• ই-পেপার

তারেক রহমান কখনো প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দেননি : পানিসম্পদমন্ত্রী

শরীয়তপুরে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধর, গ্রেপ্তার ৬

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধর, গ্রেপ্তার ৬
ছবি: কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা, ভাঙচুর ও দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এর আগে শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকরাম এলাহি বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২) ও জায়েদা বেগম (৬০)। বাকি একজনের নাম জানা যায়নি। 

এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) নামের এক ব্যক্তি বুকে ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান। হামলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম এবং কর্তব্যরত চার আনসার সদস্য—সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার আহত হন।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারতে মারতে জরুরি বিভাগের কক্ষ থেকে বের করে আনছেন। এ সময় পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলায় গুরুতর আহত ডা. মো. নাসির ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আজ দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই স্বজনরা জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম কালের কন্ঠকে বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাগেরহাটে ঢালাই গাড়ি উল্টে শ্রমিক নিহত

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটে ঢালাই গাড়ি উল্টে শ্রমিক নিহত
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ঢালাই গাড়ি (নসিমন) উল্টে মো. ইসমাইল মোল্লা নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৬ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মধুমতী নদীর ফেরিঘাটসংলগ্ন মাদরাসা এলাকায় ঢাকা-খুলনা পুরাতন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. ইসমাইল মোল্লা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের তালুকের মাঠসংলগ্ন এলাকার আ. সবুর মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মাণকাজ শেষে কয়েকজন শ্রমিক ঢালাই গাড়িতে করে বাড়ির জন্য রওনা দেন। গাড়িটি সড়কে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই একটি চাকা খুলে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় অন্য শ্রমিকরা লাফিয়ে পড়ে বা সামান্য আহত হয়ে রক্ষা পেলেও ইসমাইল মোল্লা গাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে বড়ঘাট কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

‘যারা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিদ্রুপ করতেন, তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য কার্ড চাচ্ছেন’

মংমনসিংহ প্রতিনিধি
‘যারা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিদ্রুপ করতেন, তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য কার্ড চাচ্ছেন’
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘যারা কার্ড নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চাচ্ছেন। বর্তমান সরকার সব এলাকাতেই পর্যায়ক্রমে এই কার্ড দিবে। ফ্যামিলি কার্ড একজন নারীর জন্য চালিকাশক্তি হবে। বাড়াবে মনশক্তি। এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটা পথ তৈরি হয়েছে।’

শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে দেশের ২০টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন। সেই অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ সময় তিনি উপস্থিত কার্ডধারীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল আমরা প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড দেব। তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৭৩০ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা শুরু হয়েছে। নারীদের আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না। এই টাকা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো কাজ করতে পারবেন।’

এ সময় মন্ত্রী উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই টাকা থেকে আপনারা সঞ্চয় করবেন। আগে যেভাবে চলতেন, এখন মনে করবেন এটা বাড়তি একটা আয়। এই আয় দিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করবেন। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দরিদ্র মানুষদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া। আজ সেই সেই কাজটি করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

নান্দাইলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলার চরভেলামারী গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাজু আহমেদ, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ।

আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

যশোরের মনিরামপুরে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলমগীর হোসেন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খোঁজালিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) নিহত আলমগীর গয়েশপুর নিমতলা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোঁজালিপুর গ্রামে মতিয়ার রহমানের নারকেল গাছের ডগায় বসে কাচা বাঁশের লাঠি দিয়ে আম পাড়ছিলেন আলমগীর হোসেন। তখন অসাবধানতাবশত বাঁশের লাঠি পাশের বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লাগলে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আলমগীরের। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াস হোসেন বলেন, আলমগীরের শরীর ওখানেই আটকে ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। পরে তারা এসে দড়ি বেঁধে মরদেহটি নিচে নামিয়ে আনে।

নিহত আলমগীরের স্বজন যুক্তি খাতুন বলেন, আলমগীর আমার ভাসুর। তার এক ছেলে এক মেয়ে। তিনি আম পাড়ার কাজ করেন। আজ সকাল ৭টায় আম পাড় বাড়ি থেকে আসেন। পরে সকাল ১১টার দিকে শুনি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আমার ভাসুর মারা গেছেন।

মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা মো. মাসুম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত এসে লাশ উদ্ধার করেছি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহতের দেহের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।