বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরো একটি হৃদয়ভাঙা রাত কাটল ব্লু সামুরাইদের। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুক চিতিয়ে লড়াই করেও শেষরক্ষা হলো না। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলের নাটকীয় হারে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ হলো জাপানের এবারের স্বপ্নযাত্রা।
তবে এমন চরম নাটকীয় আর কষ্টের হারের পরও ভেঙে পড়ছেন না জাপানের মাস্টারমাইন্ড হাজিমে মোরিয়াসু। ম্যাচ শেষে তার কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরলেও, ভবিষ্যতের জন্য ছিল বুকভরা আত্মবিশ্বাস। জাপান কোচের সাফ কথা, বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের দূরত্বের ব্যবধানটা এখন অনেকটাই ঘুচে এসেছে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মোরিয়াসু বলেন, ‘ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব এখন অনেকটাই কমে আসছে। ওরা নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তবে আমরাও এখন ওদের সেই স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি।’
বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান জাপানের জন্য এক নির্মম ট্র্যাজেডির নাম। এ নিয়ে টানা তিন আসরের নকআউট পর্বে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে না পেরে বিদায় নিতে হলো এশিয়ান এই পরাশক্তিকে।
২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল জাপান। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও প্রথমে লিড নিয়ে টাইব্রেকারে বিদায়ের স্তব্ধতা। আর এবারও সেই একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি। লিড নিয়েও শেষ রক্ষা হলো না জাপানের।
হিউস্টনের মাঠে সোমবার ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর চমৎকার গোলে লিড নিয়ে ব্রাজিলকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল জাপান। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হওয়া সেলেসাওদের আর আটকে রাখা যায়নি। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোল জাপানের বুক ভেঙে দেয়।
এই হারের ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের প্রথম জয়ের অপেক্ষাটা আরো দীর্ঘ হলো। তবে মোরিয়াসু বিশ্বাস করেন, এই ইতিহাস একদিন বদলাবেই। তার ভাষায়, ‘ইতিহাস হয়তো আমাদের প্রতি সদয় হচ্ছে না। তবে আমি নিশ্চিত, একদিন আমরা এই বৃত্ত ভাঙবই। সেদিন ইতিহাসটাই বদলে যাবে।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৫ বারের দেখায় এটি জাপানের ১২তম হার। দুটি ম্যাচ ড্র হলেও একমাত্র জয়টি এসেছিল গত অক্টোবরের এক প্রীতি ম্যাচে। কোচের মতে, সেই জয় আর এবারের জানপ্রাণ লড়াই প্রমাণ করে জাপান সঠিক পথেই এগোচ্ছে, তবে চূড়ায় পৌঁছাতে হলে নিজেদের মান আরো বাড়াতে হবে।
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে শিষ্যদের সান্ত্বনা দিয়ে এই হতাশাকেই ভবিষ্যৎ এগিয়ে যাওয়ার জ্বালানি বানানোর তাগিদ দিয়েছেন মোরিয়াসু। তবে দলের স্বপ্নপূরণ না হওয়ার সব দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন এই জাপানি ট্যাকটিশিয়ান।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন। কিন্তু সেটা আমরা পারলাম না। প্রধান কোচ হিসেবে আমি খেলোয়াড়দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ওদেরকে সাফল্যের সেই শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য হয়তো আমি নিজেই যথেষ্ট যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি।’




