• ই-পেপার

ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত

ওয়াশিংটন সংলাপে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল ৪৫ দিন

ব্যাঙ্ককে গণপরিবহনে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ৮

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাঙ্ককে গণপরিবহনে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ৮
সংগৃহীত ছবি

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে একটি রেল ক্রসিংয়ে একটি গণপরিবহনে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় আটজন নিহত হয়েছে। ২০ জনেরও বেশি আহত। শহরের জরুরি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র, ইরাওয়ান মেডিকেল সেন্টার হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী,  শহরের কেন্দ্রস্থলে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দুর্ঘটনার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে। যেখানে দেখা যায়, ট্রেনটি কমলা রঙের যাত্রীবাহী গণপরিবহনটিকে ধাক্কা দেওয়ার সময় ক্রসিংয়ে থেমে ছিল। ট্রেনের ধাক্কায় গণপরিবহনটিসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গাড়ি রেললাইন বরাবর ছিটকে যায়। এরপরই পরিবহনটিতে আগুন ধরে যায়। ধাক্কায় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আরোহীরাও সড়কে ছিটকে পড়ে।

পরবর্তী ভিডিওতে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা আগুন নিভিয়ে ফেলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা বাসটির পোড়া ধ্বংসাবশেষের ভেতরে প্রবেশ করছেন।

তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপ-পরিবহন মন্ত্রী সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত। এসময় সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের সবাইকে বাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন, কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন?

অনলাইন ডেস্ক
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন, কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন?

তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের মন্ত্রিসভায় ১০ জন মন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেছেন। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিজের অধীনে রেখেছেন। এই বরাদ্দের মাধ্যমে নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হলো। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখাও দেওয়া হয়।

দপ্তর বণ্টন তালিকা অনুযায়ী, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র,পুলিশ, সাধারণ প্রশাসন, ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা, ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা, ভারতীয় বন পরিষেবা, জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা, বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নারী কল্যাণ, যুব কল্যাণ, শিশু, বয়স্ক ও ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কল্যাণ, পৌর প্রশাসন এবং নগর ও পানি সরবরাহ নিজের কাছে রেখেছেন বিজয়।

তামিলনাড়ু লোক ভবন থেকে জারি করা বিবৃতি অনুযায়ী, প্রবীণ নেতা এ সেনগোট্টাইয়ানকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন ও জলসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এন আনন্দকে।

এ ছাড়া গণপূর্ত ও ক্রীড়া উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আধব অর্জুন। অন্যদিকে ড. কে জি অরুণরাজকে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পি ভেঙ্কটরামাননকে। আর নির্মল কুমারকে জ্বালানি সম্পদ ও আইন মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

স্কুল শিক্ষা, তামিল উন্নয়ন এবং তথ্য ও প্রচারের দায়িত্বে থাকবেন রাজমোহন। ড. টি কে প্রভুকে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সেলভি এস কীর্তনা পেয়েছেন শিল্প বিভাগের দায়িত্ব।

এদিকে তামিলনাড়ু  ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া সি জোসেফ বিজয় রাজ্যের ত্রয়োদশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে)-এর কয়েক দশকের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটে।

হরমুজ প্রণালি

বিকল্প পথে দ্বিগুণ তেল রপ্তানি করতে যাচ্ছে আমিরাত

অনলাইন ডেস্ক
বিকল্প পথে দ্বিগুণ তেল রপ্তানি করতে যাচ্ছে আমিরাত
সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ২০২৭ সালে চালু হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এ পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটি বিকল্প পথে তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে।

মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে ইউএই প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং নিজস্ব চলাচল ব্যবস্থা চালুর পর দেশটির রপ্তানি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কম্পানি (অ্যাডনক) জানায়, ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে যাওয়া পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অ্যাডনকের তথ্যমতে, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ এক বৈঠকে প্রকল্পটির ঘোষণা দেন। 

কম্পানিটি জানায়, পাইপলাইনটির নির্মাণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

বর্তমানে ইউএইর হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহন সক্ষমতা ১৮ লাখ ব্যারেল। নতুন পাইপলাইন চালু হলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে দেশটির তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে। 

নতুন পাইপলাইন নির্মাণ শেষ হলে ইউএই কার্যত যুদ্ধ-পূর্ব প্রায় পুরো রপ্তানি সক্ষমতাই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার ছাড়াই বজায় রাখতে পারবে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে দেশটি।

যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতে বাধা দিলেও নিজেদের তেল পরিবহন চালু রাখে। পরে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করলে দেশটির তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

এ মাসেই সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জ্বালানি জোট ওপেক থেকে ঐতিহাসিকভাবে বেরিয়ে আসে ইউএই। 

আবুধাবি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের ঘোষিত উৎপাদন ও রপ্তানি লক্ষ্য পূরণে স্বাধীনতা দেবে।

তেল উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে ইউএইর মতবিরোধ চলছিল। সৌদি আরব দাম ধরে রাখতে উৎপাদন সীমিত রাখতে চাইলেও ইউএই বেশি উৎপাদনের পক্ষে ছিল। এ কারণে দেশটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে।

তবে ইরানের নিকটবর্তী হওয়ায় ইউএইর পাইপলাইন অবকাঠামো এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ড্রোন হামলায় হাবশানের কাছে একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ফুজাইরাহ বন্দরেও হামলা হওয়ায় সেখানে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে পাইপলাইন সক্ষমতা বাড়াতে শুধু ইউএই নয়, সৌদি আরবও কাজ করছে। দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বর্তমানে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির সুযোগ দিচ্ছে।

চীনা উপহার ফেলে দিল মার্কিন প্রতিনিধিদল—কী বলছে ফ্যাক্ট চেক?

অনলাইন ডেস্ক
চীনা উপহার ফেলে দিল মার্কিন প্রতিনিধিদল—কী বলছে ফ্যাক্ট চেক?
সংগৃহীত ছবি

চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী মার্কিন প্রতিনিধিদলকে বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন স্মারক উপহার দিয়েছিল চীন। তবে সেসবের কিছুই নেয়নি তারা, বরং বিমানে ওঠার আগে সব উপহার ফেলে গেছে ময়লার ঝুড়িতে—এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পাওয়া তথ্য বলছে, ঘটনাটি আংশিক সত্য, ব্যাখ্যা কিংবা অনির্ভরযোগ্য প্রচারের মিশ্রণ হতে পারে।

ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ‘চীন থেকে কিছুই বিমানে তোলা হয়নি।’ এ ছাড়া ‘মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমানে ওঠার আগেই ময়লার ঝুড়িতে উপহার সামগ্রী ফেলে দেন।’ কিছু পোস্টে এমনও বলা হয়ছে যে, ‘সাংবাদিকরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন।’

মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট ও হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের কথিত মন্তব্যকে উল্লেখ করা হচ্ছে। কারণ বহুল ব্যবহৃত একটি বক্তব্যে সাংবাদিক এমিলি গুডিনকে বলতে দেখা যায়, ‘চীন থেকে কিছুই বিমানে নেওয়ার অনুমতি ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের।’

তবে এটি কোনো সরকারি বিবৃতি বা যাচাইকৃত প্রতিলিপি নয়; বরং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি স্বতন্ত্র মন্তব্য।

এ পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভাইরাল দাবির মতো ‘সমন্বিতভাবে সব কিছু ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়ার’ ঘটনার নিশ্চিত কোনো প্রমাণ মেলেনি। বরং ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কূটনৈতিক সফরে ব্যবহৃত কিছু অস্থায়ী সামগ্রী (প্রবেশপত্র, ব্যাজ বা প্রটোকলসংক্রান্ত উপকরণ) ফেরত দেওয়া বা বাতিল করা হয়ে থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানদের বিদেশ সফরে কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় অস্থায়ী যোগাযোগ ডিভাইস, সীমিত ব্যবহারের ইলেকট্রনিক যন্ত্র বা বিশেষ পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়। যাতে নজরদারি বা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমানো যায়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশ সফরে সরকারি প্রতিনিধিদল নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী বা নিয়ন্ত্রিত ডিভাইস ব্যবহার করে থাকে। তবে সেখান থেকে ‘সব চীনা সামগ্রী প্রকাশ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে’—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা চীনা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে ভাইরাল দাবিটি যাচাইবিহীনই রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক কনটেন্টে প্রায়ই আংশিক তথ্যের সঙ্গে মনগড়া অতিরঞ্জন ব্যাখ্যা যুক্ত হয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য গল্প তৈরি হয়। ট্রাম্পের চীন সফর ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাও তেমন একটি উদাহরণ হতে পারে।