২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে আবারও ভারতের শীর্ষ লিগের মুকুট উঠল ইস্ট বেঙ্গলের মাথায়। কলকাতার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ইন্টার কাশিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে লাল-হলুদ শিবির।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) ২০২৬-এর শেষ ম্যাচে জিতলেই শিরোপা নিশ্চিত ছিল ইস্ট বেঙ্গলের। তবে শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের ১৫ মিনিটে আলফ্রেড প্লানাসের গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির হাজারো সমর্থক।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন নতুন রূপে মাঠে নামে বসুন্ধরা কিংসের সাবেক কোচ অস্কার ব্রুজোনের দল। গোল্ডেন বুটজয়ী ইউসুফ এজ্জেজ্জারি এবং মোহাম্মদ রশিদের গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়ে বহু প্রতীক্ষিত শিরোপা জিতে নেয় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
২০০৪ সালে ন্যাশনাল ফুটবল লিগ জয়ের পর এই প্রথম আবার ভারতের শীর্ষ লিগের ট্রফি জিতল ইস্ট বেঙ্গল। দীর্ঘ দুই দশকের হতাশা, ব্যর্থতা আর অপেক্ষার অবসান ঘটল এক রোমাঞ্চকর রাতে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইস্ট বেঙ্গল। ইউসুফ এজ্জেজ্জারির দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। মিগেল ফেরেইরার দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিকও গোললাইন থেকে ঠেকিয়ে দেন ইন্টার কাশির ডিফেন্ডার নরেন্দর গাহলট।
এরপরই আসে ধাক্কা। নিজেদের অর্ধ থেকে ডেভিড মুনিয়োজের নিখুঁত লং বল ধরে প্রথম স্পর্শেই গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন আলফ্রেড প্লানাস। পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় ইস্ট বেঙ্গল।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি লাল-হলুদরা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়েই বিরতিতে যায় তারা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০ মিনিটে আনোয়ার আলির দারুণ থ্রু পাস পেয়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান এজ্জেজ্জারি। সমতায় ফিরতেই নতুন উদ্যমে খেলতে শুরু করে ইস্ট বেঙ্গল।
ক্রমেই বাড়তে থাকে চাপ। অবশেষে ৭৩ মিনিটে আসে শিরোপা নিশ্চিত করা গোল। বিপিন সিংয়ের বাড়ানো ক্রসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোহাম্মদ রশিদ।
শেষ কয়েক মিনিটে ইন্টার কাশি সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও দৃঢ় রক্ষণে সব আক্রমণ সামলে নেয় ইস্ট বেঙ্গল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।
এবারের আইএসএলে ছিল না কোনো প্লে-অফ বা ফাইনাল। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দলকেই ঘোষণা করা হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। আর সেই দৌড়ে শেষ দিনে মোহনবাগান, পাঞ্জাব এফসি, মুম্বাই সিটি এফসি ও জামশেদপুর এফসিকে পেছনে ফেলে সেরা হয়েছে ইস্ট বেঙ্গল।
সমান পয়েন্ট পেয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে মোহনবাগান। শেষ ম্যাচে এসসি দিল্লিকে ২-১ গোলে হারালেও পাঁচ গোলের ব্যবধান পুষিয়ে উঠতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে মুম্বাই সিটি এফসি ২-০ গোলে পাঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। জামশেদপুর এফসি শিরোপার ক্ষীণ আশা নিয়ে মাঠে নামলেও ওডিশা এফসির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ছিটকে যায় লড়াই থেকে।