• ই-পেপার

একসঙ্গে ৩ কিংবদন্তিকে পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে

মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে বিধ্বস্ত করল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে বিধ্বস্ত করল আর্জেন্টিনা
হ্যাটট্রিক করার পর সতীর্থদের উদযাপনের মধ্যেমণি মেসি। ছবি : রয়টার্স

ক্যারিয়ারে ৬০টি হ্যাটট্রিক করেছেন লিওনেল মেসি। তবে বিশ্বকাপে ছিল না একটিও। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল এবার। ক্যারিয়ারের শেষে এসে আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করার মতোই। কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা মেসি এবার হ্যাটট্রিকের দেখাও পেলেন।

নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকটি তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম। তার হ্যাটট্রিকে ৩-০ ব্যবধানে আলজেরিয়াকে বিধ্বস্ত করেছে আর্জেন্টিনা।

বিস্তারিত আসছে...

অবশেষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
অবশেষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি
হ্যাটট্রিক করার পর মেসির উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

ক্যারিয়ারের শেষে এসে আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপে ট্রফি জিতে। এবার না পাওয়া আরেকটি আক্ষেপও পূরণ করলেন তিনি।

নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকটি তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম। তার হ্যাটট্রিকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করার পর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন তিনি।

শুরুটা করেন ১৭ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে। ৬০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি।গোলটি করতে কোনো পরিশ্রম করতে হয়নি মেসিকে। শুধু ঠান্ডা মাথায় জালের পথ দেখিয়ে দিতে হয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে। ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন ম্যাক অ্যালেক্সিস ম্যাক- অ্যালিস্টার। সেটা ধরতে গিয়ে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেন লুকা জিদান, সামনেই থাকা মেসি বাঁ পায়ে শুধু আলতো টোকা দেন।

৬৬ মিনিটে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন তিনি। তবে তার হ্যাটট্রিকে বাধা হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা। কর্নারের বিনিময়ে আলজেরিয়াকে তৃতীয় গোল হজম করা থেকে বাঁচান। সে যাত্রায় মেসিকে হ্যাটট্রিক করতে না দিলেও, ৭৬ মিনিটে ঠিকই আদায় করে নিলেন মেসি। ডি বক্সের কাছাকাছি থেকে আরেকটি দুর্দান্ত শটে।
 

বিশ্বকাপে যেন পাগলা ঘোড়া হয়ে ওঠেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে যেন পাগলা ঘোড়া হয়ে ওঠেন এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি : রয়টার্স

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক কিংবদন্তি আছেন, যারা ক্লাব ফুটবলে রাজত্ব করলেও জাতীয় দলের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই সাফল্য পাননি। লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো দুই মহাতারকার ক্ষেত্রেও ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ছিল একই গল্প।

মেসি ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮—প্রথম চার বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারেননি। ২০১৪ সালে তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। অন্যদিকে রোনালদো ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—কোনো বিশ্বকাপেই পর্তুগালকে ফাইনালে তো দূরের কথা, সেমিফাইনালের পরও নিতে পারেননি। অথচ এই সময় দুজনই ক্লাব ফুটবলে বিশ্বকে শাসন করছিলেন, জিতছিলেন ব্যালন ডি'অর, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও অসংখ্য শিরোপা।

সেখানেই ব্যতিক্রম কিলিয়ান এমবাপ্পে। ক্লাব ফুটবলে যেমন দুর্দান্ত, জাতীয় দলের জার্সিতেও ঠিক ততটাই ভয়ংকর তিনি। বিশ্বকাপ এলেই যেন আরো এক ধাপ এগিয়ে যান ফরাসি এই তারকা।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে চার গোল করে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন এমবাপ্পে। ফাইনালেও গোল করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তো একাই ইতিহাস লিখেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে করেন ৮ গোল, জেতেন গোল্ডেন বুট। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে করেন অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও শুরুটা করেছেন দারুণভাবে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি শুধু ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডই স্পর্শ করেননি, বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়।

মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই এমবাপ্পের গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে কিংবদন্তিদের কাতারে। যেখানে মেসি ও রোনালদোকে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দেখাতে অপেক্ষা করতে হয়েছে বহু বছর, সেখানে এমবাপ্পে শুরু থেকেই হয়ে উঠেছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকা।

তাই অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই মঞ্চেই সমান আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্মে এমবাপ্পের তুলনা খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশ্বকাপের আলো জ্বললেই যেন তিনি আরো দ্রুতগতির, আরো ক্ষুধার্ত এক ফুটবলার হয়ে ওঠেন। আর সে কারণেই বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপ আসলেই যেন পাগলা ঘোড়া হয়ে যান এমবাপ্পে।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এবার এমবাপ্পেকে ছুঁলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এবার এমবাপ্পেকে ছুঁলেন মেসি
এবারের বিশ্বকাপে প্রথম গোলের পর মেসি। ছবি : রয়টার্স

লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলতে ৪ ঘণ্টাও কীর্তিটা উপভোগ করতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই যে তার কীর্তি স্পর্শ করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় মেসিকে পেছনে ফেলেন এমবাপ্পে। তবে মেসি খেলতে নেমেই ১৪ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন।  দুজনের সঙ্গে সমান ১৪ গোল নিয়ে যৌথভাবে তিনে আছেন জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার। তাদের ওপরে আছেন রোনালদো ফেনোমেনন (১৫) ও মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬)।

এবারের বিশ্বকাপে মেসির প্রথম গোল পাওয়ার শুরুটা হয়েছিল
নাটকীয়তায়। গোল পেল আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া দু দলই। তবে দুদলের কারোই উদযাপন পূর্ণতা পেল না। পাবে কি করে? অফসাইডের কারণে যে দুটি গোলই বাতিল হয়েছে।

লিওনেল মেসির বিপরীতে তাই আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ফারেস চাইবির আনন্দটাও মাটি। তবে ১৭ মিনিটে ঠিকই পাখির মতো ডানা মেলে উড়ার আনন্দটা পেলেন মেসি। ডি বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান চেষ্টা করলেও প্রতিহত করতে পারেনি বলটিতে পাওয়ার বেশি থাকায়।

এর আগে কানসাস সিটিতে মাঠে নেমেই আরেক কীর্তি গড়েছেন মেসি। ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন। তার আগে এই কীর্তি গড়েন পর্তুগাল কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কুয়েতের সাবেক ফরোয়ার্ড বাদের আল–মুতওয়া। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনিই যে প্রথম সেটা আর না বললেও চলে।

এমন মাইলফলক গড়ার ম্যাচে ষষ্ঠ মিনিটে জালের দেখা পেয়েছিলেন মেসি। তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় আর্জেন্টিনার অধিনায়কের গোলটি। ৮ মিনিটে গোলের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। এবার অফসাইডের কারণে বাতিল হয় চাইবির গোলটিও।

বিরতিতে যাওয়ার ৫ মিনিট আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আলজেরিয়া। চাইবি শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। পরে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।