• ই-পেপার

নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইলেন ভিনিসিয়ুস

সূর্যবংশীর ব্যাটিং তাণ্ডবের রহস্য তাহলে এই

ক্রীড়া ডেস্ক
সূর্যবংশীর ব্যাটিং তাণ্ডবের রহস্য তাহলে এই
ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। ছবি: এএফপি

বয়স মাত্র ১৫ বছর। এই বয়সেও বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট হাতে যা করছেন, তাতে ক্যারিয়ার শেষে আরো অনেক রেকর্ড নিশ্চয় নিজের করে নেবেন।

মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সিরিজেই ইতিহাস গড়েছেন সূর্যবংশী। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কাল সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন ভারতের এই বিস্ময় বালক। হয়েছেন ম্যাচসেরা। তিন ম্যাচে দুটি ফিফটিতে ১৫১ রান করে জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কারও। 

১৫ বছর ১২১ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে সিরিজসেরা হওয়ার রেকর্ড গড়ার পর নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের রহস্য জানিয়েছেন সূর্যবংশী। তার ভাষায়, অনুশীলনে যা করেন, সেটা ম্যাচে বাস্তবায়ন করাই তার ভয়ডরহীন ক্রিকেটের রহস্য।

কাল ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সূর্যবংশী বলেছেন, ‘আমি যে শটগুলো খেলি, সেগুলোরই অনুশীলন করি। অনুশীলনে যা করি, সেটাই ম্যাচে করার চেষ্টা করি।’

সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ের বিশেষ দিক হচ্ছে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা। তবে সেটিও দলের প্রয়োজন থেকেই আসে বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে আমি যেভাবে খেলি, এখানেও (জাতীয় দলেও) একই ভাবে খেলার চেষ্টা করেছি। তিন ম্যাচেই দলের জন্য ভালো শুরু এনে দেওয়া আমার লক্ষ্য ছিল। শুরুটা ভালো হলে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেছি। এটাই ছিল আমার একমাত্র পরিকল্পনা।’

সূর্যবংশীর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে সেখানে তার ইনিংস তিনটি ছিল ১৪, ১৩ ও ১৫। এবার জিম্বাবুয়েতে গিয়ে ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার জেতাকে স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন সূর্যবংশী, ‘এটা সত্যিই স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথম ম্যাচসেরা ও প্রথম সিরিজসেরার পুরস্কার পেয়েছি। আমি খুবই খুশি।’

সূর্যবংশীতে মুগ্ধ তার সতীর্থ ঈশান কিষানও। ভারতের এই টপ অর্ডার ব্যাটার বলেছেন, ‘বৈভব খুবই তুখোড় একজন ছেলে। সে ভালোভাবেই জানে, কী করছে। আমরা তাকে বলি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বাইরের কথায় কান দেওয়ার দরকার নেই। শুধু ক্রিকেট নিয়ে ভাবো।’

ভারতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণের চোখে সূর্যবংশীর সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু রান করা নয়, কঠিন পিচে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করা, ‘আজ (গতকাল) আপনারা যে ইনিংসটি দেখেছেন, সেটি খুবই পরিণত একটি ইনিংস ছিল। পিচ ছিল ধীরগতির, বল থেমে আসছিল। জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওকে আটকানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে সে তাদের পরিকল্পনার দারুণ জবাব দিয়েছে।’

রুমালে ধোঁকা খেয়ে রিভিউ হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ক্রীড়া ডেস্ক
রুমালে ধোঁকা খেয়ে রিভিউ হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
বল শান মাসুদের রুমালে লেগেছিল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

শান মাসুদ এখন কতটা নির্ভার, সেটা তার ব্যাটিংই বলে দিচ্ছে। পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর প্রথমবার ব্যাটিংয়ে নেমেই ফিফটি করেছেন মাত্র ৪৬ বলে। 

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে মাসুদ অপরাজিত আছেন ৮৮ রানে। তার ব্যাটে ভর করেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার আশায় পাকিস্তান। 

বাংলাদেশ সময় কাল রাতে অবশ্য ৮৮ রান করার পথে দুইবার আউট হতে হতেও বেঁচে গেছেন মাসুদ। এর একটিতে তার ট্রাউজারের কোমরে গুঁজে রুমালে ধোঁকা খেয়ে রিভিউ হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। 

পাকিস্তান ইনিংসের ১৫তম ওভার চলছিল তখন। বোলিং জেডেন সিলস। মাসুদ তখন ৫৪ রানে অপরাজিত। 

সিলসের ওভারের পঞ্চম বলটা একটু লাফিয়ে উঠে স্টাম্পের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। মাসুদ তা খেলার চেষ্টা করলেও বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। বল সরাসরি চলে যায় উইকেটকিপার শাই হোপের গ্লাভসে।

‘ক্লিয়ার এজ’ ধরে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবাই ভেবেছিলেন, মাসুদ আউট হয়ে গেছেন। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। এতে রিভিউ নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট অধিনায়ক রোস্টন চেস। এরপর টিভি রিপ্লেতে স্নিকো মিটার যা দেখাল, তাতে সবাই অবাক। 

ব্যাটের কিনারাও নয়; এমনকি গ্লাভসেরও নয়, তবু স্নিকো মিটারে স্পষ্ট দাগ ভেসে উঠল। তা দেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল উল্লাস করতে লাগল। কিন্তু টিভি আম্পায়ার জয়ারমন মদনগোপাল ভালোভাবে চেক করে জানিয়ে দিলেন, স্নিকো মিটারের ওই দাগ আসলে শান মাসুদের কোমরে গুঁজে রাখা রুমালের। 

বল মাসুদের রুমালে লেগে উইকেটকিপারের গ্লাভসে গিয়েছিল। বেচারা জেডেন সিলস উইকেট না পাওয়ার পাশাপাশি দলের রিভিউ খোয়ানোয় রুমালকে দুষতেই পারেন!

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১১ রানে অলআউট হয়েছে। পাকিস্তান ৩ উইকেটে ১৯৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে। এখনো তারা ১১২ রানে পিছিয়ে।  

টেস্ট অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়া বাবর আজম দিনের পড়ন্ত বেলায় আউট (৩৮ বলে ২৩ রান) না হলে পাকিস্তান আরো সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে পারত। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টায় তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হবে। 

চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র অনুষ্ঠান কবে-কোথায়

ক্রীড়া ডেস্ক
চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র অনুষ্ঠান কবে-কোথায়
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শেষে আবারো ক্লাব ফুটবলের দিকে ঝুঁকছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ইউরোপের শীর্ষ ঘরোয়া লিগগুলোর নতুন মৌসুম শুরু হবে আগস্টে। তবে বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমীর আগ্রহের কেন্দ্রে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ।

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের বাছাই পর্ব এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বাছাইয়ের প্লে-অফ শেষে শুরু হবে মূল আকর্ষণ লিগ পর্ব। এরই মধ্যে লিগ পর্বের ড্রয়ের তারিখও ঘোষণা করেছে উয়েফা।

আগামী ২৭ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের নিয়নে অবস্থিত উয়েফার সদর দপ্তরে হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ড্র। সেদিন বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ড্র অনুষ্ঠান। সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস টেন ২

নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, এবারো ৩৬টি ক্লাব লিগ পর্বে অংশ নেবে। ড্রয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ক্লাব তাদের ৮ প্রতিপক্ষ পাবে। প্রতিটি ক্লাব খেলবে ৪টি হোম ও ৪টি অ্যাওয়ে ম্যাচ।

ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সের শীর্ষ ক্লাবগুলোর পাশাপাশি প্লে-অফ পেরিয়ে আসা দলগুলোও ড্রয়ে জায়গা পাবে। প্লে-অফ শেষ হওয়ার পরই ৩৬ দলের পূর্ণ তালিকা নিশ্চিত হবে।

লিগ পর্বের খেলা শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে; আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর শুরু হবে নকআউট পর্ব। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন। ফাইনালের ভেন্যু স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়াম।

‘আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি’—স্কালোনির আবেগঘন চিঠি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি’—স্কালোনির আবেগঘন চিঠি
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের সপ্তাহখানেক পর এক আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিজ শহর পুহাতো ছেড়ে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই আবেগী বার্তা দিয়েছেন। চিঠিতে ফাইনালে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপের পাশাপাশি ভক্ত-সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন স্কালোনি। 

বিশ্বকাপের পর পুহাতোয় ফিরে মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসার অনুভূতি জানাতে গিয়ে স্কালোনি ইন্সটাগ্রামে লিখেছেন, ‘সবার আগে শুধু এটুকু বলতে চাই, আপনাদের আরেকটি ট্রফি জয়ের আনন্দ দিতে পারলাম না। যদি সেটা পারতাম, হয়তো অন্তত কয়েক দিনের জন্য হলেও জীবনের সব কষ্ট ভুলে থাকতে পারতেন। আমাকে ক্ষমা করবেন। তবে আমি চাই, আপনারা আমার যোদ্ধাদের মনে রাখুন। আমি আমার স্ত্রীকে ফুটবলারদের কথা বলার সময় যোদ্ধা নামেই সম্বোধন করি।’

সমালোচকদের উদ্দেশ্যে স্কালোনি লিখেছেন, ‘যারা আমাদের চেনেই না, তাদের কঠিন সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে। শরীর যখন আর সাড়া দেয় না, তখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার সংকল্পই আমাদের কাছে আসল ট্রফি। আমার কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, এএফএর সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা নীরবে আমাদের জন্য কাজ করে গেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো এই কোচ আরো লিখেছেন, ‘গত এক সপ্তাহ ছিল নানা অনুভূতির মিশেল। এখন একটু শান্ত হয়ে কয়েকটি কথা লিখতে বসেছি। আপনারা জানেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতে আমি খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। তবু মনে হলো, আপনাদের কাছে আমার কথা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটাই হয়তো সবচেয়ে ভালো উপায়।’

স্কালোনি তার খোলা চিঠির শেষটা করেছেন এভাবে—‘যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, তার কাছে এক অমূল্য সম্পদ আছে।’

নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইলেন ভিনিসিয়ুস | কালের কণ্ঠ