kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

দিল্লি সহিংসতা : বাড়িতে আগুন দিয়ে ৮৫ বছরের মুসলিম বৃদ্ধাকে হত্যা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিল্লি সহিংসতা : বাড়িতে আগুন দিয়ে ৮৫ বছরের মুসলিম বৃদ্ধাকে হত্যা!

দিল্লি সহিংসতার শিকার আকবরী

ভারতের দিল্লিতে ভয়াবহ সহিংসতার আগুন জ্বলছে। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রবিবার থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে নৃশংস সহিংসতা শুরু হয়েছে। এই সহিংস ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৮৫ বছর বয়সী একজন নারীও রয়েছেন। দাঙ্গা সৃষ্টিকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে বাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে তিনি মারা যান। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে। 

দিল্লিতে চারদিনের সহিংসতায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পাথর ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছে আরো ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। 
 
জানা গেছে, নিহত ওই বৃদ্ধার নাম আকবরী। মঙ্গলবার সকালে গামরি এক্সটেনশন এলাকায় জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। সে সময় তিনি তার বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। 

এনডিটিভিকে তার ছেলে জানিয়েছেন, তার মা তাদের বাড়ির তৃতীয় তলায় ছিলেন। সে সময় তার চার নাতি নাতনি দেখতে পেলেন যে, জনতা আগুন জ্বালানোর জন্য তাদের বাড়িতে আসছে।

আকবরীর ছেলে সায়েদ সালমানী বলেন, শিশুরা সকাল ১১ টার দিকে  বলেছিল বাড়িতে দুধ নেই। তাই আমি দুধ কিনতে বেরিয়েছিলাম। ফিরে আসার সময় আমার ছেলে ফোন করে  জানায়, প্রায় ১৫০ থেকে ২২ জন লোক বাড়িতে পৌঁছেছে। তারা হিন্দু না মুসলিম আমি জানি না। হিন্দু বা মুসলমান। বাচ্চারা ভেতর থেকে দরজায় তালা বন্ধ করে রেখেছিল।

তার চার সন্তান বাড়ির ভেতরে ছিল। এদের সবার বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। চার সন্তানের মধ্যে দুজন মেয়ে। 

সালমানী বলেন, আমার মা ওপরের তলায় ছিলেন। তিন সে সময় আটকা পড়েছিলেন। লোকেরা আমাকেও মেরে ফেলবে বলে আমি ভেতরে যেতে পারিনি।

তিনি বলেন, বাচ্চারা 'পাপা, আ জাও, বাচাও হামে (পাপা, এসো এবং আমাদের বাঁচাও) বলে ডাকতে ছিল। 

বাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে আকবরীর (মা) হাতে আগুন লেগেছিল এবং দম বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। বাচ্চারা বেঁচে গিয়েছে। 

সালমানি জানান, জনতা প্রথমে তার নিচতলায় পোশাক কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলায় আগুন দেওয়ার জন্য ওপরে উঠে যায়। 

তিনি জানান, পুরো পরিবার তৃতীয় তলায় থাকতো।

আকবরীর লাশ প্রায় ১০ ঘন্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে পড়ে থাকে। আগুন নেভানোর পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে দমকলকর্মীরা তাকে বাইরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 

সালমানি বলেন, আমি নিশ্চিত যে তিনি (মা) নিশ্চয়ই সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছে ... এখানে কেউ সাহায্য করতে পারেনি। তিনি দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন। 

সূত্র : এনডিটিভি 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা