kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

ভাইরাসের বাগড়া, ৯৫ বছর বয়সী অধ্যাপকও ক্লাস নিয়ে অনলাইনে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৭:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভাইরাসের বাগড়া, ৯৫ বছর বয়সী অধ্যাপকও ক্লাস নিয়ে অনলাইনে

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান অঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর হাজার হাজার মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইারস। বলা হচ্ছে, মানুষের সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ছে এই মারণ ভাইরাস। এমন পরিস্থিতিতে চীনের বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানের পদ্ধতি হিসেবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বেচে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। ই-টিচিং কৌশলকে কাজে লাগাচ্ছেন তারা।

অনলাইনে পাঠদানের পদ্ধতিটি অনেকের কাছে সহজ মনে হলেও কিছু প্রবীণ শিক্ষকের পক্ষে এটি এতো সহজ নয়। কারণ তারা জানেন না কিভাবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে হয়, কিভাবে ডিজিটাল পেন ব্যবহার করতে হয়। অনেক দূরে থেকে কিভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাশে মনযোগী করতে হয় তাও জানেন না তারা। 

৯৫ বছর বয়সী ঝাং লি টেসিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ইউনিভার্সিটির সবচেয়ে বয়স্ক ও  প্রবীণ শিক্ষক। তিনি ৭০ বছরে ধরে শিক্ষকতা করছেন। অনেক শিক্ষকদের মতোই তিনিও দূর থেকে এখন পাঠদান করছেন।

তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি একটি ইন্টারনেট ক্লাউড ক্লাসরুম চালু করেছেন। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কোর্সে ভর্তি হওয়া সারা দেশের শিক্ষার্থীদের এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঠদান করছেন। একটি অ্যালার্ম বাজিয়ে সকাল ৯টা ৫০মিনিটে তিনি ক্লাস নেওয়া শুরু করেন।

ঝাংয়ের স্টাডি রুমটি খুব বেশি প্রশস্ত নয়। এটির কোণে দুটি বুকশেলফ এবং জানালার পাশে একটি পুরাতন ডেস্ক রয়েছে। ডেস্কে রয়েছে পুরানো একটি ল্যাম্প, টেলিফোন এবং বেশ কয়েকটি বই। আর ডেস্কের মাঝে নতুন কম্পিউটারটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। তিনি এই কম্পিউটারটি ব্যবহার করেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন।

ঝাং বলেন, ইন্টারনেট ক্লাউড ক্লাসরুমটি খুব ভালো, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য। তিনি জানান, গতানুগতিক শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীরা সাধারণত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সাহস পায় না। কিন্তু ক্লাউড ক্লাসরুমে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। সেই সঙ্গে শিক্ষকরাও  সাথে সাথে উত্তর দিতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে বসে শিক্ষার্থদের পড়াশোনা শেষ করার কোনো সুযোগ না থাকায় এই বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে হয়েছে চীন সরকারকে। এমন উদ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ইন্টারনেট ক্লাউড ক্লাসরুম চালুর মাধ্যমে পাঠদানের কার্যক্রমকে আরো সহজভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা