kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

গণ-আত্মহত্যা নয়, ৯ জনকে খুন করে কুয়ায় ফেলে দেয় সঞ্জয়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মে, ২০২০ ১৪:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণ-আত্মহত্যা নয়, ৯ জনকে খুন করে কুয়ায় ফেলে দেয় সঞ্জয়!

করোনা লকডাউনে কর্মহীন, টানা দু’মাস বেতন বন্ধ। মানবেতর জীবন-যাপনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে গণ-আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিলেন এক শ্রমিক ও তার পরিবারের ৬ সদস্যসহ অন্তত ৯ জন। একসঙ্গে কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তারা সবাই। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার খবর কয়েকদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। অবশেষে ভারতের তেলেঙ্গানার সেই মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ। তবে গণ-আত্মহত্যা নয় খুন করা হয়েছে তাদের।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এক শ্রমিক পরিবার। ওই পরিবার তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। সম্প্রতি কুয়া থেকে মুহাম্মদ মাকসুদ ও তাঁর পরিবারের সব সদস্যের দেহ উদ্ধার হয়। তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন তেলেঙ্গানায়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু পরে জান যায়, আসলে অন্য এক শ্রমিক তাদের খুন করেছে। আরো একটি খুনের ঘটনা ঢাকতে গিয়েই এই খুন বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এই ঘটনায় সঞ্জয় কুমার যাদব নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তির বয়ান অনুসারে ওই ব্যক্তি মোট ১০ জনকে খুন করেছে। জানা গেছে হত্যাকারী বিহারের বাসিন্দা। মৃতদের সকলকেই খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিলো। মৃতদের মধ্যে দুই মহিলা এবং এক শিশু ছিল। এদের সকলের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল গোরেকুন্তা গ্রামের পরিত্যক্ত এক কুয়োর মধ্যে।

পুলিশের বক্তব্য অনুসারে, আটক সঞ্জয়ের সঙ্গে এক মহিলার সম্পর্ক ছিল। পশ্চিমবঙ্গ নিবাসী মাক্সুদ-এর আত্মীয়া ওই মহিলা স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে তিন সন্তান সহ ওখানেই থাকতেন এবং চটের ব্যাগ কোম্পানীতে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে ওই মহিলার ১৫ বছর বয়সী মেয়ের দিকে সঞ্জয়ের কুনজর পড়ে। এরপরই ওই মহিলা নিজের মেয়েকে রক্ষা করার জন্য সঞ্জয়কে বিয়ের করতে চাপ দিতে শুরু করেন। এরপরই সঞ্জয় ওই মহিলাকে কলকাতা নিয়ে যাবার নাম করে রাস্তায় খুন করে ট্রেনলাইনের ধারে মৃতদেহ ফেলে দিয়ে ফের ফিরে আসে।

এই ঘটনায় অন্যদের সন্দেহ হতে তারা সঞ্জয়কে চেপে ধরে এবং পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথা বলে। এরপরেই সঞ্জয় ২০ তারিখ রাতে সকলের খাবারের সঙ্গে কড়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় এবং গভীর রাতে মৃতদেহগুলো এক এক করে ওই পরিত্যক্ত কুয়োর মধ্যে ফেলে দেয়।

এই ঘটনায় তেলেঙ্গানা পুলিশের ৬টি টিম একসঙ্গে কাজ করে সঞ্জয়কে আটক করে এবং জিজ্ঞাসবাদ চালায়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে সঞ্জয় এই হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে নেয়।

সূত্র- এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা