• ই-পেপার

কারস্টেনের অভিযোগের জবাবে যা বললেন নাকভি

বার্সেলোনায় যাওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, বিদায়বেলায় গ্রিয়েজমান

ক্রীড়া ডেস্ক
বার্সেলোনায় যাওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, বিদায়বেলায় গ্রিয়েজমান
অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্কের ইতি টানতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেই সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনের অন্যতম বড় ভুলের কথা স্বীকার করলেন এই ফরাসি তারকা।

রোববার জিরোনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে অ্যাতলেতিকোর জার্সিতে শেষবার মাঠে নামেন গ্রিয়েজমান। ম্যাচে জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্টও করেন তিনি। এরপর মেট্রোপলিতানোতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ি বক্তব্যে ২০১৯ সালে বার্সোলানায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য আবারও ক্ষমা চান।

গ্রিজমান বলেন, ‘অনেকেই আমাকে ক্ষমা করেছেন, কেউ কেউ হয়তো এখনো করেননি। কিন্তু আমি আবারও ক্ষমা চাইছি। তখন আমি খুবই তরুণ ছিলাম। বুঝতে পারিনি এই ক্লাব আমাকে কতটা ভালোবাসে। বার্সেলোনায় যাওয়া ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। পরে আমি সেটা বুঝেছি এবং ফিরে আসার জন্য সবকিছু করেছি, যাতে এই ক্লাবের জার্সিতে আবার খেলতে পারি।’

বিদায়ি বক্তব্যে কোচ দিয়েগো সিমিওনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গ্রিয়েজমান। গ্রিয়েজমান বলেন, ‘এই ক্লাবকে বদলে দিয়েছেন সিমিওনে। তার কারণেই আমি বিশ্বকাপ জিতেছি এবং নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন মনে করেছি।’

এছাড়া অ্যাতলেতিকো অধিনায়ক কোকে, নিজের স্ত্রী ও পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আতলেতিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্লাব ছাড়ছেন গ্রিজমান। এবার তার গন্তব্য অরলান্ডো সিটি। তবে বিদায়ের দিনে সমর্থকদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার।

বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে ব্রাজিলে নেইমার ঝড়

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে ব্রাজিলে নেইমার ঝড়
নেইমার জুনিয়র। ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আজ সোমবার চূড়ান্ত দল ঘোষণা করতে পারেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডের বেশিরভাগ জায়গা প্রায় নিশ্চিত হলেও একটি নাম ঘিরে এখনো চলছে তুমুল আলোচনা—নেইমার।

একসময় মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ চোটের কারণে বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া কঠিন হবে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে পুরো চিত্র। ব্রাজিলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এখন বলছে, নেইমারের দলে ফেরার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে।

ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ইউওএল জানিয়েছে, সান্তোস ইতিমধ্যেই ধরে নিয়েছে যে নেইমার সোমবার ঘোষিত দলে থাকবেন।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও আনচেলত্তি নেইমারের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, চোট কাটিয়ে নিয়মিত খেলছেন নেইমার এবং ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন।

এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার বিষয় নয়, বরং আনচেলত্তি এখন ভাবছেন, নেইমার কি এখনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন?

এর মধ্যে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে তরুণ তারকা এস্তেভাওর ইনজুরি। হ্যামস্ট্রিং চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে তার। আনচেলত্তির অধীনে দ্রুতই আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছিলেন এস্তেভাও। তার অনুপস্থিতি ব্রাজিল দলে নতুন জায়গা তৈরি করেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর এসিএল ইনজুরির পর আর জাতীয় দলে খেলেননি নেইমার। প্রায় তিন বছর পর এখন আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

মেসি-রোনালদোর গোল সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক!

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি-রোনালদোর গোল সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক!

ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখন এগিয়ে চলেছেন ১০০০ অফিশিয়াল গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে। তবে দুই মহাতারকার গোলের হিসাব নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক!

বর্তমানে অফিশিয়াল গোলের তালিকায় ৯৭২ গোল নিয়ে এগিয়ে আছেন রোনালদো। আর মেসির গোল সংখ্যা ৯০৯। কিন্তু দুজনেরই একটি করে গোল নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে ফুটবল মহলে।

মেসির বিতর্কিত গোলটি আসে মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামি ও সিনসিনাটির মধ্যকার ম্যাচে। ম্যাচের পর শুরুতে সেটিকে মেসির হ্যাটট্রিক হয়েছে বলে ধরা হলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলায় কর্তৃপক্ষ।

রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রোমান সেলেন্তানোর গায়ে লেগে জালে ঢোকে। তাই গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে মেসির অফিশিয়াল গোলসংখ্যা বাড়েনি।

অন্যদিকে রোনালদোর বিতর্কিত গোলটি ২০১০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদ ম্যাচে। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া রোনালদোর শট সামান্য ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে ঢোকে।

কিছু পরিসংখ্যান সংস্থা গোলটি রোনালদোর নামে দিলেও, অন্যরা দাবি করেন বলটি পেপের স্পর্শে দিক বদলেছিল। ফলে সেটি কার গোল, তা নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি।

সব বিতর্কের পরও ইতিহাসের অনন্য এক মাইলফলকের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলের দুই মহাতারকা। সামনে রয়েছে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপও, যা নতুন এক ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা হবে কি? মুখ খুললেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা হবে কি? মুখ খুললেন নেইমার
নেইমার জুনিয়র। ছবি : রয়টার্স

নেইমার নিজের ২০২৬ বিশ্বকাপ ভাগ্য ছেড়ে দিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের ওপর। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার জানিয়েছেন, দলে জায়গা পাওয়ার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন কোচই।

গতরাতে করিতিবোর বিপক্ষে ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আনচেলত্তি সিদ্ধান্ত নেবেন আমি সেখানে থাকার যোগ্য কি না। আমি এটার জন্য কাজ করেছি। যদি নির্বাচিত না হই, তাহলে আমি আর দশজন সমর্থকের মতো ব্রাজিলকে সমর্থন করব।’

 

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের প্রাথমিক ৫৫ সদস্যের দল থেকে চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য আসরটিই হতে পারে নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ।

২০২৩ সালের গুরুতর হাঁটুর চোটের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। তবে সম্প্রতি শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন তিনি। তবু তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

এদিকে আনচেলত্তি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের সাফল্য নয়, বর্তমান পারফরম্যান্স ও শারীরিক সক্ষমতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফলে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

নেইমারকে দলে দেখতে চান এমন সমর্থক ও সাবেক সতীর্থের সংখ্যা কম নয়। তবে অনেকেই মনে করছেন, এখন সময় তরুণদের হাতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ তুলে দেওয়ার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রোদ্রিগো ও এনদ্রিকদের উত্থানে সেই আলোচনা আরো জোরালো হয়েছে।

এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার দিকে। কারণ সেটিই বলে দেবে, বিশ্বকাপে নেইমারের ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’ দেখা যাবে কি না।