kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

আরো কঠিন পথে বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০২:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরো কঠিন পথে বাংলাদেশ

পোশাক দিয়েই তাঁদের খুব সহজে আলাদা করে নেওয়া যায়। পুরনো দুবাই বলে পরিচিত দেরা এলাকাও রবিবার রাতে কাঁপিয়ে তুললেন তাঁরা। কাবুলি পরিহিতদের খণ্ড খণ্ড বিজয় মিছিল দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে এই জয়োৎসব এখানে থিতু হওয়া পাকিস্তানিদের। সেদিন দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলির ভারতকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দেওয়া জয়ে পাকিস্তানের শুরু।

একই দিনে শুরু বাংলাদেশেরও, তবে সেটি শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে। অথচ লাল-সবুজ পতাকা হাতে আর জার্সি গায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও ঢল নেমেছিল সেদিন শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রস্তুতি ছিল সেখান থেকে বিজয় মিছিলেরও। কিন্তু সব প্রস্তুতিতে জল ঢেলে দেওয়া হারে বরং ক্যাচ ফেলার রিনিঝিনি বেদনার সুরই বেশি করে বাজছে। যে দুই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের মুঠো গলে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেলেন, সেই চারিথ আশালঙ্কা ও ভানুকা রাজাপক্ষেরা সুযোগ দিয়েছিলেন। দুটিই লুফে নিতে পারতেন লিটন দাস। কিন্তু উল্টো ক্যাচ ফেলে ব্যাট হাতেও ব্যর্থ এই ওপেনারের এখন সমালোচনার চাপে আরো চিঁড়েচ্যাপটা হওয়ার মতো অবস্থা।

ঘটনার এক দিন পরও রয়ে গেছে এর রেশ। বিশেষ করে দলের কেউ তা চেপেও যেতে পারছেন না আবার প্রকাশ্যেও কিছু বলায় ভীষণ সতর্ক। আগের দিন মুশফিকুর রহিমকেও বলতে শোনা গেছে যে ক্যাচ ফেলাটা দায় নয়, ভুল। সেই ভুল না করলে যে জেতার বিশ্বাস ছিল দলের মধ্যে, সেটিও শোনা গেল কাল। লঙ্কানদের বিপক্ষে ৬২ রানের ইনিংস খেলা নাঈম শেখ যেমন নিজেদের ইনিংস শেষে জেতার মতো স্কোর হয়ে গেছে বলেই মনে করেছিলেন, ‘আমরা কাল যে রান করেছিলাম, সেটি ডিফেন্ড করার মতোই ছিল।’ তা না করতে পারার ব্যাখ্যায় লিটনের ক্যাচ ফেলার ভুল কোনো না কোনোভাবে চলেও এলো, ‘কাল কোনো একটি ভুলের কারণে আমরা জিততে পারিনি।’

তাই বলে এই হারেই তো আর ডুবে থাকা যাবে না। তাকাতে হবে সামনে। কিন্তু সামনে আবার আরো কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষায়। সুপার টুয়েলভ পর্বে শক্তিশালী দলের ভিড়ে শ্রীলঙ্কাই মূলত বাংলাদেশের সাধ্যের মধ্যে ছিল বলে ধরা হয়ে এসেছে। যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পাল্লাই ভারী। কিন্তু এই দলের বিপক্ষেও জয় দুঃসাধ্য হয়ে যাওয়ার পরদিন মাহমুদ উল্লাহর দল বিশ্রামেই কাটাল পুরোটা দিন। হয়তো প্রবল প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে কিছুটা ঝরঝরে হয়ে নিতেই। এবার যে সামনে ইংল্যান্ড।

আগামীকাল আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচটি আবার এক দিক দিয়ে বাংলাদেশের জন্য ‘প্রথম’ও। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে যে ইংলিশদের বিপক্ষে খেলাই হয়নি কখনো। এই বিশ্বকাপে আসার আগেই সেই দেখাটা হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তা-ও আবার নিজেদের মাটিতেই। কিন্তু ইংলিশ ক্রিকেটারদের আইপিএল খেলার সুবিধার্থে সফরটি স্থগিত করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তাই বিশ্বকাপের মতো আসরে এসেই ইংল্যান্ডের সঙ্গে হচ্ছে প্রথম দেখা।

ওয়ানডের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এই বিশ্বকাপও শুরু করেছে দোর্দণ্ড প্রতাপেই। এমনই যে ২০১৬ সালের আসরের ফাইনালের ‘রি-ম্যাচ’ দেখার আশায় থাকা ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশই হতে হয়েছে। ইংলিশরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রীতিমতো দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে। ক্যারিবীয়দের ৫৫ রানে অলআউট করে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাসেও টগবগ করে ফুটছেন এউইন মরগ্যানরা। ওয়ানডে হলে তবু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পুরনো কিছু সাফল্যের স্মৃতি রোমন্থন চলে।

যেমন চলেছিল ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগেও। যেহেতু পর পর দুই বিশ্বকাপেই তাঁদের হারিয়েছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০১৫-তে অ্যাডিলেইডে মরগ্যানের দলের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছিল তাঁরা। কিন্তু এর পর থেকে সময় বদলেছে, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইংল্যান্ডও নিজেদের এমন বদলে ফেলেছে যে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে তাঁরা বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। কার্ডিফে আগে ব্যাট করে তাঁরা ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৮৬ রান তুলতেই ম্যাচের নিয়তি লেখা হয়ে যায়।

এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও একই নিয়তি বদলাতে হলে আগে বের হওয়া চাই শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ভুলের ফাঁদ থেকেও!



সাতদিনের সেরা