• ই-পেপার

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের \'যুদ্ধাপরাধ\' তদন্ত করবে আইসিসি

ভারত

পাহাড়ে ওঠার সময় শিশুকে টেনে নিয়ে গেল সিংহ, তীর্থযাত্রা স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ে ওঠার সময় শিশুকে টেনে নিয়ে গেল সিংহ, তীর্থযাত্রা স্থগিত
ছবি : রয়টার্স

গুজরাটের বিখ্যাত গিরনার পাহাড়ে পরিবারের সাথে ওঠার সময় একটি সিংহের আক্রমণে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) ভোরে শত শত ভক্তের চোখের সামনে সিংহটি শিশুটিকে টেনে-হিঁচড়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গিরনার পাহাড়ের তীর্থযাত্রা স্থগিত করেছে।

নিহত শিশুটি গুজরাটের খেড়া জেলার মোদাজ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, রবিবার ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে গিরনার তীর্থযাত্রা পথের ৫০তম ধাপের কাছে এই ঘটনা ঘটে। পরিবারটির সাথে শিশুটি যখন পাহাড়ে উঠছিল, তখন আকস্মিকভাবে একটি সিংহ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে কাছের ঘন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই বনকর্মী ও ট্র্যাকাররা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে শিশুটির দেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে বন বিভাগ অবিলম্বে ভক্তদের গিরনারের সিঁড়ি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়। এরপর বনরক্ষী, ট্র্যাকার ও পশুচিকিৎসকদের দল নিয়ে চার ঘণ্টার একটি চিরুনি অভিযান চালিয়ে হামলার জন্য দায়ী সিংহটিকে ধরে ফেলা হয়। এ ছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশেপাশের এলাকায় দেখা যাওয়া আরো দুইটি সিংহকে ধরে জুনাগড়ের সাক্কারবাগ চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।

বন কর্মকর্তারা জানান, আটক করার পর সন্দেহভাজন সিংহটি বমি করে এবং সেই বমির মধ্যে মানবদেহের খণ্ডাংশ পাওয়া গেছে। এটি শিশুটির ওপর ওই সিংহের হামলার প্রমাণকে আরো জোরালো করেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সিংহের থাবার ছাপ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

গুজরাটের জুনাগড়ের গিরনার পাহাড় ভারতের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে বিখ্যাত আম্বাজি মন্দির ও দত্তাত্রেয় মন্দিরসহ প্রাচীন হিন্দু ও জৈন ধর্মের বহু মন্দির রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত প্রায় ১০,০০০ সিঁড়ি বেয়ে এই পাহাড়ে ওঠেন।

শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষায় শতভাগ সফল, দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষায় শতভাগ সফল, দাবি ট্রাম্পের
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বেথেসডায় অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি মানসিক (কগনিটিভ) পরীক্ষাতেও শতভাগ নম্বর পেয়েছেন।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রতি ছয় মাস অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং এবার নিজ উদ্যোগে আরও একটি কগনিটিভ টেস্ট দিতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি মাত্রই ওয়াল্টার রিডে একটি নিখুঁত শারীরিক পরীক্ষা শেষ করেছি। আমি প্রতি ছয় মাসে এটি করাই। আমি আরও একটি কগনিটিভ টেস্ট দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি তিনবার এই পরীক্ষা দিয়েছি এবং প্রতিবারই সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছি।’

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যের পর তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ভুল করে ইরানকে ‘ইসলামিক স্টেট অব জাপান’ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘ভ্লাদিমির পুতিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, হামলার পর ট্রাম্পকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট থেকে বোঝা যায়, তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। যদিও ওই সফরের সুনির্দিষ্ট সময় তিনি জানাননি।

হোয়াইট হাউসের আগের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন

গত মে মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ২৬ মে ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ‘চমৎকার’ বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট (এমওসিএ) পরীক্ষায় ট্রাম্প ৩০-এর মধ্যে পূর্ণ ৩০ নম্বর পান এবং তার স্নায়বিক পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।

যদিও ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকেরা এই পরীক্ষায় যুক্ত ছিলেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই।’

ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানে, চরম সংকটের সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

অনলাইন ডেস্ক
ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানে, চরম সংকটের সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের
সংগৃহীত ছবি

দুর্বল পানি ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পাকিস্তান দ্রুত একটি বড় ধরনের পানি সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর শত শত কোটি গ্যালন বৃষ্টির পানি ভূগর্ভস্থ জলস্তরে জমা হওয়ার পরিবর্তে সরাসরি নর্দমা ও নদীতে গিয়ে অপচয় হচ্ছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ত্রুটিপূর্ণ পানি ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ দেশটিতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং কংক্রিটের অবকাঠামো বেড়ে যাওয়ার কারণে লাহোর শহরের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ ইয়াসিন জানিয়েছেন, লাহোরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর প্রায় এক থেকে দেড় মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। শহরের ব্যাপক নির্মাণকাজের কারণে মাটি আর বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে শোষণ করতে পারছে না। ফলে বর্ষার বেশিরভাগ পানি মাটির নিচে না গিয়ে নিকাশী ব্যবস্থার মাধ্যমে অপচয় হচ্ছে, যা শহরের বন্যা পরিস্থিতিকেও বাড়িয়ে তুলছে।

এদিকে রুডা-র (রাভি আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) পরিবেশ পরিচালক আবিদ লতিফ সান্ধু সতর্ক করেছেন যে, মাটির ওপরের স্তরের পানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে এখন গভীর জীবাশ্ম পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এই পানির ভাণ্ডারগুলো তৈরি হতে হাজার হাজার বছর সময় লেগেছে, যা মানুষের জীবনকালে স্বাভাবিকভাবে আর পুনরায় উৎপাদন হওয়া সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত শিল্প বর্জ্য, শহরের পয়ঃবর্জ্য ও কৃষি রাসায়নিকের কারণে অবশিষ্ট ভূগর্ভস্থ মিঠা পানিও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এই সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডব্লিউডব্লিউএফ-পাকিস্তান যৌথভাবে ইতিমধ্যে একটি সফল ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ বা বৃষ্টির পানি সংগ্রহের মডেল তৈরি করেছে, যা ফিল্টারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানিকে পুনরায় মাটির নিচে পাঠায়।

পরিবেশবিদরা এই সংকট মোকাবিলায় দেশটির সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রতিটি নতুন আবাসন বা হাউজিং প্রকল্পে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে শহরাঞ্চল জুড়ে গোষ্ঠীভিত্তিক পুনঃপূরণ কূপ নির্মাণের আহ্বান জানান। একই সাথে মাটির গভীর জলস্তর থেকে যত্রতত্র ও অবাধে পানি উত্তোলন কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। সর্বোপরি, পুরো দেশকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে সমগ্র পানিচক্রকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা নীতি’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর ইরানে নতুন মার্কিন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর ইরানে নতুন মার্কিন হামলা
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি বেসামরিক জাহাজে হামলা চালানোর জবাবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এটি চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের তৃতীয় দফার হামলা। তাদের দাবি, আইআরজিসি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি'-তে সরাসরি হামলা চালায়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজটি আর চলতে পারেনি। এ ঘটনায় একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া একটি জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ ছেড়ে অন্য পথে চলার চেষ্টা করেছিল। এ কারণে আইআরজিসি প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়। পরে জাহাজটি নির্দেশ না মানায় সেটির দিকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আইআরজিসি দাবি করেছে, অভিযুক্ত জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার বিভিন্ন যোগাযোগ ও নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ করে অনুমোদিত পথ ছেড়ে অন্য রুটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। বারবার নির্দেশ অমান্য করার পর সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে জাহাজটিকে থামানো হয়। ইরান আরো সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার পর আন্তর্জাতিক সমঝোতা মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই নতুন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ওই বিবৃতি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের সেই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হবে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হামলার শিকার জাহাজের নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে একটি লাইফবোটে আশ্রয় নেন। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়। ওই জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করছিল। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হয়।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমার ভেতরের নির্ধারিত পথই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের একমাত্র নিরাপদ রুট। ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এ পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে কার্যত যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তবে উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী নতুন করে সংলাপ শুরু করতে কাজ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাগুলো ভুলবশত ঘটেছে। এ জন্য তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে- এ কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে। 

এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তার বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা আসে। এর আগে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, এক বিমান হামলায় নিহত হন। গত শুক্রবার তাকে তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হয়।  রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে মোজতবা খামেনি বলেন, প্রতিশোধ নেওয়াই 'জাতির ইচ্ছা'। তিনি বলেন, 'শহীদ নেতার রক্ত এবং দুই যুদ্ধে নিহত সব শহীদের রক্তের প্রতিশোধ আমরা সেই অপরাধীদের কাছ থেকে নেব।' তিনি আরো বলেন, 'এটি কোনো এক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করছে না। আমরা থাকি বা না থাকি, একদিন এই প্রতিশোধ নেওয়া হবেই।'

গত কয়েক দিনে আলি খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া অনেক মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ নিয়ে শনিবার ট্রাম্প কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের 'সব এলাকা গুঁড়িয়ে দেবে এবং ধ্বংস করে ফেলবে।' এদিকে চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' সহ কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে- ইরান সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করেছে। তবে ট্রাম্প এ দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তেহরান নতুন কোনো হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। একই সঙ্গে তিনি অস্বীকার করেন যে ওই গোয়েন্দা তথ্যের উৎস ছিল ইসরায়েল। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'অনেক দিন ধরেই আমি ইরানের হত্যার তালিকার এক নম্বরে আছি।'


 

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের \'যুদ্ধাপরাধ\' তদন্ত করবে আইসিসি | কালের কণ্ঠ