• ই-পেপার

রক্ষণভাগে নিজের ঘাটতি পূরণে মরিয়া ফরাসি অধিনায়ক

স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৪৯ লাখ

অনলাইন ডেস্ক
স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৪৯ লাখ

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ম্যাচ, বয়স ৪০। তবু অভিজ্ঞতার ঝুলি আর দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক জোসিমার দিয়াস, যিনি ফুটবল দুনিয়ায় পরিচিত ‘ভোজিনহা’ নামে।

ম্যাচজুড়ে স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। কখনও মিকেল ওইয়ারসাবাল, কখনও ফেরান তোরেস, আবার কখনও আইমেরিক লাপোর্তে। তাদের সবাইকে হতাশ করেছেন তিনি। তবে স্পেনের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল সব কিছুর ওপরে। ম্যাচে সাতটি সেভ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচও হন তিনি।

ম্যাচে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন ব্রাজিলের জনপ্রিয় স্পোর্টস স্ট্রিমার ক্যাসিমিরো মিগেল। কেপ ভার্দের এই গোলকিপারের বীরত্ব দেখে মুগ্ধ হয়ে ক্যাসিমিরো তার লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দর্শকদের অনুরোধ করেন ভোজিনহার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ফলো করার জন্য। তখন মাত্র ৫০ হাজার ফলোয়ার ছিলেন তার অ্যাকাউন্টে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে যোগ হয় ৩ লাখেরও বেশি নতুন ফলোয়ার। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর সেই স্রোত রূপ নেয় সুনামিতে। রাতারাতি তা ১১ লাখ পার করে বর্তমানে ৪৯ লাখে গিয়ে পৌঁছেছে। কেপ ভার্দের মতো একটি ছোট ফুটবল খেলুড়ে দেশের খেলোয়াড়ের জন্য যা স্রেফ অবিশ্বাস্য।

৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের আসল নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। তবে ফুটবল বিশ্বে তিনি ‘ভোজিনহা’ নামেই সমধিক পরিচিত। এই ডাকনামের পেছনে জড়িয়ে আছে তার শৈশবের এক মিষ্টি গল্প। সাও ভিসেন্তে দ্বীপে নিজের দাদা-দাদির কাছে আদরে বড় হয়েছিলেন তিনি। পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনহা’ শব্দের অর্থ দাদা-দাদির আদরের নাতি। সেই আদরের নাতিই এখন পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের দল চাভেসের গোলপোস্ট সামলান। এর আগে গিল ভিসেন্তে ও এএল লিমাসোলের হয়েও খেলেছেন তিনি।

আর্জেন্টিনার ম্যাচ যেভাবে মোবাইলে দেখা যাবে

অনলাইন ডেস্ক
আর্জেন্টিনার ম্যাচ যেভাবে মোবাইলে দেখা যাবে

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচটি বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে। এই ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হলো আলজেরিয়া।

উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। প্রিয় দলের এই ম্যাচ ঘরে বসেই টিভিতে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার ম্যাচ।

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কানসাস সিটি যেন ‘মিনি আর্জেন্টিনা’

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কানসাস সিটি যেন ‘মিনি আর্জেন্টিনা’
সংগৃহীত ছবি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আর মাত্র একদিন বাকি, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস শহর যেন পরিণত হয়েছে ছোট্ট এক আর্জেন্টিনায়। নীল-সাদা জার্সি, ঢাক-ঢোল, পতাকা আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো শহর।

সাধারণত শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত কানসাসে রোববার থেকেই জমতে শুরু করেছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভিড়। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল, আর সেই স্বপ্নকে ঘিরেই উন্মাদনায় মেতেছেন সমর্থকেরা।

শহরের একটি রেস্তোরাঁ এলাকাকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় বিশাল সমর্থক সমাবেশ। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় এক বিয়ার ব্র্যান্ডের উদ্যোগে হওয়া এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আর্জেন্টাইনরা। পাশাপাশি কয়েক দিন আগে আর্জেন্টিনা থেকে বিশ্বকাপ দেখতে আসা সমর্থকেরাও সেখানে অংশ নেন।

শুধু আর্জেন্টাইনরাই নন, অন্য দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও উপস্থিত ছিলেন ওই জমায়েতে। মূল আকর্ষণ ছিলেন লিওনেল মেসি এবং প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার স্মৃতি।

সমাবেশস্থলের কাছেই থাকা সোল মন্টেসরি স্কুলের বেড়াজুড়ে দেখা যায় আর্জেন্টিনার পতাকা, তিনটি তারকাখচিত ব্যানার, বিভিন্ন ক্লাবের প্রতীক, দেশের শহরগুলোর নাম এবং মেসি-ম্যারাডোনার ছবি।

বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘তুলা’র বিখ্যাত ড্রাম। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারে বিশ্বের সেরা সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তুলা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তবে তার পরিবারের অনুরোধে সেই ঐতিহাসিক ড্রাম এবারও বিশ্বকাপে আনা হয়েছে।

ড্রামটি বহনকারী গিয়ের্মো টিওয়াইসি স্পোর্টসকে বলেন, “১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে এই ড্রাম গেছে। এবারও আমরা বাজাচ্ছি। এটা সব সমর্থককে একত্রিত করছে।”

আগামী মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে আরও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক কানসাসে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামও নীল-সাদা সমর্থকে ভরে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের মাঠে আর্জেন্টিনার লড়াই এখনও শুরু হয়নি, কিন্তু তাদের সমর্থকেরা ইতোমধ্যেই কানসাসে ফুটিয়ে তুলেছেন বিশ্বকাপের উন্মাদনা ও আবেগ।

দুইবার পিছিয়ে পড়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের রোমাঞ্চকর ড্র

ক্রীড়া ডেস্ক
দুইবার পিছিয়ে পড়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের রোমাঞ্চকর ড্র
ছবি : রয়টার্স

লস অ্যাঞ্জেলেসে যেন ফুটবল রোমাঞ্চের সবটুকু রঙ ছড়িয়ে পড়ল। বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইরান ও নিউজিল্যান্ড। মাঠের লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিল না। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ করেছে ইরান। হার না মানা মানসিকতা দেখিয়ে মূল্যবান একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এশিয়ান পরাশক্তিরা। অন্যদিকে জয়ের সুবাস পেয়েও ড্রয়ের হতাশায় পুড়তে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।

ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মেতে ওঠে দুই দল। তবে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ইরানকে স্তব্ধ করে দেয় নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক ক্রিস উডের চোখধাঁধানো পাস থেকে দারুণ এক গোল করে কিউইদের স্তুতি এনে দেন এলিজা জাস্ট।

গোল খেয়ে যেন আরো তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করে ইরান। ২৩ মিনিটে মেহদি তারেমির একটি বুলেট গতির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি দলটি। ৩২ মিনিটে বক্সের ভেতরের জটলা থেকে সুযোগের সদব্যবহার করেন রামিন রেজাইয়ান। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ইরানকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি।

১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও লিড নেয় নিউজিল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ক্রিস উডের সহায়তায় নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন সেই এলিজা জাস্ট। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ইরান।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এবার গোলদাতার ভূমিকায় নয়, সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন প্রথম গোলের নায়ক রামিন রেজাইয়ান। তার বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত ক্রস থেকে দর্শনীয় এক হেডে নিউজিল্যান্ডের জাল কাঁপান মোহাম্মদ মোহেবি। প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোলটিতেও অবদান রেখে ম্যাচের নায়ক বনে যান রেজাইয়ান।

ম্যাচের বাকি সময়ে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় দুই দলই। ডিফেন্সের দৃঢ়তা আর ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় জালের দেখা পায়নি আর কেউ। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের অমীমাংসিত সমতায় শেষ হয় মাঠের তুমুল উপভোগ্য লড়াইটি। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘জি’-তে গুরুত্বপূর্ণ ১ পয়েন্ট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান ও নিউজিল্যান্ড।