• ই-পেপার

দর্জির ছেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী! কেন জানেন?

৮২ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ পাইলটের পরিচয় শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক
৮২ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ পাইলটের পরিচয় শনাক্ত
সংগৃহীত ছবি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থাইল্যান্ড ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) আকাশে একটি গোপন গোয়েন্দা অভিযানে নিখোঁজ হওয়া ২১ বছর বয়সী এক মার্কিন বিমানসেনার পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবন্দি ও নিখোঁজ সদস্যদের হিসাব সংরক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ওই বিমানসেনার নাম ফ্র্যাঙ্কলিন এইচ. ম্যাককিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমান বাহিনীর ১৪তম এয়ার ফোর্সের ৩৫তম ফটো রিকনেসান্স স্কোয়াড্রনের পাইলট ছিলেন। এই স্কোয়াড্রনের ডাকনাম ছিল ‘রেডহকস’। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৪ সালের ৫ নভেম্বর ম্যাককিনি চীনের ইউনান প্রদেশের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেন। তার কাজ ছিল বার্মা ও থাইল্যান্ডের আকাশে নজরদারি চালানো এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। তবে ওই মিশনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন বিমান বাহিনীর ইতিহাস অনুযায়ী, এই স্কোয়াড্রন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপন গোয়েন্দা অভিযানের জন্য পরিচিত ছিল, যা চীনে যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর থেকেই ম্যাককিনির উড়োজাহাজের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি আর কখনও ফিরে আসেননি। বিমান দুর্ঘটনার কোনো চিহ্নও তখন পাওয়া যায়নি। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তার মরদেহও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত আমেরিকান সামরিক সমাধিক্ষেত্রে নিখোঁজদের স্মৃতিফলকে তার নাম খোদাই করা হয়।

বহু বছর পর ম্যাককিনির খোঁজে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তে থাইল্যান্ডের রয়্যাল থাই এয়ার ফোর্স জাদুঘরের একটি যুদ্ধকালীন প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ ছিল, ম্যাককিনি নিখোঁজ হওয়ার দিন একটি বিমান বজ্রপাতের শিকার হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিমানটি বিস্ফোরণের পর থাইল্যান্ডের লামপাং প্রদেশের একটি বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। এর ভিত্তিতে ২০১৮ সালে গবেষকদের একটি দল এলাকাটিতে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি ধানক্ষেতের পাশে বিমান বিধ্বস্তের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে। পরে সেটিকে ম্যাককিনির উড়োজাহাজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২১ সালে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে আবারও তদন্ত চালায়। এরপর ২০২২ সালে একটি উদ্ধারকারী দল খনন অভিযান চালায় এবং সেখানে মানুষের মরদেহের কিছু অংশের সম্ভাব্য চিহ্ন পাওয়া যায়। পরীক্ষার জন্য এসব নমুনা ল্যাবে পাঠানো হলে আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, এগুলো ফ্র্যাঙ্কলিন এইচ. ম্যাককিনির মরদেহেরই অংশ।

ম্যাককিনির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নিখোঁজদের স্মৃতিফলকে তার নামের পাশে একটি গোলাপ চিহ্ন যুক্ত করা হবে এবং তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

শহীদ নেতার জানাজা শুরু, বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা

গাজী আব্দুর রশীদ, তেহরান থেকে
শহীদ নেতার জানাজা শুরু, বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা
সংগৃহীত ছবি

আজকের দিনটি ইতিহাসের পাতায়  ব্যানার হেডিং এ  লেখা হয়ে গেল। ইরানের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা শুরু হলো আজ থেকে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়  জানাজা ও শোক মিছিলের প্রথম দিনে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রতি বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী’র জানাজার প্রথম পর্যায় শুরু করেছে ইরান। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। শুক্রবার ভোরে শহীদ নেতার মরদেহ,তাঁর সঙ্গীদের মরদেহসহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয় এবং দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন বিদায় অনুষ্ঠানের আগে প্রধান প্রার্থনা কক্ষে রাখা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী প্রথম বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় স্কলার এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা ছিলেন। শহীদ সর্বোচ্চ নেতাকে সম্মান জানাতে ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী শহীদ হন। শহীদ নেতার জানাজায় যোগ দিতে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, জর্জিয়া এবং কিউবাসহ শতাধিক দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা ইরানে পৌঁছেছেন।

weRwwK

বহুদিন পর নেতা ফিরলেন আবাসস্থলের কাছে! শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর শেষ বিদায়ের শোকানুষ্ঠান মূলত গতরাত (বৃহস্পতিবার রাত) থেকেই শুরু হয়। গতরাতের শোকানুষ্ঠানটি ইমাম খোমেনী হুসাইনিয়ার পাশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি মূলত নেতার শাহাদাতস্থলের ঠিক পাশেই অবস্থিত। বহুদিন পর আবাসস্থলে ফিরলেন বিশ্ব-জালিমের আতঙ্ক আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী!  শোকাবহ এ অনুষ্ঠানে আহলে বাইত (আ.)-এর স্মরণে শোকগাঁথা পাঠকারীরা নানা শোকগাথা পরিবেশন করেছেন এবং ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার শোকে নওহা পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই শোকানুষ্ঠানের পর আজ শুক্রবার থেকে শহীদ নেতার এই সর্বজনীন বিদায় পর্ব শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধে নেতার পরিবার এবং তাঁর কার্যালয়ের কর্মীদের আত্মীয়রা শহীদ নেতাকে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বস্তরের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতির উদ্দেশ্যে এক্স পোস্টে প্রেসিডেন্টের বার্তা
‘বীরোচিত ইরান যখন ইসলাম ও বিপ্লবের একনিষ্ঠ সেবককে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে,তখন আমি জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি, যা জাতীয় ঐক্য এবং ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মহান আদর্শের প্রতি আনুগত্যের এক স্থায়ী চিত্র তুলে ধরবে।’

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই বহু-দিনব্যাপী জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন শোকাহত মানুষের সমাগম হবে। শনি ও রবিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মরদেহ শায়িত রাখার পর সোমবার তেহরানের মধ্য দিয়ে শোক শোভাযাত্রা বের হবে এবং অনুষ্ঠান চলবে। পবিত্র ধর্মীয় নগরী কোমে আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারিত রয়েছে। এরপর ইরাকের বাগদাদ,কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান হবে এবং সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।

এদিকে, ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ ভূপাতিত হওয়ার বার্ষিকী এবং প্রয়াত নেতার স্মরণ—উভয়ই ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার প্রতিফলন।

তিনি এক্স এ  লিখেছেন, আজকের দিনে, ইরানি জাতি তার শহীদ নেতার স্মৃতিকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি ফ্লাইট ৬৫৫-এর শহীদদেরও স্মরণ করছে। ১৯৮৮ সালে পারস্য উপসাগরের আকাশে ইউএসএস ভিনসেন্স কর্তৃক ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ ভূপাতিত করার বার্ষিকী হিসেবে ইরান ৩ জুলাই পালন করে,যে ঘটনায় ৬৬ জন শিশুসহ বিমানে থাকা ২৯০ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরবর্তীতে যুদ্ধজাহাজটির কমান্ডারকে পদক প্রদান করার জন্য ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।

লেখক : রেডিও তেহরানের সদ্য সাবেক সাংবাদিক।

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ছাড়িয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ছাড়িয়েছে
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৫৯৫-এ দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ। এদিকে উদ্ধার অভিযান এখন জীবিতদের খোঁজার পরিবর্তে ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

রদ্রিগেজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৪ জুনের এই দুর্যোগের পর এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকলেও গণকবর তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার বিশাল অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

রদ্রিগেজ বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক ভেনেজুয়েলার পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় সহায়তা ও ঋণের প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা আইএমএফের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করছে।’

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটির তেল আয়ের অর্থ পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা এবং প্রায় ৯০০ সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন এম ব্যারেট বলেন, এই অর্থ আশ্রয়কেন্দ্র, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা অঞ্চলে আট দিন পর জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা অনেকটাই কমে এসেছে। বন্দরনগরী কাতিয়া লা মারে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন এবং আন্তর্জাতিক দলগুলো এখনো নিখোঁজদের খুঁজে চলেছে।

তবে একটি আশার খবরও এসেছে। ৪৩ বছর বয়সী নিরাপত্তারক্ষী হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেসকে প্রায় আট দিন পর একটি ধসে পড়া শপিং মলের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপের ভেতরে বাতাস চলাচলের একটি ফাঁকা জায়গায় ছিলেন এবং ফাটলের মাধ্যমে দেওয়া খাবার ও পানি খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন এলাকায় এখনো মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত ভিড় থাকা আশ্রয়কেন্দ্র ও চিকিৎসাহীন আহতদের কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারের ধীরগতির সমালোচনার জবাবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকার এক দিনও দেরি করেনি এবং ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক স্থানে প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধারকাজ শুরু করেছিলেন।

এদিকে শুক্রবার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ১৮০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর তিনি দায়িত্ব নেন। এখন দেশটির জাতীয় পরিষদ তার মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্প্রতি ফেরত পাঠানো (ডিপোর্ট) অনেক ভেনেজুয়েলাবাসীও ছিলেন। নিহতদের একজন ছিলেন ২৮ বছর বয়সী ড্যানিয়েল আলেহান্দ্রো নুনিয়েজ রামিরেজ। তিনি ১০০ জনের বেশি ভেনেজুয়েলাবাসীর সঙ্গে ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগে দেশে ফিরেছিলেন।

পরিবারের দাবি, দেশে ফেরার পর তাদের লা গুইরার একটি হোটেলে রাখা হয়েছিল, যা অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। পরে ভবনটি ভূমিকম্পে ধসে পড়লে সেখানে থাকা ১৪৬ জনের বেশির ভাগই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

ড্যানিয়েলের মা ওসওয়াদেলিজ নুনিয়েজ ছেলের অস্থি সংগ্রহ করার পর বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো অপরাধী ছিল না। আমি চাই না এই মৃত্যুর বিচারহীনতা থাকুক।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, বিমানে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তিদের দায়িত্ব ভেনেজুয়েলা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

কেন খামেনির কফিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছে?

অনলাইন ডেস্ক
কেন খামেনির কফিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছে?
ছবি : রয়টার্স

কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিনটি তার হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট স্থান তেহরানের জমহুরি সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কফিন উন্মোচনের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’ (আইআরআইবি)।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। পরে ইরান সরকার জমহুরি সড়কের সেই ঘটনাস্থলে শোকাহত সাধারণ মানুষের জন্য ‘রাভাগ কেশভারদৌস্ত’ নামে একটি অস্থায়ী উপাসনালয় তৈরি করে। ইসলামে মরদেহকে মৃত্যুর স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো প্রথা না থাকলেও, ইরানের এই পদক্ষেপটিকে শিয়া সংস্কৃতির ‘শাহাদাত’ ও স্মরণের গভীর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বজুড়ে শিয়া মুসলমানদের কাছে খামেনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন দ্বাদশ শিয়া ইসলামের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদমর্যাদা ‘মারজা-ই তাকলিদ’।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির শেষ বিদায়ের মূল জানাজা ও আনুষ্ঠানিকতা ৪ জুলাই (শনিবার) থেকে শুরু হয়ে চলবে ৯ জুলাই পর্যন্ত। ৪ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত তিন দিন সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিনটি রাজধানীর ‘ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসালা’ কমপ্লেক্সে রাখা হবে। এ উপলক্ষে তেহরানে তিন দিনের সরকারি শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কফিনটি শিয়াদের পবিত্র স্থান ইরাকের নজফ ও কারবালা হয়ে নিয়ে যাওয়া হবে খামেনির জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে। সেখানে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ঐতিহাসিক ‘ইমাম রেজা মাজারে’ তাকে সমাহিত করা হবে।

১৯৮৯ সালের ১১ জুন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির জানাজায় প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল। ইরানের বর্তমান কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবারের পরিস্থিতি ও আবেগ বিবেচনায় খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে খোমেনির জানাজার চেয়েও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে, যা তেহরানের ইতিহাসে বৃহত্তম সমাবেশের রেকর্ড গড়বে।

দর্জির ছেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী! কেন জানেন? | কালের কণ্ঠ