• ই-পেপার

মেসির জন্মদিনে সতীর্থদের ভিন্ন রকম উদযাপন

মেসিকে বোঝার চেষ্টা বৃথা—থিয়েরি অঁরি

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিকে বোঝার চেষ্টা বৃথা—থিয়েরি অঁরি
ছবি : ইউটিউব

চলমান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তারকারা নিজ নিজ আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপে নিজের ছন্দে সব আলোয় নিজের করে নিয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এক নম্বরে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। মেসিকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বার্সেলোনা সতীর্থ ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি বললেন, মেসিকে বোঝার চেষ্টা বৃথা।

সাবেক ইংলিশ তারকা রিও ফার্দিনান্দের ইউটিউব চ্যানেলের এক পডকাস্টে এ কথা বলেন তিনি।

পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে থিয়েরি অঁরি এমন কিছু কথা শোনালেন, যা এই জাদুকরের এক অচেনা দিক আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।

দর্শকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে অঁরি বলেন, ‘তোমরা কি ওর শরীরটা দেখেছ?’ মানুষ শুধু প্রতিভার কথা বলে, কিন্তু এর নেপথ্যের হাড়ভাঙা খাটুনি আর চরম শৃঙ্খলার কথা কেউ মনে রাখে না। ফুটবলের প্রতি মেসির এই নিরলস সাধনা আর পাগলামিকে কেউ দেখে না বলে যোগ করেন এই কিংবদন্তি।

পডকাস্টে অঁরির সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য ছিল মেসির ফ্রি কিক নিয়ে, বার্সেলোনায় মেসির এই যাত্রার শুরুর দিকের কথা স্মরণ করে অঁরি বলেন, ‘ওর ফ্রি কিক তখন একেবারেই ভালো ছিল না। আমি ভাবতাম, এই ছেলেটা কোনো দিন ফ্রি কিকে দক্ষ হতে পারবে না।’ 

কিন্তু তারপরই শুরু হলো এক অদ্ভুত অধ্যবসায়। দিনের পর দিন অনুশীলনের শেষে ছেলেটা একা দাঁড়িয়ে শুধু দেয়ালে বল মেরে যেত। এই নিরলস পরিশ্রমই জন্ম দিয়েছে আজকের সেই মারণাস্ত্রের, যা থেকে শট নিলে বল হয় জালে জড়াবে, নয়তো পোস্ট কাঁপাবে বলে জানান তিনি।

অন্য বড় ফুটবলারদের সঙ্গে মেসির সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা কিন্তু প্রতিভায় নয়, মনস্তত্ত্বে। অঁরি মেসির আরো একটি চমৎকার বিষয় জানিয়েছেন, সাধারণত সতীর্থদের অনুশীলনে যা করতে দেখা যায়, মাঠে তার দশ ভাগের এক ভাগও তারা করে দেখাতে পারেন না। কিন্তু ‘জোরো’ (মেসির ডাকনাম উল্লেখ করে অঁরি বলেছেন) ছিলেন একেবারেই উল্টো। তিনি অনুশীলনে যা করতেন, মাঠে তার চেয়েও অনেক বেশি করতেন। বন্ধ দরজার পেছনের জাদুর চেয়ে গ্যালারির লাখো মানুষের সামনের জাদুটা অনেক বেশি বাস্তব এবং নিখুঁত ছিল।

খেলার প্রতি মেসির খিদেও ছিল অবিশ্বাস্য। একটা অর্ধে চার গোল করলে সে চাইত পাঁচ গোল করতে, পাঁচ হলে ছয়। এই চরম পারফেকশনের খোঁজই হয়তো তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছে। ড্রেসিংরুমে এমন একজন সতীর্থ থাকলে বাকিরা তাঁর জন্য মাঠে নিজেদের উজাড় করে দৌড়াতে প্রস্তুত থাকে। অথচ এত এত সাফল্যের চূড়ায় বসেও কোনোদিন এই মানুষটিকে বলতে শোনা যায়নি যে তিনিই সেরা। বিনয় এবং ফুটবলের প্রতি তীব্র আকর্ষণের এমন নিখুঁত মেলবন্ধন খুব কমই দেখা যায় বলে আরো বলেন ফ্রান্সের এই বিশ্বকাপজয়ী স্ট্রাইকার।

রেকর্ড গড়া ম্যাচে ফুটবলকে বিদায় জানালেন তারকা গোলরক্ষক

ক্রীড়া ডেস্ক
রেকর্ড গড়া ম্যাচে ফুটবলকে বিদায় জানালেন তারকা গোলরক্ষক

বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেক্সিকোর তারকা গোলরক্ষক গিয়ের্মো ‘মেমো’ ওচোয়া। গড়লেন ছটি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য ইতিহাস।

খেলা শুরুর আগেই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিয়েছিলেন এই তারকা। আসর শেষ হলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়। তবে বিদায়ের ঘোষণায় গড়লেন ইতিহাস। চেকিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে নেমে মেক্সিকোর জার্সিতে নতুন রেকর্ড গড়লেন ওচোয়া। ৪০ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে দেশের হয়ে মাঠে নেমে হয়ে গেলেন মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের সম্মান। 

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ওচোয়া। তাতেই গড়েন ইতিহাস, ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ১৩৯ দিন বয়সে মাঠে নেমে রাফা মার্কেসের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। সঙ্গে আরো একটি বিশেষ কৃতিত্ব যোগ হয়। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার নজির গড়েন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ২০০৬ ও ২০১০ সালে বদলি গোলরক্ষক ছিলেন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে প্রথম একাদশে খেলেছেন। এবারও সুযোগ এল লুইস আঞ্জেল মালাগনের চোটের কারণে। তার জায়গায় প্রথম গোলরক্ষক হন রাউল র‌্যাঙ্গেল, আর শেষ ম্যাচে ওচোয়াকে নামিয়ে বিশেষ সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় কোচিং স্টাফ।

তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় চেকিয়াদের। আর ওচোয়া? ১৩ নম্বর জার্সি গায়ে শেষ ১৩ মিনিট খেলে শেষ করলে দীর্ঘ ক্যারিয়ার। সংখ্যার এই কাকতালীয় মিল পরিকল্পিত নয়। কিন্তু মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে তাঁর নাম যে অনেক দিন অমলিন থাকবে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ
পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত

একসময় পাকিস্তান ক্রিকেট দল দোর্দন্ড প্রতাপে শাসন করেছে বিশ্ব। ইমরান খানের মত নেতা; জাভেদ মিয়াঁদাদ, সাঈদ আনোয়ার, ইনজামামের মত ব্যাটসম্যান; শোয়েব আখতার, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুসের মত দুরন্ত ফাস্ট বোলার আতঙ্ক ছিল প্রতিপক্ষের। পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই সূর্য এখন অস্তগামী। অনেক দিন বলার মত কোনো সাফল্য নেই তাদের। পুরুষ ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার ছায়া পড়েছে নারী ক্রিকেট দলেও। সাফল্য নয়, বিতর্কই যেন এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।

ইংল্যান্ডে নারী টি-২০ বিশ্বকাপে এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি দলটি। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও খরা ছিল জয়ের। ব্যর্থতার হাত ধরেই এসেছে বিতর্ক আর অন্তর্কোন্দল। দলের সিনিয়র সদস্য আলিয়া রিয়াজ হোটেল রুমে তার স্বামীকে নিয়ে আসলে অধিনায়ক ফাতিমা সানা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অধিনায়ক দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন কোচ ও দলের মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজের সাথেও।

গত শনিবার বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সিনিয়র সদস্য আলিয়া রিয়াজের রুমে তার স্বামী আলী ইউনুসকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। তিনি আলীকে রুম ছেড়ে যেতে বলেন। আলিয়াও কম যান না। অধিনায়কের ক্ষোভকে পাত্তা না দিয়ে আলিয়া ম্যাচের আগের দিন নির্ধারিত প্র্যাকটিস ফেলে স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে যান। আলিয়ার আচরণ ফাতিমাকে আরো ক্ষুব্ধ করে। তিনি বাংলাদেশের ম্যাচে আলিয়াকে দলে রাখতে চাননি।

কিন্তু ফাতিমার পরামর্শ উপেক্ষা করে কোচ আলিয়াকে রেখেই একাদশ চূড়ান্ত করেন। ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ২৩ রানে হারে পাকিস্তান, আলিয়া ম্যাচে কোনো রানই করতে পারেননি। পরাজয়ের পর রাগে ফেটে পড়েন অধিনায়ক ফাতিমা। তিনি সবার সামনে এ পরাজয়ের জন্য কোচকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ কোচ দলের শৃঙ্খলা প্রটোকল ভঙ্গ করেছেন। এ নিয়ে দলে ক্রিকেটারদের মধ্যে এবং কোচের সঙ্গে ক্রিকেটারদের বহুমুখী দ্বন্দ্ব এখন অনেকটাই প্রকাশ্যে। অবশ্য কোচ নাকি ব্যর্থতার দায় চাপিয়েছেন ক্রিকেটারদের ঘাড়ে। তারা কোচের পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারেন না বলেই নাকি সাফল্যের দেখা মিলছে না।

পিসিবি অবশ্য এ অন্দর্কোন্দলের কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। গত ৩/৪ বছরে বারবার কোচ বদল করেও সাফল্যের দেখা পায়নি পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাফনারা। গ্রুপ ‌‘এ’তে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র ও শেষ ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তিদের হারিয়ে রাউন্ড থার্টি টুতে জায়গা করেছে নিয়েছে হুগো ব্রুসের শিষ্যরা। 

স্বাগতিক হিসেবে ২০১০ বিশ্বকাপের পর এবার আবার সুয়োগ পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই লেখলেন রূপকথার গল্প। হতাশাজনক শুরুর পর দুর্দান্তভাবে ফিরে জায়গা করে নিলেন নকআউটে।

মেক্সিকোর মন্টেরিতে গতকাল দ্বিতীয়ার্ধে থাপেলো মাসেকোর গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করার পাশাপাশি মেক্সিকোর পর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানও দখল করে বাফনারা।

দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হং মায়াং-বো এশিয়ান অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত অধিনায়ক সন হেয়াং-মিনকে বদলী বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশ সাজিয়েছিলেন। যা অনেককেই বিস্মিত করেছে। এশিয়ান পরাশক্তিরা ম্যাচটা দারুনভাবে শুরু করেছিল। অস্থায়ী অধিনায়ক কিম মিন-জায়ের শক্তিশালী হেড গোললাইনের উপর থেকে ব্লক করেন অব্রে মোডিবা।

দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নেয়। আক্রমনাত্মক কৌশলে খেলতে থাকলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না বাফানারা। ৩০ মিনিটে থালেন্টে এমবাথার শট কোনোমতে রক্ষা করেন দক্ষিণ কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেয়াং-গিউ। পোস্টের খুব কাছে থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মাগোপা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন সন। এ সময় কোচ হং তিনটি পরিবর্তন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড ওহ হায়েয়ন-গিউ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরীক্ষায় ফেলেন। 

৬৩ মিনিটে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে। সেপাং মোরেমির ক্রসে মাসেকোর গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকানরা। ম্যাচের শেষ ভাগে দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ফিরে আসার জোড় চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।

এই পরাজয়ে দক্ষিণ কোরিয়ারও অবশ্য স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদের সামনে এখনো নক আউট পর্বে যাবার আশা টিকে আছে।

আগামী ২৮ জুন লস এ্যাঞ্জেলসে শেষ ৩২’এ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ সহআয়োজক কানাডা।