• ই-পেপার

করোনায় রাজকন্যা মারিয়ার মৃত্যু

‘ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন’— দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
‘ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন’— দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) শত শত সমর্থক শনিবার প্রথমবারের মতো রাজধানী দিল্লিতে সমাবেশ করেছেন। অনলাইনে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন এবার বাস্তবে রাজপথে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সমর্থকেরা ‘ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন!’ স্লোগান দেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের ভারতের জাতীয় পতাকা ও একটি বই সঙ্গে আনতে বলা হয়। তাদের ভাষ্য, বইটি শিক্ষা পাওয়ার অধিকার এবং সবার জন্য সমান সুযোগের প্রতীক।

এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন এবং পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার সিজেপির আনুষ্ঠানিক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘এবার এই ছোট্ট রসিকতাকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার সময় এসেছে।’ 

মাত্র তিন সপ্তাহ আগে যাত্রা শুরু করলেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) দ্রুতই অসন্তুষ্ট তরুণদের একটি আলোচিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটির সমর্থকেরা নিজেদের গর্বের সঙ্গে ‘ককরোচ’ বলে পরিচয় দেন।

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভকে সিজেপির প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ শিরোনামে আলোচনায় থাকা এই আন্দোলন ইতোমধ্যে লাখো তরুণের সমর্থন পেয়েছে। সংসদ ভবনের কাছাকাছি বিক্ষোভ এলাকায় শত শত তরুণ-তরুণী জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, আবার কেউ কেউ ককরোচের মুখোশ পরে অংশ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কত মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন, তা শুরুতে স্পষ্ট ছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি সিজেপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কারণ সংগঠনটি দেখতে চায়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের হতাশাকে তারা অনলাইন জনপ্রিয়তার বাইরে বাস্তব জনসমর্থনে রূপ দিতে পারে কি না।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে পৌঁছান এবং বিক্ষোভে অংশ নেন। তাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এ সময় দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ব্যারিকেডও স্থাপন করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দিপকে জানান, পুলিশ সিজেপিকে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘ককরোচরা যন্তর মন্তরে জড়ো হচ্ছে।’

সিজেপি আয়োজকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে শনিবারের এই কর্মসূচিতে সমর্থকদের অংশ নিতে আহ্বান জানান। তাদের প্রধান দাবি হলো ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। গত মে মাসে একটি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই দাবি ওঠে। পরে বিষয়টি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারত্ব এবং তরুণদের সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়।

গত মে মাসে এক শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু সমালোচক ও বেকার তরুণকে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করলে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই মন্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালযয়ের অভিজিৎ দীপকে একটি ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সিজেপি গড়ে তোলেন।

ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সিজেপি ‘ককরোচ’ প্রতীকটিকে টিকে থাকার ক্ষমতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অকার্যকারিতা নিয়ে তৈরি তাদের ভিডিও, মিম ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট অনলাইনে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

সংগঠনটির বিভিন্ন সমর্থক অ্যাকাউন্টও ককরোচকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা মিম, ব্যঙ্গাত্মক নির্বাচনী স্লোগান এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সিজেপির বার্তাগুলোতে আত্ম-বিদ্রূপমূলক হাস্যরসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমালোচনার মিশেল দেখা যায়। সমর্থকেরা নিজেদের মজা করে ‘বেকার’, ‘সবসময় অনলাইনে থাকা’ এবং ‘প্রভাব বিস্তার থেকে বঞ্চিত’ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তবে এই হাস্যরসের আড়ালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতি একটি বিস্তৃত সমালোচনাও রয়েছে। সিজেপি সমর্থকদের দাবি, সাধারণ ভারতীয়রা, বিশেষ করে তরুণরা, আগের তুলনায় কম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি তরুণ। কিন্তু তাদের অনেকেই সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ, বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং প্রচলিত রাজনীতির প্রতি হতাশার মুখোমুখি হচ্ছেন।

অনেক তরুণ ভোটার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বতন্ত্র ভারতীয় জনতা পার্টির(বিজেপি) সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, দেশে ধর্মীয় মেরুকরণ বেড়েছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বিস্তৃত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। তবে সিজেপির উত্থান নিয়ে সবাই একমত নন। বিশেষ করে বিজেপি-সমর্থক অনেকেই এই আন্দোলনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি সাময়িক প্রচারণা বা ‘গিমিক’ বলে মনে করেন।

তাদের দাবি, অনলাইনে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া মানেই বাস্তবে বড় ধরনের জনসমর্থন পাওয়া নয়। সিজেপির দ্রুত উত্থান যতটা আলোচিত হয়েছে, তত দ্রুতই এর জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে বলেও তারা মনে করেন।

ফলে দিল্লির রাজপথে সিজেপির প্রথম বড় সমাবেশকে অনেকেই আন্দোলনটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বোঝা যাবে, সংগঠনটি অনলাইন জনপ্রিয়তাকে বাস্তব জনসমর্থন ও রাজনৈতিক প্রভাবে রূপ দিতে পারে কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির উত্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা একটি বড় প্রবণতার সঙ্গে মিল রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জন্ম নেওয়া তরুণদের আন্দোলন ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালের বিভিন্ন সরকারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তবে সিজেপির সামনে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন বিক্ষোভ দমনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলন এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের মতো বড় বিক্ষোভও ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্দোলনের আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। 

সমালোচকদের দাবি, এসব পদক্ষেপ সরকারের সমালোচনা ও ভিন্নমত দমনের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এমন পরিস্থিতিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অনলাইন জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘমেয়াদি ও সংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা।
 

হরমুজ বন্ধে যেভাবে সর্বোচ্চ লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ বন্ধে যেভাবে সর্বোচ্চ লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেখানে পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেখানে এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে তারা উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ অর্জন করেছে।

শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান রসনেফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইগর সেচিন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেচিন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ মূলত ইরানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের ওপর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে তেহরান। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। পাশাপাশি সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহনেও এটি একটি প্রধান রুট।

সেচিন বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিয়মকানুন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা। এই পদক্ষেপের কৌশলগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে এবং উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ অর্জন করেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেচিন সতর্ক করে বলেন, হরমুজের পর মালাক্কা, বাব এল-মান্দেব ও জিব্রাল্টার প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোও ভবিষ্যতে বিঘ্নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কমছে ওপেক সক্ষমতা

বক্তব্যে সেচিন ওপেক প্লাস জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জোট ত্যাগ এবং এর আগে কাতারসহ কয়েকটি দেশের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাসের কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা কমে গেছে।

তিনি বলেন, গত এক দশকে জোটভুক্ত দেশগুলোর মোট উৎপাদন ৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ৩৭ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।

সেচিনের দাবি, ২০১৬ সালে ওপেক প্লাস চুক্তি স্বাক্ষরের পর অধিকাংশ সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়ালেও রাশিয়ার তেল উৎপাদন দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল কমেছে।

তার ভাষায়, এটি প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস, যা পূরণ করতে অন্তত ১০ ট্রিলিয়ন রুবল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। আমরা আশা করি, জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতাও আরো সম্প্রসারিত হবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সেচিনের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হাঙরের হামলায় অস্ট্রেলিয়ায় ফের একজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাঙরের হামলায় অস্ট্রেলিয়ায় ফের একজনের মৃত্যু
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে হাঙরের হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী হাঙর হামলার ঘটনা।

নিহত ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বর্শা দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় মাইকেলমাস দ্বীপের কাছে তার ওপর হাঙর হামলা চালায়। দ্বীপটি আলবানি শহরের কাছে এবং রাজ্যের রাজধানী পার্থ থেকে প্রায় ৩৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। হামলার পর তাকে দ্রুত তীরে আনা হয়। সেখানে প্যারামেডিকরা চিকিৎসা দিলেও গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি মারা যান।

রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার মাইকেলমাস দ্বীপের কাছে সাধারণ এক ব্যক্তি প্রায় ৪.৫ মিটার লম্বা একটি হাঙর দেখতে পান। তবে হাঙরটির প্রজাতি শনাক্ত করা যায়নি। এর আগে ২৪ মে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকায় মাছ ধরার সময় হাঙরের হামলায় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার ১০ দিন আগে পার্থের কাছের একটি দ্বীপের কাছে হাঙরের হামলায় ৩৮ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিও নিহত হন।

সংরক্ষণবাদী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০টি হাঙর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এর বেশির ভাগই প্রাণঘাতী নয়। দেশটির সমুদ্রসৈকতে হাঙরের হামলার তুলনায় ডুবে মৃত্যুর ঘটনা অনেক বেশি ঘটে।

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু
ছবি : রয়টার্স

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে হেবরন শহরের দক্ষিণে তেল রুমিদা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সাত মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় তার বাবা-মাও আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ খবর খবর জানিয়েছে। 

মন্ত্রণালয় শিশুটির নাম স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল বলে শনাক্ত করেছে এবং জানিয়েছে, শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। তার বাবা-মা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শিশুটির দাদি জানিয়েছেন, পরিবারটি চেকপয়েন্ট ১৭-এর কাছে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দূরে ইসরায়েলি সামরিক যান ও সৈন্যদের দেখতে পেয়ে গাড়ি থামিয়ে দেয়। 

তিনি জানান, গাড়ি থামানোর পরেই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রথমে তারা মনে করেছিল, সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি গুলি আমার নাতিকে আঘাত করে। এরপর তার মুখ ভেদ করে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে মায়ের গালে গিয়ে বিদ্ধ হয়।’ 

তিনি আরো জানান, গুলিটি বাবার হাতেও আঘাত করেছে এবং মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার হেবরন এলাকায় অভিযান চলাকালীন সৈন্যরা তাদের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসা একটি গাড়ি দেখতে পায় এবং একজন সৈন্য গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আহত ব্যক্তিদের ‘সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কহীন বেসামরিক নাগরিক’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা আরো বলেছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

তেল রুমেইদা এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। হেবরন শহরের এই এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কঠোর সামরিক নিরাপত্তার মধ্যে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের পাশাপাশি বসবাস করে। ফলে এলাকাটি প্রায়ই সহিংসতা ও সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

২০২৪ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৭ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করেন। এই বসতিগুলোকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছে।

করোনায় রাজকন্যা মারিয়ার মৃত্যু | কালের কণ্ঠ