• ই-পেপার

মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কি গুজব ছড়ানো হচ্ছে

বিশ্বকাপে ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন ভোজিনহার মা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন ভোজিনহার মা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের স্বপ্নপূরণের সাক্ষী হতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরা। বুধবার দেশটির সাও ভিসেন্তে দ্বীপের সেসারিয়া এভোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

যাত্রার আগে নাতি মারভিন জুনিয়র ও নাতনি লাইস সোফিয়াকে নিয়ে বিমানবন্দরে আবেগঘন মুহূর্তে ছবি তোলেন আনা কান্দিদা। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

চলমান বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশেষ করে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ সব সেভ করে দলকে মূল্যবান ড্র এনে দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচের আগে অনেকেই একপেশে লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে মাঠে যেন অদম্য এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা। তার দুর্দান্ত গোলরক্ষণের সামনে বারবার ব্যর্থ হয় স্পেনের তারকা আক্রমণভাগ।

‘জয়টা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’—রোনালদোর পাশে দাঁড়ালেন বোন

ক্রীড়া ডেস্ক
‘জয়টা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’—রোনালদোর পাশে দাঁড়ালেন বোন
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের প্রথম ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর যখন সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, তখন তার ঢাল হয়ে সামনে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা। পর্তুগালের ১-১ গোলের ড্রয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোর পক্ষে কথা বলেছেন তার দুই বোন এলমা ও কাতিয়া আভেইরো।

এই ম্যাচে রোনালদো ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন তিনি, যা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলে তার সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ গোলশূন্য থাকার রেকর্ডও দীর্ঘ হয়েছে।

এমন পারফরম্যান্সের পর সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকার সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। তবে বোন এলমা আভেইরো মনে করেন, পর্তুগাল জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে রোনালদোর একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘শুরুটা কঠিন হতে পারে, কিন্তু শেষটা ভালো হবে। মাঠে যারা থাকে, তারাই জানে চাপটা কতটা। বাইরে থেকে কথা বলা সহজ। আর এভাবে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হলে সেটাও মেনে নেওয়া সহজ নয়।’

অন্যদিকে কাতিয়া আভেইরোও ভাইয়ের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে তিনি দায় চাপিয়েছেন পুরো দলের পারফরম্যান্সের ওপর। তার মতে, ম্যাচের এক পর্যায়ে পর্তুগাল নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল।

কাতিয়া লেখেন, ‘হঠাৎ করেই যেন সবাই একে অপরকে পাস দেওয়া, বল পুনরুদ্ধার করা কিংবা পাল্টা আক্রমণ গড়া ভুলে গেল। খেলা শুধু মাঝমাঠ আর রক্ষণভাগেই সীমাবদ্ধ ছিল। অদ্ভুত এক বিশ্বকাপ। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’

তবে রোনালদোর পক্ষে পরিবারের এই অবস্থানের বিপরীতে কঠোর সমালোচনা করেছেন ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি। তার মতে, গোল করার অতিরিক্ত চেষ্টায় রোনালদো দলের আক্রমণভাগের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করেছেন।

অঁরি বলেন, ‘দলের গোল দরকার, তোমার ব্যক্তিগত গোল নয়। গোল করার তাড়নায় সে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পথেই চলে যাচ্ছিল, ফলে প্রতিপক্ষের জন্য রক্ষণ সামলানো সহজ হয়ে গেছে।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর এখন পর্তুগালের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ২৩ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জয় পেতে মরিয়া থাকবে রবার্তো মার্তিনেসের দল। আর সেই ম্যাচেই হয়তো সমালোচনার জবাব দিতে চাইবেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ডেভিডের হ্যাটট্রিক, কাতারকে বিধ্বস্ত করে ঐতিহাসিক জয় কানাডার

ক্রীড়া ডেস্ক
ডেভিডের হ্যাটট্রিক, কাতারকে বিধ্বস্ত করে ঐতিহাসিক জয় কানাডার
কানাডিয়ানদের গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

কানাডা ৬-০ কাতার

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম উন্মাদনা নাকি কানাডাকে নিয়ে। এমনকি কানাডা এবারের আসরে সহ-আয়োজক হওয়ার পরেও।

কিন্তু ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসের লাল সমুদ্র দেখলে কে বলবে, কানাডায় বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা নেই! ঘরের মাঠের সেই সমর্থন পেয়েই ডেভিড-লারিন-কোনেরা জ্বলে উঠলেন। একটি-দুটি নয়; গুনে গুনে কাতারকে ছয় গোল দিল স্বাগতিকরা। তাতে কাতারিদের ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অবশেষে প্রথম জয়ের দেখা পেল কানাডিয়ানরা। 

ঐতিহাসিক এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান জোনাথান ডেভিডের। জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ড হ্যাটট্রিক করে জিওফ হার্স্টের ৬০ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়েছেন। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের খেলোয়াড় হিসেবে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংলিশ কিংবদন্তি হার্স্ট; লন্ডনের ওয়েম্বলিতে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৬৬ আসরের ফাইনালে।

এর আগেও দুবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে কানাডা৥১৯৮৬ ও ২০২২ সালে। দুবারই তিনটি করে মোট ছয় ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। 

তবে এবার দেশের মাটিতে যেন ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে নেমেছে কানাডা। গত ১২ জুন টরন্টোয় নিজেদের প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পায় কানাডিয়ানরা। আজ ভ্যাঙ্কুভারে সর্বশেষ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারে গুড়িয়ে ঐতিহাসিক জয়ও পেল। 

চোট থেকে পুরোপুরি না ওঠায় এ ম্যাচেও খেলতে পারেননি কানাডার অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস। তবে তার অনুপস্থিতি দলের খেলায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। 

বসনিয়ার বিপক্ষে যার গোলে কানাডা ম্যাচে সমতা এনে শেষ পর্যন্ত ড্র করেছিল, ১৬ মিনিটে সেই কাইল লারিনের গোলেই আজ এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। 

গোল উৎসবের সেই যে শুরু; তা রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় ছিল। দুই লাল কার্ডে কাতার ৯ জনের দলে পরিণত হওয়ায় কানাডার কাজটা আরো সহজ হয়েছে। ৩৩ মিনিটে হোমাম আহমেদ ও ৫৩ মিনিটে আসিম মাদিবোকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন রেফারি। 

হ্যাটট্রিকে সব আলো কেড়ে নেওয়া জোনাথান ডেভিড প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন। তৃতীয় ও শেষ গোলটা করেন ম্যাচের যোগ করা সময়ে। কানাডার আরেক গোলদাতা নাথান সালিবা। আর ৭৫ মিনিটের গোলটা কাতারের দেওয়া ‘উপহার’। মোহাম্মদ মানাই নিজেদের জালে বল জড়ান। 

২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে কানাডা। সুইজারল্যান্ডেরও পয়েন্ট ৪। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে আছে সুইসরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না বসনিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না বসনিয়া
সুইজারল্যান্ডের মানজাম্বি জোড়া গোল করেছেন। ছবি: ফিফা

সুইজারল্যান্ড ৪-১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল খেয়েছিল সুইসরা। 

লস অ্যাঞ্জেলেসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আজও যোগ করা সময়ে গোল খেয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে এবার ২৩ মিনিটের ব্যবধানে তারা করেছে চার গোল! তাতে বসনিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে সুইজারল্যান্ড।

ম্যাড়মেড়ে ম্যাচের সব রোমাঞ্চ যেন জমিয়ে রাখা হয়েছিল শেষের জন্য। ৭৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ের বাকি ১৬ মিনিটে আরো দুবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপায় সুইসরা। যোগ করা সময়ে দুই দলই পায় জালের দেখা। 

সুইজারল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ইয়োহান মানজাম্বি। একাবার করে জাল খুঁজে পেয়েছেন দলটির লেফট উইঙ্গার রুবেন ভারগাস ও অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। বসনিয়ার হয়ে এক গোল পরিশোধ করেন এমিন মাহমিচ।

এ জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অব থার্টি টু-এর পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে সুইজারল্যান্ড। 

চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বাছাই পর্বের প্লে-অফ থেকে বিদায় করে বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয়বারের মতো পা রাখে বসনিয়া। এই আসরে প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে ড্র করে শুরুটা মন্দ করেনি পূর্ব ইউরোপের দেশটি। 

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও শুরু থেকে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যায় বসনিয়া। নির্ধারিত সময়ের ১৬ মিনিট আগ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে মহামূল্যবান ১ পয়েন্টের আশায় ছিল দলটি। তবে শেষের রোমাঞ্চ জিতে নিয়েছে সুইসরা।