kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

'মিরপুর থেকে দেখছি, নোয়াখালী থেকেও'- কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে যত হাস্যরস

অনলাইন ডেস্ক   

২ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মিরপুর থেকে দেখছি, নোয়াখালী থেকেও'- কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে যত হাস্যরস

অক্টোবর মাস গিয়ে নভেম্বর শুরু হয়ে গেছে। যথারীতি পর্যটকদের ভিড় বেড়ে গেছে দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। কারণ বাংলাদেশের এই জায়গাটি থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলোয় ঝলসে ওঠা কাঞ্চনজঙ্ঘা। বছরের এই সময়টাতে হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ দেখতে পাসপোর্ট-ভিসা করে দার্জিলিং না গেলেও চলে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আর আকাশ পরিস্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব রূপ। 

যথারীতি এই সময়ে দেশের প্রায় সব মিডিয়ায় পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অনেকেই স্বচক্ষে দেখে এসে সোশ্যাল সাইটে অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। বিষয়টি যে কখন ট্রলের পর্যায়ে চলে গেছে, কেউই জানে না। গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল সাইটে ট্রেন্ড হয়ে গেছে  কাঞ্চনজঙ্ঘা। অসংখ্য মিম তৈরি করা হচ্ছে। ফটোশপ করে মিরপুর আর কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি যুক্ত করে লিখে দেওয়া হচ্ছে, 'মিরপুর থেকে স্পষ্ট দেখতে পারছি কাঞ্চনজঙ্ঘা।' 

আরেকজন হয়তো এর থেকে উৎসাহ পেয়ে নোয়াখালী গেটের ছবি ফটোশপ করে লিখছেন, 'আমি তো নোয়াখালী থেকেই দেখতে পারছি।' মিমের তালিকা থেকে ঢাকার গুলিস্তান, চট্টগ্রামের গোলপাহাড়, খুলনা রেলওয়ে স্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিও এমনকী কবি নজরুল কলেজও বাদ যায়নি। অনেকেই সিরিয়াসলি লিখছেন, তারা ছোটবেলা থেকেই এই অপূর্ব দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত। তবে বিষয়টি অল্প কয়েক বছর ধরে মিডিয়ার কল্যাণে দেশের সবাই জেনে গেছে। পঞ্চগড়ে উপচে পড়ছে পর্যটকেরা। 

বিষয় হলো, ফেসবুকে হাসাহাসি করুন আর মিম বানান; এটা কিন্তু কাঞ্চজঙ্ঘা দেখার দারুণ এক সুযোগ। পাসপোর্ট-ভিসা আর অর্থকড়ি না থাকলে, পঞ্চগড়ে গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে আসতে পারেন। ঢাকা থেকে আছে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন; আছে বাস সার্ভিসও। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই সময়টুকুতেই মেঘমুক্ত ও কুয়াশামুক্ত আবহাওয়ায় আকাশের বুকে ভেসে উঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সেই সাথে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি অঞ্চলও কালো পাহাড়ের মতো ভেসে ওঠে। 

কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ করার করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ও বিকেলবেলা। ভোরে আলো ফুটতেই কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া যেন ঝলসে ওঠে। চারপাশে তখনে আবছা অন্ধকার থাকলেও চকচক করে চূড়াটি। বিকেলে পর্বত চূড়াটি পোড়ামাটির রঙ নেয়। এই অপূর্ব দৃশ্য স্বচক্ষে দেখার অনুভূতির তুলনা হয় না। সন্ধ্যায় দার্জিলিংয়ের জ্বলে ওঠা বাতিগুলোও এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। এ দৃশ্য উপভোগ করতে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা