েভারার ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে বাতিস্তা সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লব সফল হওয়ার পর ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতা গ্রহণ করলে, ভালদেস দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান হন। কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার মতোই তিনি আমৃত্যু তার ট্রেডমার্ক জলপাই-সবুজ সামরিক পোশাক এবং ট্রটস্কি-শৈলীর দাড়ি বজায় রেখেছিলেন। ৮০ বছর বয়স পর্যন্তও তিনি ছিলেন দারুণ ফিট ও নিয়মিত ব্যায়াম করতেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কিউবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে রাউল কাস্ত্রো তরুণ প্রজন্মের নেতা দিয়াজ-কানেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পরও ভালদেস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। সর্বশেষ তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় ৯৪ বছর বয়সেও সক্রিয় ছিলেন ভালদেস। প্রায়ই সামরিক পোশাকে রাষ্ট্রপতির পাশে দাঁড়িয়ে তিনি কিউবানদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং দেশের কঠিন সময়ে বিপ্লবী উদ্দীপনা বজায় রাখার আহ্বান জানাতেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং কিউবান বিপ্লবের প্রতি তিনি আমৃত্যু বিশ্বস্ত ও অনুগত ছিলেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিশালী পলিটব্যুরোর সদস্য ছিলেন। তার প্রয়াণে কিউবার বিপ্লবী ইতিহাসের একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

সুইজারল্যান্ডে নতুন দফা আলোচনা, ইরানকে আবারও হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডে নতুন দফা আলোচনা, ইরানকে আবারও হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ছবি: রয়টার্স

ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবারও তিনি দেশটির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দেন। এমন পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত সপ্তাহে উভয় পক্ষ যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছায়। বর্তমানে সেই চুক্তির পরবর্তী ধাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে লেবানন পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান ও কাতার। আলোচনার একদিন আগে ইরান ঘোষণা দেয় যে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে। ইরানের দাবি, লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহের অন্তর্বর্তী চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধ করা। এর মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ইরান বলছে, অন্য কোনো বিষয়ে অগ্রগতির আগে লেবাননের সংকটের সমাধান করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখনো স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পক্ষ থেকে শুল্ক আরোপ করবে। আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের কয়েকশ কোটি ডলারের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। আলোচনার সঙ্গে জড়িত যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, আলোচকরা প্রয়োজনে সারা রাত বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য এলেও ইরানের প্রতিনিধিরা আলোচনা থেকে সরে যাননি এবং সংলাপ চালিয়ে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোর প্রকৃত অর্থ বুঝতে এবং সেগুলো স্পষ্ট করতেই আলোচনার বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে। তিনি আরো জানান, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং দক্ষিণ লেবাননে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। রবিবার তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। কারণ বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৭০ ডলারে ওঠে। ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রবিবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে লেবানন ইস্যু। তবে এর পাশাপাশি ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং দেশটির তেল রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত 'ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কম্পানি'-এর প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্দ বলেন, আলোচনায় তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে এ তথ্য জানান।

এদিকে আন্তর্জাতিক আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে দেশটির ফুটবল দল। বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র এবং গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিছু ইরানি গণমাধ্যমে এমন ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতীকীভাবে বেইরানভান্দকে হরমুজ প্রণালি আটকে রাখতে দেখা যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া কালিবাফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেইরানভান্দের একটি সেভের ছবি পোস্ট করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, 'আমরা এভাবেই আমাদের ভূমিকে রক্ষা করি।'

অন্যদিকে জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য এখনো শেষ হয়নি। জেএনএস আন্তর্জাতিক নীতি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, চলমান সামরিক চাপের ফলে শেষ পর্যন্ত ইরানের সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত বিজয় তখনই আসবে, যখন ইরানের জনগণ নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সরিয়ে দেবে।

এদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা জানিয়েছেন, লেবাননে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, হিজবুল্লাহকে মোকাবিলায় সিরিয়া ভূমিকা রাখতে পারে। রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আল মাশহাদ নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তার দাবি, ট্রাম্প শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সিরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা বলেছেন, সামরিক হস্তক্ষেপের কথা নয়।

এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে লেবানন সীমান্তসংলগ্ন উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা কোনো বিশেষ বিধিনিষেধ ছাড়াই চলাচল করতে পারবেন। কয়েক মাস ধরে হিজবুল্লাহর হামলার আশঙ্কায় ওই এলাকায় নানা ধরনের নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা কার্যকর ছিল। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। যদিও ইরান এখনো জোর দিয়ে বলছে, অন্য কোনো বিষয়ে অগ্রগতির আগে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান বজায় রাখবে।

সব মিলিয়ে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে লেবানন সংকট, হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ সম্পদ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি জটিল হলেও আলোচকরা দীর্ঘ সময় ধরে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

মার্কিন বিমান ধ্বংস করল ভেনিজুয়েলার বিমানবাহিনী | কালের কণ্ঠ